১২:৪০ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯, রোববার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০




লোহাগড়ায় জাল কাগজপত্র দিয়ে সরকারী সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ভূমিদস্যু’র

০৩ জুলাই ২০১৯, ১০:৫৮ এএম | নকিব


শরিফুল ইসলাম,নড়াইল প্রতিনিধি :নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামের চিহিুত ভূমিদস্যু আব্দুল ওহাব সরদার জাল দলিল ও কাগজপত্র দিয়ে সরকারী কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে ।  

উপজেলার ইতনা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব হায়দার আলী জানান, ১২৯ নং বারপাড়া মৌজার এসএ ৫০ নং খতিয়ানের ১২০৬, ২২৯৩, ১২০৫ ও ১২০৭ নং দাগের ৬৯ শতক  সরকারী জমি যা চল্লিশ বছর ধরে ওই গ্রামের স্বপন মির্জা,জালাল শেখ, নবির শেখ, খবির শেখ  ডিসিআর প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করছেন।  কিন্তু ইতনা গ্রামের মৃত মালেক সরদারের ছেলে ভূমিদস্যু আব্দুল ওহাব সরদার ১৮২/১৩ নং মোকদ্দমা স্বপক্ষে জাল জালিয়াতি দলিল ও কাগজপত্র  দিয়ে উক্ত সম্পত্তি দখলের পায়তারা করছে।  উক্ত মামলায় ওহাব সরদার ২৩৫৯/১৯৭৮ নং যে দলিল দাখিল করেছে তা উক্ত কেচ সংক্রান্ত কোন দলিল নয়। 

দলিলটি ১১১ নং বয়রা মৌজার ১৬৫ নং দাগসহ অন্য একটি দাগের জমি।  যার গ্রহিতা আব্দুল জলিল মোল্য,সাং Ñবয়রা এবং দাতা কালু ফকির,সাং Ñদিঘলিয়া ।  

জনৈক সরোজিনী দে,জংÑ শ্যামা চরন দে ২২/০৪/৭৮ তারিখে ২৩৫৯/১৯৭৮  নং রেজিষ্ট্রি কবলা দলিলে  ওহাব সরদারকে তফসিল বর্নিত জমি হস্তান্তর করে যা জাল দলিল হিসেবে বিবেচিত হয় ।  প্রকৃতপক্ষে উক্ত জমির এসএ রেকর্ডিয় মালিকগন অভয়নন্দ ঘেষ,দুর্গা ঘোষ, ক্ষীরোদনন্দ ঘোষ ও বিরাজনন্দ ঘোষ ওহাব সরদারকে কোন প্রকার দলিলাদী হস্তান্তর করেনি।  এ ছাড়া ভিপিসি ২৮ লো/৭৪ নং কেসের বিপরিতে সরোজিনী দে আদালতে ৪১৬/৭৪ নং দেওয়ানি মামলা করলে উক্ত মামলার রায়  সরকার পক্ষে হয়।  পরবর্তিতে ওহাব সরদার  বাংলাদেশ সরকারকে বিবাদী করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইবুণালে ১৮২/১৩ নং মামলা করেন।  উক্ত মামলায় ওহাব সরদারের অনুকুলে ডিগ্রী ও রায় হয় । কিন্তু উক্ত জমির বিপরীতে প্রদর্শিত ভিপি অবমুক্ত কেস নং ১২৪ লো/৮৯ করা হলেও কেসটি অত্র নালিশী জমাজমি সংক্রান্ত কোন কেস নহে উহা জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট।  প্রকৃতপক্ষে উক্ত অবমুক্ত কেসটি উপজেলার মাইটকুমড়া মৌজার ১৬৯ নং খতিয়ানের বিপরীতে প্রস্ততকৃত । 

বর্তমান বসবাসকারী ডিসিআর প্রাপ্ত জালাল শেখ জানান,সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ এনে চল্লিশ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছি ।  উক্ত জমিতে আমার স্ত্রীর কবরও রয়েছে ।  এ ব্যাপারে ভূমিদস্যু ওহাব সরদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এম আরাফাত হোসেন বলেন,ইতনা ইউপির বারপাড়প মৌজার সরকারী ৬৯ শতক জমি সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত,যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকার ।  এক শ্রেনীর ভুমিদস্যু জাল কাগজপত্র তৈরী করে আদালতের মাধ্যমে রায় পেয়ে ভোগ দখলের চেষ্টা করছে ।  সরকার পক্ষ উক্ত রায়ের বিপরীতে আপিল করেছে ।  


keya