৭:০১ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | | ৬ সফর ১৪৪০


শুক্রবার রাতে শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ

২৭ জুলাই ২০১৮, ০৬:২৩ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : এই শতাব্দীতে (২০০১ থেকে ২১০০ সাল) এমন মহাজাগতিক ঘটনা আর ঘটবে না।  আসছে ভরা পূর্ণিমায় ‘আত্মজা’ চাঁদকে শতাব্দীর দীর্ঘমেয়াদি অন্ধকারে ঢেকে দেবে পৃথিবী! পৃথিবী পৃষ্ঠের দর্শকের কাছে চাঁদ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যাবে।  এটাই চন্দ্রগ্রহণ। 

শুক্রবার তেমনই ঘটনা ঘটবে।  তবে আজকের চন্দ্রগ্রহণে পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সময় হবে এক ঘণ্টা ৪৩ মিনিট। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ডে উপচ্ছায়ায় চাঁদ প্রবেশ করবে।  কেন্দ্রীয় গ্রহণ হবে রাত ২টা ২১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে ভারত মহাসাগরের মৌরিতাস দ্বীপের পোর্ট লুইসের উত্তর-পশ্চিম দিকে।  সেখানে গ্রহণে মাত্রা হবে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৬১৪।  উপচ্ছায়া থেকে চাঁদ বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ শেষ হবে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে। 

আবহাওয়া বিজ্ঞানী আব্দুল মান্নান জানান, আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে বাংলাদেশ থেকে গ্রহণটি পুরোপুরি খালি চোখেই দেখা যাবে।  দেখতে পারবেন এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপের মানুষও।  এতে চোখের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।  ১০৪ বছর পর এই লং টাইম গ্রহণ হচ্ছে।  এত দীর্ঘ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে হয়তো আবার শত বছর অপেক্ষা করতে হবে, জানান ওই আবহাওয়া বিজ্ঞানী।  বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি সূত্র জানায়, শুক্রবার টানা প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে হবে চন্দ্রগ্রহণ।  অন্তত পৌনে দুই ঘণ্টা (১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট) ধরে চাঁদ পুরোপুরি ঢেকে যাবে পৃথিবীর ছায়ায়।  আর তার আগে ও পরে দু-দুবার হবে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ।  দুটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণই হবে ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট ধরে।  যার মানে, পূর্ণ আর আগে-পরের দু-দুটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ মিলে মোট ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট (১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট + ১ ঘণ্টা ৬ মিনিট) আলো-আঁধারিতে ঢাকা থাকবে চাঁদ। 

মঙ্গলগ্রহ আরও উজ্জ্বল দেখাবে

প্রতিবেশী ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলও শুক্রবার পৃথিবীর খুব কাছে এসে পড়বে।  কারণ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ওই দিনই পৃথিবীকে মাঝখানে রেখে সূর্যের ঠিক উল্টো দিকে চলে যাবে মঙ্গল, যেখানে আর ১০০ বছরের মধ্যে ‘উপনিবেশ’ বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মানবসভ্যতার।  ফলে ২৭ জুলাই সন্ধ্যা থেকে ২৮ জুলাই (শনিবার ভোর) পর্যন্ত মঙ্গলকে জ্বলজ্বল করতে দেখা যাবে আকাশে।  গ্রহণের রাতে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়লে মঙ্গলকে আরও ভালোভাবে নজরে পড়বে।  সেদিন পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব হবে প্রায় ৫ কোটি ৭৬ লাখ কিলোমিটার। 

কেন দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ?

বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সোসাইটির মতে, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার (অনেকটা ডিমের মতো) কক্ষপথে পাক খায় চাঁদ।  পৃথিবীকে একবার পাক খেতে তার গড়ে সময় লাগে সাড়ে ২৭ দিন।  আর যেহেতু চাঁদ অনেকটা ডিমের মতো কক্ষপথে পাক মারে পৃথিবীকে, তাই ওই সাড়ে ২৭ দিনের মধ্যে চাঁদ একবার পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসে।  আর তার পর একবার সবচেয়ে দূরে চলে যায়। 

এ সময় চাঁদ আর পৃথিবীর মধ্যে দূরত্বটা যখন সবচেয়ে কমে যায়, তখন সেটাকে বলে ‘অনুভূ’ (এপিজি) অবস্থান।  আর পৃথিবী ও চাঁদ যখন একে অন্যের থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে, সেই অবস্থানকে বলে ‘অপভূ’ (অ্যাপোজি) অবস্থান।  ২৭ জুলাই সেই ‘অ্যাপোজি’-তেই থাকবে চাঁদ ও পৃথিবী। 

জ্যোতির্বিজ্ঞানী এসআর সরকার জানান, পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয় কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ, সূর্য আর পৃথিবী একই সরলরেখায় এসে পড়লে।  চাঁদ আর পৃথিবী কারোই নিজের আলো নেই।  সূর্যের আলোতেই তারা আলোকিত হয়।  সূর্য আর চাঁদের মাঝে তাই পৃথিবী এসে পড়লে মুখ ঢেকে যায় চাঁদেরÑ ফল চন্দ্রগ্রহণ।  কেন শতাব্দীর দীর্ঘতম হচ্ছে এ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ? জানতে চাইলে তিনি জানান, সূর্যের আলো পৃথিবীর ওপর পড়লে তেমনই একটি প্রচ্ছায়া কোণের (আমব্রাল অ্যাঙ্গেল) সৃষ্টি হয়।  কক্ষপথে পাক মারতে মারতে চাঁদ যখন সেই প্রচ্ছায়া কোণটির ঠিক মাঝামাঝি অংশটি দিয়ে যায়, তখন চাঁদের গতি মন্থর হয়ে যায়।  ফলে পৃথিবীর প্রচ্ছায়া কোণের ঠিক মাঝখানের অংশটিকে অতিক্রম করতে চাঁদের সময় লাগে অনেক বেশি।  ঠিক সেই কারণেই শতাব্দীর দীর্ঘতম হচ্ছে এ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। 

দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্রগ্রহণের পরিসংখ্যান

এর আগে ২০০০ সালের ১৬ জুলাই এক ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ধরে চলেছিল পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।  তার ১১ বছর পর, ২০১১ সালের ১৫ জুন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট ধরে।  এবার সব ‘রেকর্ড’ ভেঙে চন্দ্রগ্রহণ হবে প্রায় ৪ ঘণ্টা অর্থাৎ ৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটের।  ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি হবে আরও একটি পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।  তবে তা বাংলাদেশে দৃশ্যমান হবে না। 

যখন চন্দ্রগ্রহণ আর দেখা যাবে না

এমন দিন আসছে, যখন পৃথিবী থেকে আর দেখা যাবে না সূর্যগ্রহণ।  দেখা যাবে না পূর্ণগ্রাস, খ-গ্রাস, বলয় গ্রাস বা শংকর গ্রাস, কোনোটাই নয়।  চাঁদ দিয়ে সূর্যের মুখ চাপা দেওয়া আর সম্ভব হবে না।  মুখ লুকোতে পারবে না চাঁদও।  তাই সেদিন চন্দ্রগ্রহণও আর দেখা যাবে না আমাদের এ পৃথিবী গ্রহ থেকে। 

চাঁদের বিরল এমন মুহূর্ত দেখতে ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি বরাবর একটি শিবিরের আয়োজন করলেও এবার তা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কর্মকর্তা আহমেদ মিম।  তবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পূর্বাচলের স্বর্ণালি আবাসিক এলাকার ল্যাবএইড প্রজেক্ট মাঠে একটি শিবির স্থাপনের চেষ্টা করছে। 


keya