৩:২৬ এএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১




লালমনিরহাটে ধর্ষকের সাথে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে, কাজী গ্রেফতার

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৭ পিএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে ধর্ষণের শিকার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে ‘ধর্ষকের’ সাথে বিয়ে পড়ানোর অভিযোগে কাজি শহিদুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। 

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বুড়িরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

শহিদুল লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের সাতপাটকী এলাকার বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের নিকাহ নিবন্ধক। 

লালমনিরহাট থানা পুলিশ জানায়, আড়াই মাস আগে প্রাইভেট শিক্ষক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। 

এ ঘটনায় বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে প্রাইভেট শিক্ষক শাহীনসহ চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।  ওই মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শাহীনকে বুধবার রাতেই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। 

লালমনিরহাট সদর থানার ওসি মাহফুজ আলম বলেন, ‘মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।  বিয়ে পড়ানোর অভিযোগে কাজি শহিদুলকে শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।  তাকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।  অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ’

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, লালমনিরহাট সদর থানার এসআই মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাহীন এবং ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।  এ ঘটনায় বুধবারই তাকে হাতীবান্ধা সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়েছে। 

লালমনিরহাট সদর এ সার্কেলের দায়িত্বে থাকা এএসপি এসএম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এসআই মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।  এখনই এই ব্যাপারে কিছু বলা সম্ভব নয়। ’

এদিকে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাজি শহিদুল ইসলাম থানায় দাবি করে বলেন, 'আমি এই বিয়ে দেইনি।  এমনকি তাদেরকে আমি চিনিও না।  আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। '

উল্লেখ্য, গত আড়াই মাস আগে ২৫ জুলাই সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে লালমনিরহাটের একটি স্থানীয় ক্লিনিকে গর্ভপাত করানো হয়েছে বলে মেয়ের বাবা অভিযোগ করেন।  এ ঘটনায় ১১ আগস্ট থানায় মেয়ের বাবা একটি অভিযোগ দেন।  এরপর ২৩ আগস্ট প্রাইভেট শিক্ষক শাহীন এবং ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়।