১০:১৯ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি

২১ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:৫৭ এএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন আশংকা বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরে।  এ নিয়ে আমরা যারা কিছুটা সমাজ সচেতন তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে প্রায় একই আলোচনা হচ্ছে।  বিশেষ করে মানবিক কারণে নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রিয়ত ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থীর অবস্থানের কারণে এই আশংকা।  পাশাপাশি যে হারে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জনস্রোত বাংলাদেশে আসছে তাতে শংকা আরও বাড়ে বৈ কমে না। 

একই সঙ্গে প্রকৃতির অপরাদান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের পর্যটন, প্রকৃতি, পরিবেশ, পাহাড়ার অপূর্ব সৌন্দর্য ক্রমাগত হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। 

এই আগ্রাসী থাবার ভয়াল বিস্তার বান্দরবানের বন, পাহাড়া কেটে উজাড় করা হচ্ছে রোহিঙ্গা বসতির জন্য।  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অপ্রত্যাশিত অনুপ্রবেশে শুধুমাত্রা পরিবেশ এবং প্রকৃতি প্রদত্ত পাহাড়া, বনরাজি ধ্বংস হচ্ছে না কক্সবাজার, বান্দরবানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। 

তাদের মতে, এসব সমস্যা, সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আগেই দেশের এক নম্বর সমস্যা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে শরণার্থী সঙ্কট মোকাবিলা করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।  এই কাজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উদ্যোগ এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রদত্ত রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়ন অপরিহার্য।  তার এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজন বৈশ্বিক পর্যায়ের তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ।  প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে নিয়েই এগুতে হবে। 

বহু আগ থেকে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বসবাস করছে ৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী।  এর মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতন, নিপীড়ন, নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি ঘরে অগ্নিকাণ্ড প্রভৃতির কারণে বাংলাদেশ রাখাইনের রোহিঙ্গা নাগরিকে অনুপ্রবেশ শুরু হয়। 

২৫ আগস্ট রাখাইনে তল্লাশি চৌকিতে হামলার অজুহাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সেখানে গণহত্যা ও নির্যাতন চালায়।  প্রাণ বাঁচাতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান।  এর আগে পুরনো রোহিঙ্গা রয়েছে প্রায় ৫ লাখ।  সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে। 

নতুন রোহিঙ্গারা এ পর্যন্ত ৫০০০ একর বনভূমি ও পাহাড়ি অঞ্চলে বসতি গড়ে তুলেছে।  প্রতিদিন জ্বালানি সঙ্কট মেটাতে গাছ পুড়ছে ৬০০ টন।  গত ৫০ দিনে বনজ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে ২০০ কোটি টাকা।  বাড়তি খাদ্যের চাপে স্থানীয় বাজারগুলোতে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম।  বেড়েছে পরিবহন ভাড়াও। 

কক্সবাজর, বান্দরবানে পাহাড়া কর্তন ও বনভূমি বিরান করে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বসত গড়ে তোলায় একদিকে নির্বিচারে বিপুল পরিমাণ পাহাড়া ধ্বংস করায় ভূমিধ্বস, পাহাড়া ধ্বসের আশঙ্কা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন উজাড় করায় পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে।  এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সামুদ্রিক জোয়ার ভাটা, নদীভাঙন, সাগরের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

এতে একদিকে সমুদ্র উপকূলের মানুষ প্রতিনিয়ত আশ্রয়হীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।  পাশাপাশি আবাদি জমি কমছে।  কমছে ফসল উত্পাদন।  এতে খাদ্য সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা উপকূলের মানুষের।  বছরে বসত হারিয়ে বাস্তচ্যুত হচ্ছে দুই থেকে ৩ লাখ মানুষ।  গ্রিন হাউস অ্যাফেক্টরের কারণে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে।  এ কারণে বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে।  এতে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে দ্রুত। 

