১২:৫৭ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


শ্রীপুরে পটকা বানানোর সময় ঝলসে গেছে মাদ্রাসা ছাত্রের হাত

১১ জুন ২০১৮, ০৬:১৫ পিএম | সাদি


আলফাজ আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামে ঈদ বিনোদনের লক্ষ্যে বারুদ, কাপড় ও স্কচটেপ দিয়ে তৈরী বিশেষ বস্তু (পটকা) বানানোর সময় বিস্ফোরণে শিমুল ইসলাম শামীম (১১) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের বাম হাত ও হাতের দুই আঙ্গুল ঝলসে গিয়েছে।  পরে আহত এই মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার বেগম আয়েশা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। 

আহত শামীম ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কিসমত বনোগ্রাম এলাকার ফরহাদ মিয়া ওরফে শাহ্ পরানের ছেলে।  শাহ্ পরান পাঁচ বছর যাবৎ ময়মনসিংহ থেকে এসে গাজীপুরের শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের বাদল মিয়ার বাড়িতে পরিবার নিয়ে ভাড়া থেকে স্থানীয় রঙ্গিলা বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করেন।  শামীম কেওয়া পশ্চিম খন্ড গ্রামে (মাওনা বাজার সংলগ্ন) হাজী সাহিদুর রহমান হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। 

সোমবার বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়িতে আসার সময় মুলাইদ গ্রামের কাশেম মিয়ার ছেলে মাজহারুলের বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরে এঘটনা ঘটে।  তবে আহত কিশোর ও তাঁর স্বজনদের দাবী ঈদ বিনোদনের জন্য কয়েকজন মাদ্রাসা পড়–য়া কিশোর বন্ধু পটকা তৈরী করছিলেন।  তবে এ ঘটনায় শামীম আহত হলে তাঁর অন্য বন্ধুরা দ্রæত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। 

আহত শামীমের তথ্য মতে, সে মাদ্রাসা থেকে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে বাড়ি আসছিলেন, এসময় মুলাইদ (রঙ্গীলা বাজার) গ্রামের কাসেম মিয়ার ছেলে স্থানীয় হাজী নিয়ামত আলী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র তাঁর বন্ধু মাজাহারুলদের বাড়িতে যায়।  সেখানে পূর্বে থেকে মাজহারুল ছাড়াও মাদ্রাসার আরো ২ ছাত্র বাবু ও আশরাফুল একটি পরিত্যাক্ত ঘরে বসে স্কচটেপ, বারুদ ও কাপড় দিয়ে বিশেষ ধরনের বস্তু তৈরী করেন। 

এসময় তাঁরা তাকে জানান ঈদের সময় এ ককটেল দিয়ে বিনোদন করবেন।  পরে তাঁরা তাকে বানানো ওই বিশেষ বস্তুতে চাপ দেয়ার জন্য বললে সে চাপ দেয়, এসময় তা বিস্ফোরণ হলে তাঁর হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। 

আহত শামীমের বাবা শাহ পরাণ জানান, সে সকাল থেকে রঙ্গীলা বাজারের দোকানে ব্যবসার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।  শামীম সকালেই মাদ্রাসায় চলে যায়।  পরে বেলা ১১টার দিকের স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাঁর রক্তাক্ত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তা বেগম আয়েশা হাসপাতালে আনা হয়। 

বেগম আয়েশা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সেলিম বলেন, ছেলেটিকে হাসপাতালে আনার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।  তাঁর বাম হাত ও হাতের দুটি আঙ্গুল বড় ধরনের আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।  তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে ঈদ বিনোদনের লক্ষ্যে এলাকার কয়েকজন কিশোর পটকা জাতীয় বিশেষ বস্তু তৈরীর করার সময় তা বিস্ফোরণ হয়।  এতে শামীমের বাম হাত আঘাতপ্রাপ্ত হয়।  তবে ঘটনার সাথে অন্য কিছুর জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত করা হবে।