৬:০৫ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ মুহররম ১৪৪০


কৃষি বিভাগের নজর কম

শ্রীপুরে সোনালী ধান ক্ষেতে নেক ব্লাস্টের হানা

১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:১০ পিএম | সাদি


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুরে কৃষকের সোনালী ধানের জমিতে ফলন ঘরে তোলার আগ মুহুর্তে নেক  ব্লাস্টের (ধানের গলা পচা রোগ) প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।  স্থানীয় কৃষি বিভাগের লোকজন মাঝে মধ্যে মাঠে থেকে নানা পরামর্শ দিলেও কৃষকের দুশ্চিন্তা কাটছে না। 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রোরো মৌসুমে শ্রীপুরের একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে ১২১৯০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।  এ মৌসুমে ধানের ভাল ফলন হলেও হঠাৎ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।  এ রোগটি মূলত একধরনের ছত্রাকবাহী, মাঝে মধ্যে বীজ থেকেও তা দেখা দেয় ।  ধান গাছকে তিন ভাবে আক্রমন করে থাকে নেকব্লাস্ট নামের রোগটি, প্রথমে পাতায় পরে কান্ডে ও সর্বশেষ গাছের ঘাড়ে।  তবে সর্বশেষ স্তরের আগে এ রোগটি দেখা দিলে দমন করা সম্ভব।  এ ছাড়াও ধানের জমিতে এ রোগটি দেখা দেয়ার সাথে সাথে দমন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ করলে রোগটি থেকে ধানের গাছকে রক্ষা করা যায়। 

প্রতিকূল আবহাওয়াও এ রোগটি বেড়ে উঠার ক্ষেত্রে সহায়তা করে।  চলতি মৌসুমে শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া, তেলিহাটি, গোদারচালা মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রাম, রাজাবাড়ি, লোহাগাছ ও প্রহলাদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশী দেখা দিয়েছে। 

টেংরা গ্রামের দরিদ্র রিক্সাচালক আব্দুল হামিদ জানান, আমি ৩৫ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান চাষ করেছি।  কিন্তু হঠাৎ দেখি ধানের শীষ সাদা হয়ে গেছে।  পরে কৃষি বিভাগের লোকজন ঔষধ লিখে দিলে তা স্প্রে করেছি।  কিন্তু তাও বন্ধ হয়নি।  কয়েকদিনের মধ্যে তাঁর পুরো ধান ক্ষেত সাদা হয়ে গেছে। 

লোহাগাছ হাজী শাহাব উদ্দিন মোল্লা জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ মতে ছত্রাকনাশক ছিটিয়েও ধান গাছকে রক্ষা করা যাচ্ছে না।  সব ধানের জমিতে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। 

একই গ্রামের বিল্লাল হোসেন জানান, অনেক কষ্ট করে ধার দেনার মাধ্যমে তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলেন, কিন্তু এ রোগে তাঁর পুরো ধান ক্ষেতেই চিটা বের হচ্ছে।  সামনে এখন শুধুই অন্ধকার। 

প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের কৃষক মোতাহার হোসেন জানান,ধানের পরিচর্যা শেষ করে যখন কৃষক নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন, তখনেই দেখা গেল ধানের শীষ গুলোতে থাকা ধানগুলো চিটা হয়ে যাচ্ছে।  পরে জানতে পারলেন এটি নেকব্লাস্টের আক্রমন। 

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুয়ীদ উল হাসান জানান, বৈরী আবহাওয়া যেমন দিনে গরম ও রাতে ঠান্ডার ফলে ধান চাষের শেষ মুহুর্তে এ রোগটি দেখা দিয়েছে।  যদিও তা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।  স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে কৃষকের ধান গাছ রক্ষায় মাঠে থেকে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।