যদিও জাতিসংঘ ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য নতুনভাবে ব্যয়ের বাজেট প্রণয়ন করেছে।  আগামী ছয় মাসের জন্য সংস্থাটি ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।  এটি জেনেভা সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।  অবশ্য রোহিঙ্গাদের কারণে অর্থনীতির চাপ স্বীকার করেছেন খোদ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। 

ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র সফররে গিয়ে অর্থমন্ত্রী সেখানে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়া হয়েছে তাদের।  এতে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।  পুরো অর্থনীতির হিসাব পাল্টে গেছে।  এ জন্য তিনি চলতি বাজেটে নতুন করে কাজ করবেন বলেও মন্তব্য করলেন। 

অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি এবং পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ঝুঁকি ও অপরাধ দুটোই বাড়াবে।  কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন খাত ঝুঁকিতে পড়বে।  স্বাস্থ্যসেবার ওপরও চাপ বাড়বে। 

যে পরিবেশে তারা থাকবেন, সেখানে পর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও অবকাঠামো সুবিধা না থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় ঝুঁকি বাড়বে।  অসংখ্য রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে ঢুকে পড়ায় কক্সবাজারসহ ওই এলাকার পর্যটন, অর্থনীতি ও পরিবেশ ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে।  যার বিরূপ প্রভাব শুধু কক্সবাজার এলাকায় নয় বরং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে পড়বে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন। 

তার মতে, এসব শরণার্থী রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারলে সাময়িকভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।  কিন্তু ফেরত পাঠাতে না পারলে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘায়িত হবে নেতিবাচক প্রভাব।  কেননা রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারলে তারা জীবিকার তাগিদে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে।  এমনিতে কক্সবাজার এলাকায় আমাদের কাজের সুযোগ কম।  এছাড়া পর্যটন এলাকা হিসেবে কক্সবাজার ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠলে পর্যটনের বৈশিষ্ট্য হারাবে কক্সবাজার।  ফলে সেখান থেকে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবদুর রশিদ বলেন, এত বিপুল বিপন্ন মানুষ যেখানেই থাকবে, সেখানেই বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় হবে।  সামাজিকভাবে কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, যেমন স্থানীয় শ্রমিকদের মজুরি কমে যাচ্ছে, যেহেতু চাহিদার তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, সেখানে একটি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। 

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বৈদেশিক সহায়তা এলেও বাংলাদেশের তহবিল থেকে বিপুল অর্থ খরচ হবে।  তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারবঞ্চিত এ ধরনের জনগোষ্ঠীকে যে কোনো অশুভ মহল ব্যবহার করতে পারবে।  এখানে জঙ্গিবাদের একটি ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।  এটি শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।  এছাড়া রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।  বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম ও পরিবহন ভাড়া।  পর্যটন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

বনের ক্ষতি: কক্সবাজারে সাড়ে ৪ হাজার একর পাহাড়ি জমিতে রোহিঙ্গারা বসতি স্থাপন করেছে।  যার মধ্যে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বনভূমি রয়েছে।  এসব জমির মধ্যে উখিয়া রেঞ্জেই আছে তিন হাজার একর।  বাকি জমি রয়েছে টেকনাফ, পুটিবুনিয়া ও শিলখালী রেঞ্জে।  সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য ২ হাজার একর বনভূমি বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। 

কক্সবাজারের বন বিভাগ বলেছে, কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পসহ পুরনো রোহিঙ্গারা আগের থেকেই দখলে নিয়েছে প্রায় ৬ হাজার একর।  আর সম্প্রতি আসা নতুন রোহিঙ্গারা নিজেদের দখলে নিয়েছে সাড়ে ৪ হাজার একর।  মোট সাড়ে ১০ হাজার একর বনভূমি এখন রোহিঙ্গাদের দখলে।  এসব রোহিঙ্গারা দৈনিক পুড়ছে ৫শ’ টন গাছ।  বিশেষ করে উখিয়া, টেকনাফ, পুটিবুনিয়া ও শিলখালীতে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখ রোহিঙ্গা। 

