৩:২৩ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৯ মুহররম ১৪৪০


শট দেখে স্যার পছন্দ করেছিলেন

১১ নভেম্বর ২০১৭, ০১:১১ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: কলসিন্দুর গ্রাম দেশের মহিলা ফুটবলের এক উর্বরা ভূমি।  সেখানকার মেয়েরা পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের চেহারা। 

তাদের সুবাদেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের জয়জয়কার।  সেখান থেকেই উঠে আসা এক কিশোরী গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মাতিয়েছে জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে।  রোজিনা আক্তার তিন ম্যাচে ১৪ গোল করে ভীষণ আলোচনায়।  ময়মনসিংহকে শিরোপা জিতিয়ে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এই ফুটবলার কলসিন্দুর স্কুল ও নিজের সম্পর্কে কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে। 

এসএনএন২৪.কম : চূড়ান্ত পর্বে তিন ম্যাচে ১৪ গোল করেছ।  গোল করা কি এত সহজ!

রোজিনা আক্তার : গোল করা সহজ নয়।  আমি স্ট্রাইকার, জোরে শট করতে পারি।  কাটাতেও পারি, তবে কয়জনকে কাটাতে পারি এখন বলব কিভাবে? মাঠে যখন যে রকম পরিস্থিতি হয় আর কি।  তবে গোল করে ম্যাচ জেতানোর মজা আছে। 

প্রশ্ন : মেসিও তো তোমার মতো এত গোল করতে পারে না!

রোজিনা : (হাসি) মেসি আমার প্রিয় খেলোয়াড়, তাঁর খেলা আমি দেখি। 
তবে আমাকে কেউ মেসি বলে ডাকে না।  শামসুন্নাহারকে এলাকায় মেসি বলে ডাকে, সে মাঝমাঠে খুব ভালো খেলে। 

প্রশ্ন : তুমি স্ট্রাইকার হলে কী করে?

রোজিনা : আমি ফুটবল খেলা শুরু করেছি চতুর্থ শ্রেণি থেকে।  প্রাইমারি স্কুলে আমাদের মফিজ স্যার একবার ডাকলেন, কে জোরে শট নিতে পারে দেখি।  শট দেখে তিনি পছন্দ করেছেন আমাকে।  এরপর তাঁর হাতেই ফুটবল শেখা।  তিনিই আমাদের গ্রামে মেয়েদের ফুটবল শিখিয়েছেন।  প্রাইমারি স্কুলে থাকতে আমি বঙ্গমাতা খেলে একবার সেরা খেলোয়াড় হয়েছি, আরেকবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছি। 

প্রশ্ন : কলসিন্দুর স্কুল তো এ দেশের মহিলা ফুটবলে বিপ্লব ঘটিয়েছে।  ওখানকার অনেক খেলোয়াড় এখন জাতীয় দলে খেলে।  সেই সানজিদারা কি তোমাদের কোনো টিপস দেয়?

রোজিনা : ওরা তো বেশির ভাগ সময় জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকে, তেমন বেশি সময় ওদের কাছে পাই না।  তবে তারা যখন বাড়ি যায় তখন অনেক কিছু ওদের কাছ থেকে শিখতে পারি।  কারণ ওরা ভালো ফুটবল খেলে।  তারা আমাদের অনেক উৎসাহ দেয়। 

প্রশ্ন : অকালপ্রয়াত সাবিনার সঙ্গে কি খেলেছ?

রোজিনা : সাবিনার সঙ্গে আমিও খেলেছি।  তাকে অনূর্ধ্ব-১৫ দলেও ডাকা হয়েছিল।  কিন্তু দুর্ভাগ্য, সে বেঁচে নেই।  এই শিরোপা তার স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেছি আমরা। 

প্রশ্ন : এখন অনূর্ধ্ব-১৪ দলে ময়মনসিংহ দলে।  কোনো স্বপ্ন আছে ফুটবল নিয়ে?

রোজিনা : বয়সভিত্তিক দল পার করে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন আমার।  আমি স্বপ্ন দেখি, জাতীয় দলের সিনিয়র স্ট্রাইকার সাবিনা খাতুনের চেয়ে বেশি গোল করার এবং তাঁর চেয়েও বড় খেলোয়াড় হতে চাই।