১১:৫৬ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১




শ্রীপুরে এমপির নির্দেশ অমান্য করে কৌশলে পরিবহনে চাঁদা আদায়

০৪ জুলাই ২০১৯, ০৭:২২ পিএম | নকিব


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃগাজীপুরের শ্রীপুরে মাননীয় সাংসদ-এর নির্দেশ অমান্য করে কৌশলে বিভিন্ন  পরিবহনে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

যদিও গাজীপুর-৩ এর মাননীয় সাংসদ মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ এ আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজও মাদকমুক্ত মানবিক উপ শহর  করার ঘোষণা দিয়েছেন।  এদিকে তিনি নির্বাচিত হওয়ার  পরপরই সকল স্থানে  চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়।  

কিন্তু গত কিছুদিন ধরে পুনরায় পরিবহন সেক্টরে নতুন করে কৌশল পাল্টিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ নিয়ে গতকাল (৩জুলাই) মাওনা চৌরাস্তায় পরিবহন ট্রান্সপোর্ট মালিক ও শ্রমীক  ইউনিয়নের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা গেছে ।  

সরেজমিনে ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার পৌর এলাকার মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুরের দুটি স্ট্যান্ড  , গোসিংগা সিএনজি স্ট্যান্ড , সাফারি পার্কে যাওয়ার পরিবহন সেক্টর ইন্দুপপুরসহ কয়েক এলাকায় কৌশলে চাঁদাবাজির এমন চিত্র তুলে ধরেন সেখানকার পরিবহন শ্রমিকরা। 

গোসিংগা ইউনিয়নের সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায়কারী জানান, সিএনজি স্ট্যান্ডে চাঁদা আদায় হওয়া অর্থ মসজিদে দেয়া হয়।  যদিও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণত সম্পাদক মিনহাজ মাস্টার  এমন টাকা গ্রহনের কথা অস্বীকার করেন।  

মাওনা চৌরাস্তা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি গুলোর  মালিকেরা  জানায়, আগে সরাসরি চাঁদা আদায় করা হলেও এখন তা অন্য কৌশলে পরিবহন সেক্টরে চাঁদা আদায় করা হয়।  ১০টাকা মূল্যের প্রতিটি রিসিট দিয়ে আমাদেরকে  কাছ থেকে প্রতিটি রিসিটে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।  প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও জানান তারা।  

গতকাল সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করায় চৌরাস্তায় অবস্থিত  রংপুর ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির চালান বই,রেজিস্ট্রার খাতা ও আরো কিছু প্রয়োজনীয় কাগজ নিয়ে যায় ইউনিয়নের লোকজন। এমন কথা  জানায় ওই এজেন্সির সত্তাধিকারী শ্রী অথিন্দ্রনাথ সরকার। 

মাওনা চৌরাস্তার ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক জামাল উদ্দিন জানান,  বিভিন্ন স্ট্যান্ড ১০ টাকার রিসিট দিয়ে ৩০-১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি গাড়ি থেকে আদায় করা হয়।  কেউ জানতে চাইলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা অস্বীকার করে তারা ওই ১০ টাকার রিসিট দেখায়।  মাওনা চৌরাস্তায় বাসগুলো দাড়ালেই টাকা দিতে হচ্ছে।  অথচ মাননীয় এমপি মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ ভাইয়ের সপ্ন শ্রীপুর হবে মানবিক শহর। 

এ বিষয়ে মাওনা চৌরাস্তা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানান, মাননীয় এমপি মহোদয় নির্বাচনের পূর্বেই চাঁদাবাজ মুক্ত শ্রীপুর ঘোষণা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।  নির্বাচনের পরে উনার নির্দেশে সকল পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়।  এখন এমপি মহোদয়ের নির্দেশ অমান্য করে কৌশলে পরিবহন সেক্টরে এমন চাঁদাবাজি মেনে নেয়া যায় না।  

এবিষয় বক্তব্য নেয়ার জন্য বাংলাদেশ ট্রাক, কভার্ডভ্যান ও পিকাভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের মাওনা শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ কাউন্সিলরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি।  তবে, 

সাধারণত সম্পাদক আঃ ছামাদ মুঠোফোনে জানান, শ্রমীকদের কল্যানে দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ নেয়া হচ্ছে।  উর্দ্বতন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেই এ টাকা তুলা হয়।  কিন্তু নেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা আর রিসিটে লিখা ১০টাকা কেনো-এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর  দিতে পারেননি তিনি।