৮:০৩ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

শেখ হাসিনা : জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার নেত্রী

২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:১৭ এএম | নিশি


এসএনএন২৪.কম :  শত বছরের শত শোষণ, শাসন-বঞ্চনা থেকে বাঙালী জাতিকে মুক্ত করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।  তার সারাটা জীবন বাংলার দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য উৎসর্গ করেছেন।  তিনি কখনো কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি।  সেই কারণেই তিনি বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিতে পেরেছিলেন আমাদেরকে। 

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর অল্প কিছুদিন এই দেশের জন্য কাজ করতে পেরেছিলেন।  একটি নবজাতক শিশু যেমন জন্মের পরে তার বাবা-মায়ের পরম স্নেহ মততায় লালিত পালতি হতে থাকে তেমনি বাংলাদেশকেও পরম মততায় আগলে রেখেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।  বাংলাদেশের সব অর্জনই বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে আসে।  সশস্ত্র জনযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন করা বাংলাদেশেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি করার জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করতে থাকেন বঙ্গবন্ধু।  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। 

যেখানে সব মানুষের মৌলিক সব চাহিদা পূরণ করবে রাষ্ট্র।  বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে না দাঁড়াতে পারে সেই কারণে ’৭১ এর পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে।  জাতির চরম দুর্ভাগ্য যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে ঘাতকদের হাতে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হোন।  জাতীয় জীবনে জেকে বসে সামরিক দু:শাসনের জগদল পাথর।  সেইদিন জার্মানী থাকায় বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। 

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে পিছনের দিকে যাওয়ার সব চেষ্টায় করতে থাকে সামরিক শাসকরা।  মানুষের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার হতে থাকে ভুলুণ্ঠিত।  দেশের মানুষকে সামরিক দু:শাসনের কবল থেকে মুক্ত করতে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেন। 

২.
বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থেকে সব চেয়ে লাভবান জেনারেল জিয়া তখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।  দেশের মানুষের তখন কোন ভাত-ভোটের অধিকার নেই।  স্বদেশে ফিরেই শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন।  জনগণের অধিকার আদায় করতে যেয়ে বার বার বাঁধার সম্মুখীন হলেও তিনি তাঁর কর্তব্য থেকে কখনো পিছপা হন নি। 

তাঁর জীবনের ঝুঁকি জেনেও তিনি কখনোই জনগণের সঙ্গে প্রতরণা করেন নি।  জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ৫৫ হাজার বর্গ মাইলের বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গাতে গিয়েছেন।  মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন দু:শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য। 

৩.
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে গণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর।  তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম ‘স্বর্ণ যুগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মত তিনি সেই সময়ে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হন।  দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন।  বাংলাদেশ যোগ্য নেতৃত্ব পেয়ে উন্নয়নের মহাসড়ক বেয়ে এগিয়ে যেতে থাকে সামনের দিকে। 

কিন্তু ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মাধ্যমে দেশকে আবারো এক অন্ধকারের অতল গহব্বরের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।  তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে বেগম খালেদা জিয়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দল জামায়াত নেতাদেরকে মন্ত্রিসভায় স্থান করে দেয়।  দেশ চলতে থাকে উল্টোপথে।  রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিবাদের লালন-পালন চলতে থাকে।  ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে সৃষ্টি করা হয় জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। 

বিএনপি-জামায়াতের প্রত্যক্ষ মদদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করা হয়।  নেতা-কর্মীদের মানব বর্মের কারণে তিনি বেঁচে যান।  বিএনপি-জামায়াতের দু:শাসন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জঙ্গিবাদ এবং অগণতান্ত্রিক সকল আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় রাজপথে থেকেছেন।  জনগণের ভাত-ভোটের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম করে গেছেন। 

৪.
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে জননেত্রী শেখ হাসিনা দিনবদলের ইশতেহার দিয়ে নিরুঙ্কুশভাবে ক্ষমতায় আসেন।  তিনি ঘোষণা করেন ‘রূপকল্প-২০২১’ যেখানে ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।  মাথা পিছু আয় বাড়ার ফলে ২০১৫ সালেই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ম মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।  এখন বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে। 

শুধু মাথাপিছু আয় না, অন্যান্য সকল অর্থনৈতিক নির্দেশকগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের কল্যাণে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যচ্ছে।  বিগত ৮ বছরে বাংলাদেশ জিডিপিতে সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় পদক্ষেপে বিগত ৭ বছরে বাংলাদেশে গড় জিডিপির হার ৬ শতাংশ।  এটা নিঃসন্দেহে একটা অসাধারণ অর্জন, কারণ বিশ্ব অর্থনীতি যখন মন্থর গতিতে চলছে তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে ক্ষিপ্র গতিতে। 


অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সিএনএন মানি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দ্রুত গতির অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির দেশে পরিণত হবে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছে।  আর আইএমএফের পূর্বাভাস মতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে আরও বাড়বে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।  বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন যা দাড়িয়েছে ৩১.২ বিলিয়ন ডলার।  ২০০৬ সালে বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।  অর্থাৎ, বিগত দশ বছরে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে ৮১৮ শতাংশ!

৫.
জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অসামপ্ত কাজকে এগিয়ে নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।  জাতির জনকের স্বপ্ন ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ।  বর্তমানে শেখ হাসিনার সরকার এটা নিশ্চিত করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশে এখন আর কেউ না খেয়ে মারা যায় না।  উত্তরবঙ্গের অভিশাপ মঙ্গাকে জাদুঘরে পাঠিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার।  শেখ হাসিনার সরকার মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে ৫০ দরিদ্র পরিবারকে চাল দিচ্ছে যা কেউ কখনো কল্পনাও করেনি। 

৬.
বর্তমানে দেশে ১৩ কোটি ১ লাখ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে এবং কোটি ৪ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।  উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং সব থেকে বিকাশমান একটি ব্যাংকিং ধারা।  সারা দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ২শ’ প্রকার সেবা পাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ।  তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের কাছে প্রয়োজনী সব সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। 

ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার।  ৭৫ হাজার প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হয়েছে আইসিটি খাতে এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাল্টিমিডিয়া ল্যাবের আওতায় এসেছে।  সকল প্রকার পাঠ্যবই এখন সহজলভ্য ডিজিটাল মাধ্যমে। 

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তার লক্ষ্য পূরণে সফল কারণ স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।  ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার মধ্য মেয়াদী পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫) হাতে নেয় যার সবগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।  রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য সরকার দীর্ঘ মেয়াদী (২০১০-২০২১) পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।  বিগত পাঁচ বছরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার সম্প্রতি সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০) হাতে নিয়েছে।  শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য। 

এই রূপকল্পের মাধ্যমে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে চান।  শেখ হাসিনার বাংলাদেশে অসম্ভব বলে কোন শব্দ নেই।  যত বাধাই আসুক না কেন তিনি তার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে ফোঁছে দিবেন এমনটাই প্রত্যাশা করি তাঁর ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে। 

লেখক: এ্যাডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ
প্রতিষ্ঠাতা, কল্লোল ফাউন্ডেশন।