৫:১৮ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

লিভারের সুরক্ষা দেয় কফি

২১ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:৩১ এএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর অন্যতম কফি।  মগভর্তি ধোঁয়া ওঠা কফি ছাড়া দিন শুরু হয় না অনেকেরই।  সম্প্রতি এমন কফিপ্রেমীদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে এক গবেষণা প্রতিবেদন।  এতে বলা হয়েছে, কফি পান লিভারসংক্রান্ত রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে। 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রয়্যাল সোসাইটি অব মেডিসিনের এক গোলটেবিল বৈঠক চলাকালে এ প্রতিবেদনে উঠে আসা ফলাফল প্রথমবারের মতো প্রকাশ করা হয়।  এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক গ্রায়েম আলেক্সান্ডার, যিনি ব্রিটিশ লিভার ট্রাস্টের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা।  সেখানে আরো ছিলেন ইউরোপের সাতটি দেশের লিভারসংক্রান্ত সংগঠনের প্রতিনিধি ও শিক্ষাবিদ। 

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার বৃদ্ধির পেছনে লিভারের দুরারোগ্য সংক্রমণের বড় ভূমিকা রয়েছে।  শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি বছর অন্তত ৩১ হাজার মানুষ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে।  বিশ্বব্যাপী লিভারের রোগ সংক্রমণের হার দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।  এর প্রধানতম কারণগুলো হলো— মদ্যপান, ধূমপান বা উচ্চমাত্রার ক্যালরি ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ।  ক্রমবর্ধমান এ আশঙ্কার বিপরীতে আশার আলো দেখাচ্ছে উল্লিখিত প্রতিবেদনের ফলাফল। 

এ বিষয়ে অধ্যাপক গ্রায়েম আলেক্সান্ডার বলেন, ইউরোপসহ সারা পৃথিবীতে লিভার সংক্রান্ত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।  এ অবস্থায় বিশ্বের জনপ্রিয়তম পানীয়গুলোর অন্যতম কফি ও খাদ্যাভ্যাস এসব রোগ প্রতিরোধে কীভাবে ভূমিকা রাখছে, সেটি বোঝাটা খুবই জরুরি।  গবেষণার ফল বলছে, লিভারের রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কমায় কফি। 

আগের অন্যান্য অনেক গবেষণায়ও লিভারের রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে কফির কার্যকর ভূমিকা উঠে এসেছে।  এ রকমই এক গবেষণায় বলা হয়েছিল, নিয়মিত কফি পানে লিভার সিরোসিসের ঝুঁকি কমে।  এছাড়া লিভারে মদ্যপান ছাড়াই চর্বি জমে যাওয়াজনিত রোগ নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিস (এনএএফএলডি) প্রতিরোধে কফির ইতিবাচক ভূমিকার কথা উঠে আসে আরেকটি প্রতিবেদনে। 

এছাড়া লিভারের দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধে কফি পানের ইতিবাচক ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, যারা প্রতিদিন পরিমিত মাত্রায় কফি গ্রহণ করেন, তাদের এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে ২৫-৩০ শতাংশ।  অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় কফি পানকারীদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি কমে ৬৫ শতাংশ। 

তবে অতিমাত্রায় কফি পানের ক্ষতিকর দিক হলো, এতে করোনারি ডিজিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।