২:৪১ পিএম, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ শাওয়াল ১৪৪১




লকডাউনে শপিংয়ের জিদ-হবে বিষাদের ঈদ

০২ মে ২০২০, ০৭:০৫ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ কবি বেঞ্জিন বেঞ্জয়েটের "অনিয়ম কৃষ্টি"- কবিতার দুটো চরণ সত্যি অসাধারণ..... 
" সময় গেলে হয়না সাধন কে- জানেনা এ  উক্তি, 
তবু সবাই যেন গড়িমসির সনে করে দিব্যি চুক্তি"। 

কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস বিশ্ব পরিস্থিতি কতোটা চরম সংকট আর বিপর্যয়ে ফেলে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। 

বিশেষ করে নিজের দেশ বাংলাদেশ নিয়ে বলি.....
গত ৮ই মার্চ ২০২০ এ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। 

(আইইডিসিআর)।  সেথেকে আজ অব্দি দেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে দুই শতকের কাছাকাছি লোকের মৃত্যু হয়েছে।  মৃত্যুর মিছিলে কেউ না কেউ সামিল হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

সংক্রমিত হয়েছে শত শত, সংক্রমিত হওয়ার পেছনে  আমাদের গাফিলতিও কাজ করেছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।  শুধু সরকারের দোষ-ত্রুটি খোঁজলে হবেনা নিজেদেরও সরকারের পাশাপাশি সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে এসে মহামারীর হাত থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। 

বারে বারে দেশের সকল মানুষকে নিরাপদে বাসায় থাকার জন্য -সচেতন হওয়ার জন্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে কিন্তু আমরা তার যথাযথ মূল্যায়ন করছিনা বরং উদ্ভট তথ্য উপস্থাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি যা এই মুহূর্তে কাম্য নয়। 

একদিকে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে ৫-১০জনের অধিক হলে মসজিদ কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে।  অপরদিকে বলে বাজারের নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আবার ব্যাংকে এতো ভীড় কেন? সবকিছুর দায়ভার আমাদের কেননা সামাজিক দুরত্ব কি সেটাও আমরা বুঝার চেষ্টা করছিনা সবাই সবার মতো করে বাজার বলেন,ব্যাংক বলেন সব জায়গায় আমাদের অবাদ বিচরণ সেটা কেন? বারবার বলা হচ্ছে আপনাদের প্রয়োজনীয় জিনিস আগেই ক্রয় করে নিন যাতে সপ্তাহ পর্যন্ত চলে,তা আমরা করছিনা কৌতুহল বশত হলেও আমরা খোলা মাঠের বাজার পরিদর্শনে বের হচ্ছি যেন আমাদেরকে তা তদারকির দায়িত্ব দিয়েছে। 

ভাইরাস আক্রমণ আমাদের না করে কাদেরকে করবে? আমরা নিজেরাই তো নিজেদের বিপদ ডেকে আনছি। 

কোনোদিন কেউ কল্পনা করেনি পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ স্বল্প পরিসরে ১২জনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে, নিয়মিত নামাজে ৫জনের অধিক হওয়া যাবেনা,বিনা কারণ সন্ধ্যার পর ঘর থেকে অহেতুক ঘুরাঘুরি বা বের হওয়া যাবেনা, ডাক্তাররা রোগি দেখতে গিয়ে নিজেকে মৃত্যুর পথযাত্রীতে পরিণত হতে হয়  অথচ তাদের কাছেইতো আমাদের চিকিৎসার আশ্রয়স্থল সে জায়গাটিও বিপদজনক হয়ে পড়েছে। 

পুলিশ বাহিনীতেও সংক্রমণ হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তাও নিরাপদ নয় তাহলে আমরা কিসের বড়াই করছি? 
কথা সাহিত্যিক খ্যাতিমান লেখক প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের একটি উক্তি স্মরণ করি.... 

"একসাথে কখনো সবাইকে সুখী করা সম্ভব না,আপনি কখনো পারবেন না। কাউকে না কাউকে অসন্তুষ্ট রাখতেই হবে। 

আর তাতেই মনে 
হয় নিজের গোটা পৃথিবীর একটা প্রান্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায়"। 
শেষপর্যন্ত ফলাফল কি হবে মহান আল্লাহ জানেন কারণ রমজান মাস চলছে মানুষের চাহিদার শেষ নেই, বাজার মনে হচ্ছে ঈদের বাজার জনসমাগম দিন দিন বাড়ছে খামখেয়ালী পনায় কি বিপদ অপেক্ষা করছে জানিনা।  ব্যবসায়ীরা চিন্তিত তাদের রমজান উপলক্ষে রমরমা ব্যবসার কি হবে? শপিংমল গুলো ঈদ উপলক্ষে হরেকরকমের কালেকশন করে বসে আছে কিন্তু ক্রেতা আসবে কোত্থেকে? নিশ্চিত ব্যবসা মন্দায় যাবে। 

পুরো বছরের ইনকাম এই রমজানেইতো গলা কাটে হয়তো সেটা সম্ভব হবেনা।  এইরকম আরো বহু ব্যবসা রয়েছে যা রমজানকে  উপলক্ষ করে পুঁজি করে বসে আছে।  তদুপরি অসংখ্য কর্মচারীদেরও কর্মহীনতায় ভুগতে হবে সবকিছুই সহ্য করতেই হবে নিজের জন্য।  কথায় বলে...নিজে বাঁচলেইতো বাপের নাম। 

প্রত্যেকেই আগে বাঁচুন তারপর অন্যকে বাঁচতে সহায়তা করি।  
আরেকদিকে একটি বিষয় লক্ষণীয় সেটা হলো, কখনো কোনো রমজানের ঈদে এমন সময় আসেনি যাঁরা বাসায় দিনযাপন করেছে।  রমজানের রোজা ১০-১৫ টা অতিবাহিত হতে না হতে পরিবারে ধুম চলে সন্তানাদিদের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে কে কোনটা নিবে,কোন মার্কেট থেকে শপিং করবে, নানান জল্পনা কল্পনার শেষ থাকেনা।  কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেটা বলে না, কেউ যদি "ঈদকে" সামনে নিয়ে দেশের সকল শপিংমল খুলে দেওয়া হয় কিংবা লকডাউন শিথিল করা হয় তাহলে অতীতের সকল কষ্ট-ত্যাগ সব নিমিষেই শেষ হয়ে যাবে। । যেহেতু এই সামনের কয়েক মাস ভাইরাসটি সক্রিয় থাকতে পারে বেশি সেজন্য অভিভাবকরা সচেতন হতে হবে,হয়তো সন্তানের অনেক ইচ্ছা থাকবে ঈদের শপিং করার কিন্তু এই বছরের ঈদ নাহয় বিসর্জন দিলাম কেননা সন্তানের.....
 এই লকডাউনে শপিংয়ের "জিদ" মানেই ভবিষ্যতের জন্য বয়ে আনবে বিষাদের "ঈদ"। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা । 
 


keya