৩:৫৩ এএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১




লায়ন কিং’ ইমরান খান

০৬ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৬ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: ‘আমার মনে আছে, যখনই আমি কোনো ম্যাচে ভালো করতাম বা ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হতাম। 

সফর থেকে ফিরে সবার আগে আমার মায়ের কাছে যেতাম।  কারণ, আমি তার অত্যন্ত আদরের ছিলাম। 

মা আমাকে সব সময় একটা কথাই বলতেন, ‘কখনো অহংকার করো না।  আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না।  অহংকার মানুষের সবচেয়ে খারাপ গুণ। ’ কিন্তু মানুষ আমাকে ভুল বুঝতো।  আসলে আমি ছিলাম লাজুক।  আমি অনেক ছোট পরিবেশে বড় হয়েছি।  ওখান থেকে উঠে আমি ইংল্যান্ড চলে যাই।  আমি মানুষের মধ্যে কমফোর্টেবল ছিলাম না।  রেস্টুরেন্টে মানুষ আমাকে চিনে ফেললে আমি লজ্জা পেয়ে যেতাম।  কিন্তু মানুষ সেটাকে মনে করতো অহংকার। ’ এটা পাকিস্তানের জীবন্ত কিংবদন্তী ইমরান খানের নিজের বয়ান। 

প্রথম জীবনের লাজুক ইমরান খান তার ক্যারিয়ারের সোনালী সময়ে লাখো তরুণীর হৃৎস্পন্দন ছিলেন।  যে ইমরান একটা সময় তার একাদশের বাকি দশ সদস্যের সামনে নির্দেশনা দিতে লজ্জা পেতেন, তিনিই এখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আগুনঝরা ভাষণ দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।  তার কথায় বিমোহিত হয়ে পাকিস্তানিরা তাকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা। 

কে এই ইমরান খান?

১৯৫২ সালের আজকের দিনে (০৫ অক্টোবর) লাহোরের এক ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করন ইমরান খান।  বাবা ইকরামুল্লাহ খান নিয়াজি ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।  মায়ের নাম শওকত খানম।  চার বোনের একমাত্র আদরের ভাই ছিলেন ইমরান খান।  তার বাবা পশতুন নিয়াজি গোত্রের।  আর মা পশতুন বুরকি গোত্রের।  ইমরান খানের নানার গোত্র জাভেদ বুরকি এবং মাজিদ খানের মতো বেশ কয়েকজন নাম করা ক্রিকেটার দিয়েছে। 

সচ্ছল পরিবারে জন্ম নেয়া ইমরান খান বড় হয়েছেন বোন এবং পরিবারের অন্য সদস্যের আদরে।  পড়াশুনা করেছেন নামিদামি স্কুলে।  পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি এবং অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন।  মেধাবী ছাত্র হলেও তার আগ্রহ ছিল মূলত খেলাধুলায়। 

ইমরান খানের কিংবদন্তী ক্রিকেট ক্যারিয়ার এবং রঙিন ব্যক্তিগত জীবন তাকে সব সময় লাইমলাইটে রেখেছে।  একই সঙ্গে তিনি কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা এবং আকর্ষণ অর্জন করেছেন।  তবে তিনি শুধুমাত্র একজন হেয়ালি ক্রিকেট তারকার চেয়ে অনেক বড় কিছু। 

বৈবাহিক জীবন:

ইমরান খানের প্রোফাইল অপূর্ণই থেকে যাবে যদি তার বৈবাহিক জীবনের দিকে না তাকানো হয়।  ক্রিকেট মাঠে পেস বোলার ইমরান খানের রান আপের সময় তার ঝাঁকড়া চুলে ফিদা হননি ওই সময় এমন তরুণী সারা পৃথিবীতে কম ছিল।  তারপরেও জীবনের ৪২টি বছর তিনি ব্যাচেলর হিসেবে কাটিয়েছেন।  কিন্তু তার পরের ২৪ বছরে তিন তিনটি বিয়ে করেছেন।  তার প্রথম স্ত্রী জ্যামাইমা গোল্ডস্মিথ।  যিনি ছিলেন ইহুদী বিলিয়নিয়ারের মেয়ে।  যদিও ইমরানকে বিয়ে করার জন্য নিজের ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন জ্যামাইমা।  পরে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। 

ওই ঘরে ইমরান খানের দুই ছেলে এখন তাদের মায়ের সঙ্গে থাকেন। 

এরপর বিয়ে করেন রেহাম খানকে।  যিনি একজন সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক।  তাদের সংসারও ছিল অল্প দিনের।  আর বর্তমানে তিনি সংসার করছেন বুশরা মানেকার সঙ্গে।  এই নারীকে আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা হিসেবে নিজেই বর্ণনা করেছিলেন ইমরান খান।  ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেন তারা। 

