১১:২০ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

লোহাগড়ায় কুমারিমাতার কোল থেকে পাষন্ডরা কেড়ে নিয়েছে নবজাতককে

০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০১:১০ পিএম | সাদি


শরিফুল ইসলাম, নড়াইল  প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়ায় কুমারিমাতার কোল থেকে পাষন্ডরা কেড়ে নিয়েছে তার নবজাতককে।  দরিদ্র ও গ্রামে দূর্বল হওয়ায় ন্যার্য বিচার চেয়েও বিচার পাননি ওই কুমারিমাতা ও তার পরিবার।  ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার ইতনা ইউনিয়নের ধলাইতলা গ্রামে।  প্রভাবশালীদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশ বা হাসপাতালের সহযোগিতা নিতেও সাহস পাচ্ছেন না। 

এলাকাবাসী ও অভিযোগে জানা গেছে, ইতনার ধলাইতলা গ্রামে মৃত ইলিয়াস ভুইয়ার স্ত্রী ও সন্তানরা নিজ খুঁপড়ি ঘরে বসবাস করেন।  অভাবের সংসার তাদের।  গত ৯ মাস আগে একদিন বিকালে ধলাইতলা গ্রামে ইলিয়াস ভুইয়ার বাড়ির আশপাশ দিয়ে কুমারডাঙ্গা গ্রামের মৃত  মোস্ত শেখের ছেলে নয়ন শেখ(৩২) ঘোরাফেরা করছিল।  এ সময় ইলিয়াস ভুইয়ার বাড়িতে ঢুকে মেয়ে আখি খানম(১৯) কাছে পানি পান করবার জন্য পানি চায়।  আখি তাকে পানি পান করায়।  ওই দিন চলে গেলেও ৩/৪ দিন পরে নয়ন পুনরায় আখির বাড়িতে আসে।  আখির মা বা ভাই কেউই বাড়িতে ছিলনা।  এ সুযোগে নয়ন ঘরের মধ্যে ঢুকে জোর করে আখিকে ধর্ষণ করে। 

এরপরও নয়ন ওই বাড়িতে এসে কয়েক দফায় আখিকে ধর্ষণ করে।  লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি আখি।  কিন্তু আখির অন্তস্বত্তা হয়ে পড়লে তার পরিবার  টের পায় এবং আখি স্বীকার করে।  আখির মা বিষয়টি জানার পরই বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে আখির পেটের বাচ্চা ফেলে দেবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।  কারণ  গর্ভের বাচ্চার বয়স তখন প্রায় ৫/৬ মাস।  উপায়ন্তর না পেয়ে গ্রামের কয়েকজন লোক ও নয়নের পরিবার বা তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে উপযুক্ত বিচার চেয়ে ব্যর্থ হন আখির মা।    

গত শুক্রবার(১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আখি তার নিজ বাড়িতে পুত্র সন্তান প্রসব করে।  ঘটনাটি দ্রুত জানাজানি হয়ে যায়।  শনিবার (২ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ধলাইতলা গ্রামের প্রভাবশালী মৃত আমান গাজীর ছেলে সোহাগ, স্থানীয় হাফিজুর সহ ৪/৫ জনে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে কৌশলে আখির কোল থেকে তার সদ্য জন্ম গ্রহণকৃত পুত্র সন্তানকে নিয়ে চলে যায়।  আখি ও তার পরিবার এখন জানেনা ওই শিশুটি এখন কোথায়।  প্রভাবশারীদের ভয়ে থানা বা হাসপাতালে যেতে পারছেন না ওই পরিবার।  

আখির মা ফিরোজা বেগম হত সোমবার(৪ ডিসেম্বর) বিকালে অভিযোগ করেন, আমি নয়নের পরিবার ও গ্রামের প্রভাবশালীদের বিষয়টি জানালেও তারা তখন আমাদের গুরুত্ব দেয়নি।  অথচ আমার মেয়ের সন্তান জন্মের পর তারা তড়িঘড়ি করে সন্তানটিকে নিয়ে চলে গেছে।  আখি অভিযোগ করেন, আমাকে নয়ন জোর করে কয়েকবার ধর্ষণ করেছে।  আজ নয়নের পরামর্শে তার পক্ষের লোকজন আমাকে ও আমার পরিবারকে নানা ভয় দেখিয়ে আমার পুত্র সন্তানকে নিয়ে চলে গেছে।  জানিনা আমার বাচ্চাটি কোথায়।  আমি আমার পুত্র সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।  আমি সঠিক বিচার চাই। 

অভিযুক্ত নয়নের সাথে সোমবার বিকালে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া না গেলেও নয়নের চাচা কুমারডাঙ্গা গ্রামের আবুল বাশার বলেন, এঘটনায় আমার ভাই আবুল হোসেন(নয়নের আরেক চাচা) বিচার শালিস করে দিয়েছে।  কিন্তু আবুল হোসেন হোসেনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধলাইতলা গ্রামের শাহিন গাজী সমাধানের জন্য আমাকে একবার ডেকেছিল কিন্তু পরে আর তারা ডাকেনি। 

এলাকার লোকজন কেউই বলতে পারছে না আখির পুত্র সন্তান এখন কোথায়।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার অনেকে বলছেন, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়ন, সোহাগ, শাহিন গাজী, সাহাদুল, আবুল হোসেন সহ কয়েকজনকে আটক করলে আখির নবজাতকের সন্ধান মিলবে।  এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো কোন অভিযোগ পাইনি।  তবে, খোঁজখবর নিচ্ছি।