৮:৩৭ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

১২ জুন ২০১৮, ০৪:২৯ পিএম | সাদি


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকেরা। 

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নতুনবাজার এলাকায় ও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মূলাইদ এলাকায় এ বিক্ষোভ হয়।  এতে দুই স্থানে মোট এক ঘন্টা মাহসড়ক অবরুদ্ধ থাকে বলে জানায় পুলিশ।  এ সময় দুই পাশে অন্তত ৯কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। 

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার মূলাইদ এলাকায় প্যারাডাইস ইলেকট্রনিক্স কারখানার প্রায় ৪শত শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।  তারা জানায়, গত ৩মাসের ওভারটাইম ও সর্বশেষ মে মাসের বেতন-বোনাস পরিশোধ করছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ।  এ নিয়ে মোট ৩দিন বেতন দেওয়ার তারিখ দিলেও এখন পর্যন্ত বেতন পাননি কারখানার ৩শত শ্রমিক।  ফলে বিক্ষোব্ধ হয়ে তারা মহাসড়কে নেমেছেন। 

প্যারাডাইস ইলেকট্রনিক্স কারখানার শ্রমিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঈদে পরিবারের সদস্যদের কেনা-কাটা ও ঈদ সামগ্রীর জন্য আমরা মালিকের কাছে আমাদের বকেয়া বেতন চেয়েছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতনতো দেয়নাই বরং চলতি মাসের বেতন দিতেও গড়িমসি করছে। 

এ দিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বেড়াইদেরচালা গ্রামের ওয়েস্টারিয়া টেক্সটাইল কারখানার প্রায় আড়ইশ শ্রমিক তাদের বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে।  তারা বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কে অবস্থান নেয়।  এ সময় অন্তত ৮টি গাড়ী ভাংচুর করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।  পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।  

শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান মল্লিক জানান, দুপুর ২টা নাগাত মূলাইদে প্যারাডাইস ইলেকট্রনিক্স কারখানার আন্দোলনরত শ্রমিকেরা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে আলোচনায় বসেছেন। 

পুলিশের অপর উপ-পরিদর্শক(এসআই) জামিল উদ্দিন রাশেদ জানান, নতুনবাজারে সড়কে বাস ভাংচুর করায় তাদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।  সেখানেও মালিক পক্ষের সাথে বেতন পরিশোধ করা নিয়ে আলোচনা চলছে। 

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ গাজীপুরের গিভেন্সী ক্যাম্পের ইনচার্জ ইস্কান্দর হাবিব বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ সকল পাওনাদি পরিশোধের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে মালিক পক্ষের আলোচনা চলচ্ছে।  বর্তমানে দুই স্থানেই পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।