৪:৩০ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




লালমনিরহাটে ছিটমহল বিনিময়ের চার বছর পূর্তি উদযাপন

০১ আগস্ট ২০১৯, ১১:০৯ এএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ছিটমহল বিনিময়ের চার বছর পূর্তি ও পঞ্চম বর্ষে পদার্পন করায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছেন লালমনিরহাটের বিলুপ্ত ৫৯টি ছিটমহলের বাসিন্দারা। 

এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাত ১২টা ১ মিনিটে সদর উপজেলার বিলুপ্ত ভিতরকুটি ছিটমহলে কেক কেটে ও জাতীয় সংগীত গেয়ে ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্বলন করে  দিবসটি পালন করেন এখানকার বাসিন্দারা। 

সেখানে উপস্থিত ছিলেন, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সুজন, ভিতরকুটি (বাঁশপচাই) ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সভাপতি হারুন-অর-রশীদ। 

এ ছাড়াও বিলুপ্ত ছিটমহলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কবি ও সাহিত্যিক ফেরদৌসি বেগম বিউটি এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে শিশু-কিশোর ও বয়স্কসহ কয়েকশত নারী-পুরুষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে নেচে-গেয়ে আনন্দ উল্লাস করেন।  একইসাথে হাতীবান্ধার উত্তর গোতামারী ও পাটগ্রামের বাঁশকাটা ছিটমহলে চতুর্থ বর্ষর্পূতি পালন করেন সেখানকার বাসিন্দারা। 

ছিটমহলবাসীদের দীর্ঘ ৬৮ বছরের নাগরিকত্বহীন বঞ্চনার দুঃখ ঘুচিয়ে ছিটমহল বিনিময়ের সেই স্মরণীয় ক্ষণের চার বছর পূর্তি হচ্ছে আজ।  ছিটমহল বিনিময়ের চার বছরে নাগরিকত্বসহ সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আনন্দে আত্মহারা বিলুপ্ত ছিটমহলের মানুষ। 

জানা গেছে, ছিটমহল বিনিময়ের চার বছর পূর্তিতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্ধারা।  এরমধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, প্রতিটি বাড়িতে আলোকসজ্জা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা। 

ছিটমহলবাসীর এরই মধ্যে যেন ঘুচে গেছে দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস।  মাত্র চার বছরে মাথায় ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো, প্রশস্ত মসৃণ পাকা রাস্তা, সরকারি উদ্যোগে নির্মিত সুদৃশ্য মসজিদ-মন্দির, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা- এ যেন বদলে যাওয়া এক নতুন জনপদ। 

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘দীর্ঘ ৬৮ বছরের লাঞ্চনা-বঞ্চনার পর স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি।  দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে আনন্দ মিছিল, গ্রামীণ খেলাধুলাসহ প্রতিবছর কর্মসূচি পালন করতে চাই। ’

২০১৫ সালের ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে ৫১ বাংলাদেশি ছিটমহল বাংলাদেশ ও ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান ঘটেছে।