৯:২২ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, রোববার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪০




রায়গঞ্জ সদর বালিকা বিদ্যালয়ের গাছ কাটার ঘটনার এখনো তদন্ত হয়নি

১৪ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:০১ পিএম | সাদি


এম.আবদুল্লাহ্ সরকার, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা সদর বালিকা বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে  দৃষ্টি নন্দন গাছ কেটে  ফেলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন প্রধান শিক্ষক  হোসেন সরোয়ার্দি।  এদিকে গাছ কাটার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিলেও তা এখনো শুরু করেনি তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম শাহাদত হোসেন।  প্রভাব খাটিয়ে গাছ কাটার তদন্ত রিপোর্ট আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। 

সুত্রে অভিযোগ রায়গঞ্জ সদর বালিকা বিদ্যালয়ে বিগত সময়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার শাহা শতাধীক মেহগনি গাছ লাগিয়ে বিদ্যালয়ের পরিবেশকে অত্যান্ত সুন্দর করে তোলেন।  ইতি মধ্যে গাছ গুলো অনেক বড় আকার ধারন করেছে।  তিনি চলে যাওয়ার পরে পরবর্তি প্রধান শিক্ষক সালেহ মাহমুদ মিয়া গাছ গুলো যত্ন সহকারে দেখা শোনা করেন।  কিন্ত তিনি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর থেকে গাছ গুলো অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। 

এর পরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন হোসেন সরোয়ার্দি।  তার যোগদান পর থেকেই দামী গাছ গুলো বিক্রির পায়তারা শুরু করেন।  শুরু হয় গোপনে গাছ বিক্রি।  একটি গাছের দাম লক্ষাধীক টাকা।  বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ৬টি বড় বড় মেহগুনি গাছ ছিল।  রাতের আধারে তা উধাও হয়ে যায়।  জানা যায় গাছ গুলোর দাম ছিল প্রায় ৫লাখ টাকা। 

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মানে সেকায়েপ কর্তৃপক্ষ চার লাখ টাকা অনুদান দেন।  একটি পুরাতন ভবন ভেঙ্গে তা নতুন নির্মানের জন্য এই বরাদ্ধ দেওয়া হয়। 


নভেম্ববরের প্রথম দিকে কাছ শুরু করা হয়।  এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক গোপনে আরো তিনটি মেহগুনি ও ৫টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ বিক্রি করে দেন।  যা গত ২নভেম্বর রাতে কেটে ফেলা হয়।  জেল হত্যা দিবসের দিনে ঘটনাটি সাংবাদিকদের নজরে আসে। 

এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন উপজেলা প্রশাসনের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে কাটা হয়েছে।  এই কাজে সহেযোগীতা করে সহকারী প্রধান শিক্ষক সুরুতজ্জামান সেখ।  এই গাছ কেটে নাকি উন্নয়ন করা হবে।  অথচ এই কাজের জন্য চার লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ।   ইতি পুর্বের প্রধান শিক্ষকগন অনেক কষ্টে গাছ গুলো দেখভাল করে ক্যাম্পাসটি দৃষ্টি নন্দন করছিলেন ।  আর বর্তমান প্রধান শিক্ষক তা কেটে উজাড় করে ফেলছেন ।  এভাবে তিনি গাছ কাটতে পারেন কিনা জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক বলেন মন্ত্রনালয়ের অনুমতি ছাড়া গাছ বিক্রির ক্ষমতা কারো নেই ।  মন্ত্রনালয় অনুমতি দিলেও তা সংবাদ পত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্য বিক্রি করতে হবে। 

গাছ কাটার ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আনা হলে শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইকবাল আখতার।  তদন্তের অগ্রগতি জানার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। 

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো:ইকবাল আখতার সোমবার রাতে জানান প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়নি।  এটা প্রশাসন অনুমতি দিতে পারেনা।  এঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  তদন্ত রিপোর্ট এখনো তার হাতে আসেনি।  রিপোর্ট হাতে এলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 



keya