তাদের রান্নার প্রয়োজনে প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনের গাছ।  প্রতিদিন ৬ লাখ কেজি বা ৬০০ টন বনের গাছ জ্বালানি পুড়ছে।  রোহিঙ্গাদের জন্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।  সবাইকে রান্না করে খেতে হচ্ছে।  এক লাখ চুলা যদি থাকে, সেখানে এক লাখ চুলার জন্য প্রতিদিন ন্যূনতম পাঁচ কেজি জ্বালানি ব্যবহার হওয়ার কথা।  সে হিসেবে পাঁচ কেজি বা ৫০০ টন কাঠের প্রয়োজন হবে।  এগুলো কোনো না কোনোভাবে বন থেকে যাচ্ছে। 

এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বনভূমির বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা আছে।  শরণার্থীর কারণে এরই মধ্যে বনের দুইশ’ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে হিসাব প্রকাশ করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।  সম্প্রতি কমিটির এক বৈঠকে বলা হয়, এখন পর্যন্ত ২০১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বনজসম্পদ ধ্বংস হয়েছে। 

সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে মানবিক কারণে।  তাদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণও যাচ্ছে।  কিন্তু জ্বালানির কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা প্রাকৃতিক বন থেকে তা সংগ্রহ করছে।  এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।  এর বাইরে পরিবেশের ক্ষতির হিসাব অনেক বেশি।  এ অঞ্চলের পাহাড় ও বনের গাছপালার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।  উচ্চ পাহাড়ের ওপরে কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।  এ এলাকায় যে কোনো মুহূর্তে ভূমিকম্পসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন তিনি। 

রোহিঙ্গাদের কারণে ঐ অঞ্চলে অর্থনীতির ওপর কি প্রভাব পড়ছে তা একটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, উখিয়া ও টেকনাফে বাড়তি মানুষের চাপের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।  উখিয়া ও টেকনাফে স্থানীয় বাসিন্দা প্রায় ৪ লাখ।  পুরনো ও নতুন রোহিঙ্গা মিলে ১০ লাখের ওপরে।  সব মিলিয়ে সেখানে এখন প্রায় ১৪ লাখ জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে।  ফলে অতিরিক্ত খাদ্য চাহিদার কারণে বেড়েছে পণ্যের দামও। 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে গৃহ নির্মাণসামগ্রীর বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে।  পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।  হঠাত্ চাহিদা বেড়ে মূল্যের ওপর প্রভাব পড়ছে।  পাশাপাশি প্রকৃত ধারণ ক্ষমতা থেকে যাত্রী বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। 

এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে।  রোহিঙ্গাদের পেছনে অর্থ ব্যয় নিয়ে ইতোমধ্যে একটি গবেষণা করেছে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট।  সংস্থাটির হিসেবে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১৬০২ মার্কিন ডলার।  কিন্তু শরণার্থী রোহিঙ্গাদের আয়ের কোনো উত্স নেই।  তাদের প্রত্যেকের পেছনে বছরে ব্যয় হবে এক হাজার মার্কিন ডলার।  ওই হিসেবে ৬ লাখ রোহিঙ্গার পেছনে বছরে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। 

প্রসঙ্গত: টেকনাফ ও কক্সবাজার হচ্ছে পর্যটন অঞ্চল।  নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশি ও বিদেশি হাজার হাজার পর্যটক এ অঞ্চলে ভিড় জমান।  এ খাতের আয়ের বড় একটি অংশ এ অঞ্চল থেকে আসছে।  কিন্তু রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন শিল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  ইতোমধ্যে রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপে ছড়িয়ে পড়েছে। 

এর ফলে পর্যটন খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  এ কারণে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।  এমনি অবস্থায় প্রত্যাশা থাকবে, দ্রুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে স্থানীয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তত্পরতা অব্যাহত রেখে এ সমস্যার সমাধান করা দরকার। 

এ সমস্যার সমাধান করা না গেলে বা এ সমস্যা দীর্ঘায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।  যা দেশ, দেশের মানুষের জন্য কোনোভাবে কল্যাণকর নয়।