ক্রিকেটে ‘ডাবল পিএইচডি’ অধিনায়ক:

তার শুরুটাও হয়েছিল তেমনই, যেমনটি অন্য সব গ্রেটদের হয়।  একেবারে ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট শুরু করেছিলেন ইমরান খান; প্রথমে পাকিস্তানে এবং পরে ইংল্যান্ডে।  এমনকি আজো, অবসরের ২৫ বছর পরেও তাকে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের একজন বিবেচনা করা হয়।  তিনিই পাকিস্তানকে তাদের একমাত্র বিশ্বকাপটি জিতিয়েছিলেন; ১৯৯২ সালে। 

১৩ বছর বয়সে ক্রিকেটের হাতেখড়ি হওয়া ইমরান জাতীয় দলের হয়ে খেলেন ১৮ বছর বয়সে; ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।  এরপর অক্সফোর্ডে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে দেশের মাটিতে তার অভিষেক হয় ১৯৭৬ সালে।  ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্রিকেটকে যখন বিদায় বলেন তখন তার নামের পাশে ৮৮ টেস্টে ৩৬২ উইকেট এবং ৩ হাজার ৮০৭ রান।  ১৭৫ ওয়ানডেতে ১৮২ উইকেট এবং ৩ হাজার ৭০৯ রান। 

‘আমি যখন প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলি, টেনশনে সারারাত ঘুমাতে পারিনি।  আমার টার্গেট ছিল ওই ম্যাচে আমি সেঞ্চুরি করবো এবং ১০ উইকেট নিবো।  কিন্তু ম্যাচে খুব খারাপ করি।  এরপর আমাকে তারা বাদ দিয়ে দেয়, রসিকতা করতে শুরু করে।  আর যখন সফর শেষ হয় তখন সবাই ভাবছিল যে, এবার এর ক্যারিয়ার শেষ।  আমি তখন নিজের মনে মনে নোট করি, আমার ভুলগুলো কি কি।  আমি সেরা ক্রিকেটারদের দেখি তারা কীভাবে ভালো করছে।  তিন বছর লেগেছে আমার টিমে ফিরতে।  তখন আমি টার্গেট ঠিক করি।  আমার প্রথম টার্গেট ছিল, পাকিস্তান দলের সেরা অলরাউন্ডার হবো এবং সেরা ফাস্ট বোলার হবো।  আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করি তখন ২২ বছরের ছিলাম।  এর এক বছরের মধ্যেই আমি দলের সেরা অলরাউন্ডার বনে যাই।  আমার পরের টার্গেট ছিল, আমি পৃথিবীর সেরা অলরাউন্ডার হবো।  আমি কঠোর পরিশ্রম শুরু করি।  তখন পৃথিবীর সেরা অলরাউন্ডার ছিল চারজন।  তাদের সঙ্গে মোকাবেলা শুরু হয়ে যায়। ’ এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন ইমরান খান। 

তার অধিনায়কত্বে পাকিস্তান ক্রিকেট সোনালী যুগ দেখে; সব জায়গায় সফল হয়। 

‘অধিনায়কত্বের সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা হওয়া উচিৎ সেটা হলো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া, নিজের উদাহরণ দিয়ে দলকে চালানো।  যখন একজন অধিনায়ক জান বাজি রেখে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে তখন পুরো টিম তার সঙ্গে দাঁড়িয়ে যায়। ’

পাক-ভারত ক্রিকেট দ্বৈরথেও রং ছড়িয়েছেন ইমরান খান।  ১৯৮৬-৮৭ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ঘরের মাটিতে গিয়ে নাস্তানাবুদ করে ফেরেন ইমরান খান, যা পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে আজো ঝলমলে।  ওই সিরিজের ইমরান খানের কিছু সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে তাকে কেনো ক্রিকেটের ‘ডাবল পিএইচডি’ বলা হয়। 

ব্যাঙ্গালোর টেস্টে ভারতকে হারিয়ে সিরিজ জেতে পাকিস্তান।  ওই ম্যাচে ইমরান সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিজের বন্ধু এবং পছন্দের বোলার আব্দুল কাদেরকে বাদ দেন।  ম্যাচের আগের দিন এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইমরান খান বলেন বলেন, ‘আমার মনে হয় এই ম্যাচ খুবই ক্লোজ ম্যাচ হবে এবং অল্প ব্যবধানে দল জিতবে।  কাদের যেহেতু লেগব্রেক বোলার তাই রান বেশি দিবে। ’

