১২:৫৭ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


শ্রীপুরে অস্থায়ী জীর্ণ ঘরে চলছে কমিউনিটি ক্লিনিক সেবা

১২ জুন ২০১৮, ০৬:১৯ পিএম | সাদি


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার লোহাগাছ গ্রামে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম চলছে অস্থায়ী জীর্ণ ঘরে।  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়-বৃষ্টি সঙ্গী করে অরক্ষিত ঘরে ৭বছর ধরে এভাবেই চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবা। 

মূল ভবন ভেঙে জীর্ণ-শির্ণ হয়ে গেছে।  অনেকাংশে বড় ফাটল ধরায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।  ফলে দায়িত্বে থাকা সি.এইচ.সি.পি বাধ্য হয়ে যন্ত্রাংশ ও আসবাবপত্রসহ উঠতে হয়েছে মটির ঘরে যার ছাওনী জরাজির্ণ টিনের ।  আর এ অবস্থায় চলছে দরিদ্র প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। 

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে জানা যায়, উপজেলায় কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল ভবন ব্যবহারে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হওয়ায় স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হচ্ছে অস্থায়ী ঘরে ।  এর মধ্যে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিক একটি।  এ ক্লিনিকটির মূল ভবন ভেঙে যাওয়ায় সকল আশবাবপত্র পাশ্ববর্তী একটি মাটির জরাজির্ণ ঘরে সরিয়ে নেওয়া হয়। 

যা পূর্বে একটি পরিত্যাক্ত ক্লাব ঘর ছিল।  গত ৩বছর ধরে সেখানেই চলছে স্বাস্থ্য কার্যক্রম।  মাটির ঘরটি গোরস্থানের পাশে হওয়ায় দুপুরের পর সেখানে কোন লোকজনের চলাচল থাকে না জানায় সখানকার সিএইচসিপি (স্বাস্থ্য সহকারী) । 

১২ জুন মঙ্গলবার  সকাল ১০টায় লোহাগাছ কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় মূল ভবনের পিলার, দেয়াল ও ছাদে ফাটল।  ২০০১সালে প্রতিষ্ঠিত ভবনটিতে ২০১৩ সালে ফাটল দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির আসবাবপত্রসহ ক্লিনিকটি পাশের একটি মাটির জড়াজীর্ণ ঘরে সরিয়ে নেওয়া হয়।  মাটির ঘরটির অবস্থাও খুব নাজুক।  চার পাশে টিনের চালগুলোর কোন কোন অংশ পুরোনো হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ছে প্রায়। 

কমিউিনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা লোহাগাছ গ্রামের মুকুল মুরাদ জানান, এখানে প্রয়োজনীয় ঔষধ থাকেনা ।  এখানে শুধু প্যারাসিটামল ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়না।  আগের ভবনে থাকার সময় এই ক্লিনিকে অনেক ধরনের সেবা পাওয়া যেতো, কিন্তু বর্তমানে ভবন থেকে সরে আসায় সেবার মান অনেকটা ব্যহত।  তার দাবি  সরকারের স্বাস্থ্য সেবার মান আরও বেশি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। 

লোহাগাছ ক্লিনিকে মঙ্গলবার দায়িত্বে থাকা ফারজানা সুলতানা জানান, ভবন সংকটে এভাবেই স্বাস্থ্য সেবা দিতে হচ্ছে।  পরিত্যাক্ত ক্লাবের একটি টিনের ঘরেই আমাদের আশ্রয় নিতে হয়েছে।  ভবন সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমে খুবই সমস্যা হচ্ছে।  এছাড়াও  গত একমাস যাবৎ রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ না থাকায় রোগীদেরকে সঠিক ভাবে সেবা দিতে পারছি না। 

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মইনুল হক খান বলেন, ভবন না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।  পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙে নতুন করে তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন সৈয়দ মোঃ মুঞ্জুরুল হক জানান, এ জেলার অনেকগুলো ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।  এটি বাস্তবায়ন করবে হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট।  পর্যায়ক্রমে সকল ভবনই সংস্কার ও নতুন করে তৈরি করা হবে।  এতো স্বল্প সময়ে ভবনে ফাটল বিষয়ে কোন কথা বলতে চাননি তিনি।