৫:৪২ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


রাস্তার ১৭ হাজার ইট চেয়ারম্যান-মেম্বারের আত্মসাৎ

০৯ জুন ২০১৮, ০৫:৪৬ পিএম | সাদি


সৈয়দ ফয়েজ আলী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ৯নং টিলাগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বৈদ্যশাসন গ্রামের সরকারী  রাস্তার ১৭ হাজার ইট রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক ও মেম্বার ফজলু মিয়া। 

ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে কুলাউড়া থানার এসআই বাদল ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু ইট জব্দ করেন।  চেয়ারম্যান ও মেম্বার গা বাঁচাতে কিছু ইট কাজের অজুহাত দেখিয়ে  বৈদ্যশাসন থেকে পাল্লাকান্দি রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন। 

সরেজমিনে গিয়ে জানাযায় এলজিএসপির অর্থায়নে ২০১৫-১৬ অত্র বছরে বৈদশাসন সিএনবি রোড হতে লংলা চা বাগান পর্যন্ত রাস্তা দুইবারে তিন লাখ টাকার ইট সলিং এর কাজ হয় । 

চলিত বছর পুরাতন ইট তুলে ফেলে (এসপিপি) এর ৩৮ লাখ টাকার ইট সলিং এর কাজ শুরু হয়।  কাজ শুরু হওয়ার সাথে সাথে ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মালিক ফজলু রাতের আঁধারে ইট তুলে নিয়ে কিছু ইট  তার নিজ বাড়িতে ও বাকী কিছু ইট তার নির্বাচনীয় সমর্থক আব্দুল গফুরের  বাড়িতে রেখে দেন। 

এলাকাবাসী প্রতিবাদী হয়ে উঠলে মেম্বার ফজলু মিয়া কিছু ইট মো: আবিদ আলীর বাড়ির রাস্তার পাশে ফেলে দেন।  পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কিছু ইট জব্দ করে আবার ঐ মেম্বারের জিম্মায় রেখে দেন।  যেখানে জব্দ করা ইটের পরিমান আনুমানিক ২ হাজার হবে।  বাকী প্রায় ১৭ হাজার ইট গায়েব হয়ে গেছে ঘটনাস্থল থেকে। 

সরেজমিনে মেম্বারের সাখে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক আমাকে বলেছেন, ইট গুলো তুলে নেওয়ার জন্য।  পরবর্তীতে আমাকে জানিয়েছেন আবিদ আলীর বাড়ির রাস্তা দিয়ে পাল্লাকান্দি রাস্তায় ফেলে দেওয়ার জন্য।  এই কাঁচা রাস্তার কাজ ঐ ইট দিয়ে হবে।  এই রাস্তার কি কোনো কাজের ওর্য়াক ওয়াডার হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করলে মেম্বার বলেন এমন কোনো কিছু হয়নি। 

চেয়ারম্যান ইউওন ও পিআইওকে বলেছেন।  আপনি যে ইটগুলো সরকারী নির্দেশ ছাড়া তুলেছেন তা ঠিক করেছেন এমন প্রশ্ন করলে মেম্বার বলেন, আমি যা করেছি তা ভুল করেছি তবে চেয়ারম্যানের নির্দেশে করেছি।  এ ব্যাপারে টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিকের সাথে যোগাযোগ করে, সরকারী কোনো নির্দেশ ছাড়াই ইট গুলো তুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, রাস্তায় নতুন করে কাজ হচ্ছে তাই ইট গুলো তুলে পাল্লাকান্দি রাস্তায় কাজ করানোর চিন্তা করে ইট গুলো তুলে এনেছি। 

পাল্লাকান্দি রাস্তার কাজের খরচ কে বহন করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মেম্বাররা তাদের পকেটের টাকা দিয়ে কাজ করাবে।  আপনার মেম্বাররা কি এত বৃত্তবান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিরব থাকেন। 

২ জুন শনিবার ইট তুলা হয়েছে পরবর্তীতে পুলিশ ইট জব্দও করেছে তিনি এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ৫ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। 

এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর কেনো জানানো হলো জানতে  চাইলে তিনি সদত্তর দিতে পারেন নি।  এলাকাবাসি এই ব্যাপারে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কার্যকলাপে খুব ক্ষুব্দ।  এই বিষয়ের সঠিক তদন্ত ও বিচার চায়। 


keya