তার জায়গায় ইকবাল কাসিম এবং তৌসিফ আহমেদকে দলে নেন।  এ দুজনই দলকে জেতানোয় বড় ভূমিকা পালন করেন।  এবং ম্যাচের শেষ দিনে কঠিন লড়াইয়ের পর ১৪ রানের জয় পায় পাকিস্তান। 

‘এক একটা প্লেয়ারের তুলনা করলে ভারত আমাদের থেকে ভালো টিম ছিল।  ভারতের মাটিতে ভারতকে হারানো..., তার ওপর আবার তারা স্পিন পিচ বানিয়ে দেয়।  তো আমি বোলিংয়েও তাদের হারাতে পারবো না।  ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি ম্যান অব দ্যা সিরিজ হই। ’

নিজেদের গ্রেট হিসেবে প্রমাণ করার জন্য নিজে নিজেই একটা মানদণ্ড ঠিক করে রেখেছিলেন ইমরান খান।  তিনি ঠিক করে রেখেছিলেন, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত এবং সব দলকে তার দেশে গিয়ে হারাবেন। 

ইমরান খান বলেন, ‘আমি যদি আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মাইলস্টোন দেখি তাহলে ১৯৭৬ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর ছিল এবং তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাই।  ওই সময় এ দুদল ছিল বিশ্বের সেরা দল।  আমি যে সিরিজগুলো খেলেছি তার মধ্যে এই দুই সিরিজ ছিল সবচেয়ে কঠিন।  ১৫ বছর পর আমার টিম প্রথম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে গিয়ে তাদের হারিয়ে আসে।  এই দুই সিরিজ আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার উপরে নিয়ে যায়। ’

আর অবসর ভেঙে ক্রিকেটে ফিরে ১৯৯২ সালে দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে কিংবদন্তী বনে যান ইমরান খান। 

বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে ইমরান বলেছিলেন, ক্যারিয়ারের গোধূলীলগ্নে বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে আমি গর্বিত। 

রাজনীতিতে চড়াই উৎরাই:

ক্যারিয়ারের স্বর্ণ-শিখরে থাকা অবস্থায় তিনি ক্রিকেট থেকে অবসরে চলে যান এবং চার বছর পর রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েন।  গঠন করেন নিজের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ।  কিন্তু ক্রিকেটে তার জনপ্রিয়তার পুরোপুরি অনুবাদ হয়নি রাজনীতিতে।  অন্তত সঠিক পন্থায় হয়নি।  ১৯৯৭ সালে যখন তিনি প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন তার দল একটি আসনেও জিততে পারেনি।  নিজেও জামানত হারান তিনি। 

অথচ নিচের দল গড়ার আগের দুই দুই বার তখনকার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে অফার পেয়েছিলেন ইমরান খান।  বিশ্বকাপ জিতে ফেরার পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ সংবর্ধনা পার্টির আয়োজন করেন।  সেখানে অস্ট্রেলিয়ার সাংবাদিক রিচার্ডক ইমরান খানের সামনে নওয়াজকে রসিকতা করে প্রশ্ন করেন, এত জনপ্রিয় একজনকে আপনার দলে টানেন না কেনো? জবাবে নওয়াজ শরীফ ইমরান খানের পিঠ চপড়ে বলেন, আরো দুই বছর আগে আমি তাকে অফার দিয়েছি।  কেনো জানি না সে রাজি হয়নি।  আমার অফার এখনো আছে।  ইমরান নিজের পথ নিজেই বেছে নিয়েছেন।  আর দুই দশক পর সেই নওয়াজ শরীফের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইমরান খান। 

মধ্য-ডানপন্থী রাজনীতি বেছে নেন ইমরান খান।  কিন্তু তার রাজনৈতিক পথ নিয়ে বেশিরভাগ মানুষই দ্বিধার মধ্যে ছিলো।  কারণ, তিনি সভা-সমাবেশগুলোতে উপস্থিত শ্রোতাদের বিবেচনা করে  ক্ষণে ক্ষণে তার মত বদলাচ্ছিলেন।  তার দল তরুণদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছিল।  এছাড়া শহুরে মধ্যবিত্তদেরও নাড়া দিয়েছিল।  তারা তিনটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধীরে ধীরে মোটামুটি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।  সন্ত্রাসবাদ এখনো পাকিস্তানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।  আর এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইমরান খান অভিনব পন্থায় নামেন।  হাজারো সমালোচনার পরেও তিনি তালেবানের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেন।  এজন্য তাকে ‘তালেবান খান’ নামেও ডাকতে ছাড়েননি তার বিরোধীরা। 

এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলছিলেন, আফগানিস্তানে ‘শান্তি’ ফিরলে পাকিস্তানের লাভ।  এখন আমরা কীভাবে শান্তি আনতে পারি।  আমার মত হয়- যুক্তরাষ্ট্র যা করেছে তা একেবারেই ভুল।  তারা শুধুই মিলিটারি ফোর্স ব্যবহারের পলিসি নিয়েছে। 

