৭:৩৬ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার | | ১৩ মুহররম ১৪৪০


শ্বাস রুদ্ধ ম্যাচে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য জয়

১১ মার্চ ২০১৮, ১২:২৫ এএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম :  টি-টোয়েন্টিতে ২১৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই বাংলাদেশের।  আসলে ১৬৪ রানের বেশি লক্ষ্য কখনো সফলভাবে পেরোতে পারেনি টাইগাররা।  নিদাহাস ট্রফিতে মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ফিফটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটের অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।  একই সঙ্গে পরাজয় বৃত্ত ভেঙ্গেছে টাইগাররা। 

এদিন আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা সংগ্রহ করেছিল ৬ উইকেটে ২১৪।  জবাবে ১৯.৪ ওভারে হাতে ৫টি উইকেট অক্ষত রেখেই জয়ের বন্দরে তরী ভেড়ায় মাহমুদউল্লাহ’র বাংলাদেশ  

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয় প্রায় এক বছর আগে।  শ্রীলঙ্কার মাঠেই পাওয়া সে জয়ের পর বাংলাদেশ খুব যে বেশি ম্যাচ খেলেছে তা নয়।  তবু মনে হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয়? আর সেটা এলো কয়েক যুগ-পর। 

টেস্ট, ওয়ানডেতে ভালো কিছু দেখা গেলেও টি-টোয়েন্টি মানেই যেন হারের মহাকাব্য।  আজও প্রথম ওভারের পর আরেকটি হারের গল্প লেখা হবে বলেই মনে হচ্ছিল।  তাসকিনের প্রথম ওভারেই ১৩ রান তোলা শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত করল ২১৪ রান।  রান তাড়া করে যে দলের জয়ের রেকর্ড ১৬৫ রানের সে বাংলাদেশের তাই  শনিবার জয়ের আশাটা ছেড়ে দেয়াটাই ছিল যুক্তিযুক্ত। 

কিন্তু একজন মুশফিকুর রহিম যে ছিলেন উইকেটে।  ২৪ বলে ফিফটি ছুঁয়েই আর দায়িত্ব সারেননি।  ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ম্যাচ যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, ঠিক তখনই এক ছক্কা। 

শেষ ওভারে ৯ রান দূরত্বে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ, স্ট্রাইকে মুশফিক।  প্রথম বলে ২ রান, ৫ বলে ৭! গ্যালারি স্তব্ধ,।  শেষ পর্যন্ত মুশফিকের ব্যাটে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ পেল অসাধারণ এক।  আর এই জয়ে নিদাহাস টুর্নামেন্টে টিকিয়েও রাখলো টাইগারদের। 

বিশেষ করে এদিন বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অকুতোভয়ে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।  তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ঝড়ের পর মুশফিকুর রহিমের হাফসেঞ্চুরিতে নিদাহাস ট্রফিতে প্রথম জয় পেলো তারা ৫ উইকেটে।  ২৪ বলে চারটি চার ও তিনটি ছয়ে ফিফটি করেন মুশফিক, অপরাজিত ছিলেন ৭২ রানে।  মাত্র ৩৫ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছয়। 

১৯.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৫ রান করেছে তারা।  নিদাহাস ট্রফিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে তারা ২১৫ রানের টার্গেট পায়।  ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। 

দুর্দান্ত সূচনার পথপ্রদর্শক তামিম ইকবাল ও লিটন দাস।  তারা শুরু থেকে ঝড় তোলেন।  পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার মাত্র এক বল আগে লিটন এলবিডাব্লিউ হন নুয়ান প্রদীপের বলে।  মাত্র ৫.৫ ওভারে ৭৪ রানের জুটি গড়ে ফিরেন তিনি।  ১৯ বলে ২ চার ও ৫ ছয়ে ৪৩ রানে আউট হন লিটন। 

দলীয় স্কোর ১০০ রান করে দশম ওভারের তৃতীয় বলে থিসারা পেরেরাকে ফিরতি ক্যাচ দেন তামিম।  ২৯ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ৪৭ রানে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার। 

মুশফিকের সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়ে ১৫তম ওভারে আউট হন সৌম্য সরকার।  ২২ বলে ২৪ রান করে নুয়ানকে ফিরতি ক্যাচ দেন তিনি।  মাহমুদউল্লাহ ৪২ রান যোগ করেন মুশফিককে নিয়ে।  তিনি আউট হন ১৮তম ওভারে কুশল মেন্ডিসকে ক্যাচ দিয়ে।  পরের ওভারে সাব্বির রান আউট হন বাজেভাবে। 

শেষ ওভারে ৯ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের।  দ্বিতীয় বলে একটি চার মারার পর দৌড়ে দুটি রান নেন মুশফিক।  এরপর চতুর্থ বলে তার ব্যাটে আসে জয়সূচক রানটি।  শেষ পর্যন্ত ৭২ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম হয়েছেন ম্যাচসেরা। 


keya