৩:১৭ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

র‌্যানসমওয়্যার থেকে আপনি কি নিরাপদ?

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:২৩ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : ক্ষতিকর সফটওয়্যার র‌্যানসমওয়্যারে আক্রান্তদের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। 

চলতি বছর বিশ্বের বেশ কয়েকটি বড় ধরনের র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।   মে মাসে একযোগে বিশ্বের ১৫০টির বেশি দেশের তিন লাখের মতো কম্পিউটার সিস্টেম ওয়ানাক্রাই র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়।  বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো প্লাটফর্ম র‌্যানসমওয়্যার হামলা থেকে নিরাপদ নয়। 

ওয়ানাক্রাই র‌্যানসমওয়্যারের মাধ্যমে প্রথমে কোনো কম্পিউটারে সংরক্ষিত ডাটা লক করে দেয়া হয়।  পরে তথ্য ফিরে পেতে ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।  সাইবার অপরাধীদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ পরিশোধ করা হলেই কেবল আক্রান্ত ডিভাইসের ফাইল আনলক করে দেয়া হয়।  শুরুতে ওয়ানাক্রাই র‌্যানসমওয়্যারের আক্রমণের লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বহুজাতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।  ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাজুড়ে পরে একই ধরনের আক্রমণ চালানো হয়।  এ ক্ষেত্রে র‌্যানসমওয়্যারের হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়, যাকে বলা হচ্ছে পেট্যয়া। 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সফটওয়্যার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সফোসল্যাবস চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা গ্রাহকদের কম্পিউটার থেকে তথ্যসংগ্রহ করেছে। 

সফোসল্যাবসের নিরাপত্তা গবেষক ডোরকা পলোতায় জানান, র‌্যানসমওয়্যার সাধারণত উইন্ডোজ কম্পিউটারকে লক্ষ্য করে হামলা করে।  তবে চলতি বছর বিশ্বজুড়ে আমাদের গ্রাহকদের বিভিন্ন ডিভাইস ও অপারেটিং সিস্টেমে র‌্যানসমওয়্যারের ছদ্মবেশী হামলার হার বেড়ে গেছে।  চলতি বছরের মে মাসে একসাথে বিশ্বের প্রায় তিন লাখ কম্পিউটার সিস্টেম ওয়ানাক্রাই র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে।  পেট্যয়া হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, কারণ এ সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে অনেক ভুল ও ফাঁকফোকর ছিল।  ২০১৬ সালে প্রথম ওয়ানাক্রাই র‌্যানসমওয়্যারের সন্ধান পাওয়া যায়। 

সফোসের তথ্যমতে, বিশ্বের সব র‌্যানসমওয়্যার হামলার মধ্যে ওয়ানাক্রাই ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ ও সিরবার ৪৪ দশমিক ২ শতাংশ দায়ী।  পলোতায় জানিয়েছেন, র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমবারের মতো কীটসদৃশ বৈশিষ্ট্য দেখেছি, যা ওয়ানাক্রাই সাইবার আক্রমণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।  এটি উইন্ডোজের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে এবং দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে।  ফলে এ র‌্যানসমওয়্যারের বিস্তার রোধ করা কঠিন।  এর পরও আমরা গ্রাহকদের রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি।  ওয়ানাক্রাই র‌্যানসমওয়্যারের আক্রমণ এখন বন্ধ হয়ে গেছে।  তবে র‌্যানসমওয়্যারটির হুমকি এখনো রয়ে গেছে, কারণ এটির সহজাত প্রকৃতি হচ্ছে স্ক্যানিং ও কম্পিউটারকে আক্রমণ করা। 

সাইবার অপরাধীরা এখন অ্যান্ড্রয়েড র‌্যানসমওয়্যারের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।  অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস ব্যবহার করছেন, তারা আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।  চলতি বছর প্রতি মাসেই এমন আক্রমণের হার বাড়ছে।  শুধু গত সেপ্টেম্বরেই ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ অ্যান্ড্রয়েডে ম্যালওয়্যার আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।  সফোসের প্রতিবেদনে আন্ড্রয়েডে আক্রমণের দু’টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ আছে।  এ দু’টি পদ্ধতি হলো ডাটা এনক্রিপটিং না করেই ফোন লক করা এবং ডাটা এনক্রিপটিংয়ের সময়ে ফোন লক করা।  অ্যান্ড্রয়েডে বেশির ভাগ র‌্যানসমওয়্যার ব্যবহারকারীর ডাটাকে এনক্রিপ্ট করে না।  আগামী বছরও অ্যান্ড্রয়েড ফোনে র‌্যানসমওয়্যার আক্রমণের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।