খায়বার পাখতুন খাওয়া প্রদেশে তার দল সরকার গঠনের পর প্রতিশ্রুতির অনেক কিছুই পূরণ করতে পারেনি।  কিন্তু শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দৃশ্যমান সংস্কার হয়েছিল। 

ক্রিকেটার ইমান খানের ক্রেজ তখন শুধু পাকিস্তানই নয়, ছিল পুরো বিশ্বে।  বিশ্বকাপ নিয়ে দেশে ফেরার পর লাখ লাখ পাকিস্তানি বিমানবন্দরে তাকে রিসিভ করতে যান।  ২০১৮ সালে এক নির্বাচনী জনসভায় ইমরান খান বলেছিলেন, বিশ্বকাপ জিতে আসার পর জনগণের ভালোবাসা দেখে আমি চিন্তা করেছিলাম, এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে হবে।  এই ভালোবাসার বিপরীতে একটা বিশ্বকাপ কিছুই না।  এজন্যই আমি রাজনীতিতে এসেছি।  মানুষের জন্য কিছু করার জন্য। ’

ওই ভাষণে তিনি আরো বলেছিলেন, আমি ছোট বেলায় মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার সময় দেয়ালে তারকা ক্রিকেটারদের ছবি দেখে ভাবতাম একদিন বিশ্বসেরা ক্রিকেটার হবো।  আমি পরিশ্রম করেছি এবং আল্লাহর কাছে চেয়েছি।  আল্লাহ আমাকে বিশ্বসেরা ক্রিকেটার বানিয়েছেন।  আমার মা ক্যান্সারে মারা যাওয়ার পর আমি দেশের সেরা ক্যান্সার হসপিটাল বানাতে চেয়েছি।  আমার কাছে অত অর্থ ছিল না।  আল্লাহর রহমতে আমি সেটাও করেছি।  আমি পাকিস্তানের জন্য কিছু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছি।  এজন্য পরিশ্রম করছি।  আল্লাহ নিশ্চয়ই আমার চাওয়া পূরণ করবেন। ’

পাকিস্তানে আগে থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিষ্ঠিত ছিল।  আর তাই জনগণের মধ্যে নতুন করে জায়গা করে নেয়া সহজ ছিলো না।  প্রথম নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইমরান খান বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পান। 

‘১৪ বছর পর আমার মনে হতে লাগলো, জনগণ আমার কথা শুনতে শুরু করেছে।  মানুষের আমাদের সমাবেশে আসতে শুরু করে।  আমার দল বড় হতে থাকে।  শুধু লোক জড়ো করলেই তো হয় না।  আমার বানাতে হচ্ছিলো নির্বাচনে জেতার মতো একটা দল। ’ বলছিলেন ইমরান খান। 

এজন্য ইমরান খানের মোক্ষম অস্ত্র হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জলের মতো ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতি।  তিনি এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।  যা মধ্যবিত্তের মধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। 

সরকার পরিচালনা এবং কূটনীতিতে তিনি খুব একটা অভিজ্ঞ নন।  কিন্তু নিজের পথে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।  তিনি বলেন, পাকিস্তান থেকে দুর্নীতি ধুয়ে মুছে দিবেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনবেন এবং তরুণদের জন্য চাকরির ভালো সুযোগ তৈরি করবেন।  এছাড়া কৃষি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ইমরান খান।  ট্যাক্স আদায়ের খাত আরো বিস্তৃত করতে চান। 

ইমরান খানের দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।  সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করা এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতের কথা বলা আছে এতে। 

২০১৭ সালে দুর্নীতির দায়ে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা প্রধান নওয়াজ শরীফের রাজনীতির মাঠ হাতছাড়া হয়ে যায়।  এতে তিনি দশ বছরের শাস্তি ভোগ করছেন।  যা তখনকার বিরোধী নেতা ইমরান খানকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসে।  নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে তার দল।  ২২ গজের অধিনায়ক রাজনীতি শুরু ২২ বছর পর পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

পাকিস্তানের কোনো রকস্টার নেই।  তবে তাদের আছে ইমরান খান।  তারকা ক্রিকেটার, প্লেবয় এবং রোল মডেল।  বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী।  সন্ত্রাসে জর্জরিত দেশটির অর্থনীতি খাদের কিনারে।  নিরাপত্তার অভাবে বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না।  রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে।  দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশ ছুঁতে চলেছে।  জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।  তারপরেও আশা একটাই- ইমরান খান।  হার না মানা লায়ন কিংয়ের ভরসায় দেশটির জনগণ।