৮:০৫ এএম, ২২ নভেম্বর ২০১৭, বুধবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

শরীর প্রদর্শন না করানোটাই মুসলিমদের দোষ

০১ অক্টোবর ২০১৭, ০৪:২৮ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : এরা দাঁড়ি রাখে, টুপি মাথায় দেয়, নীতির কথা কয় এ দোষ তো যেমন তেমন, মেনে নেয়া যায়
কিন্তু মুসলিমরা যে শরীর দেখায় না এটাই তাদের বড় দোষ ! পশ্চিমা বিশ্বের রাস্তাঘাটে যখন নগ্নতার ফেরিওয়ালাদের লাইভ দৃশ্যের দেখা মেলে তখন মুসলিম নারীরা বিশাল আলখাল্লা টাইপের পোশাক পরিধান করে, মাথায় হিজাব চাপিয়ে চলাফেরা কেন করবে ?

প্রাচ্যে বসে পশ্চিমের কথা বলেই বা কি লাভ, এখানেও কি কম হয় ? কেন বোঝা যাবে না বয়সে ওরা ষোড়শী নাকি ষাটদর্শী ! এসব দোষেই বিশ্বব্যাপী কোনঠাসা মুসলিম সমাজ ।  ওরা ভাবছে, মুসলিমরা বোধহয় চিন্তা-চেতনায় এখনো
মধ্য যুগেই আটকে আছে অথচ আধুনিকতা যে নগ্নতা নয় সেটা মদের নেশায় বুদ হওয়া জনগোষ্ঠীকে কে বোঝানোর সাধ্য রাখে ?

মুসলিম মার্কা কারো নাম হলেই হইছে ।  তার আর দোষের অন্ত নাই ।  তাদের জন্য মানবতার বালাই নাই ।  মুসলিম নারী-শিশুদের হত্যা করতে পাপ নাই ।  ইসলাম বোধহয় একমাত্র ধর্ম যে ধর্মের সম্প্রসারণশীলতায় বিশ্বের বাকি গোটা ধর্মকূল কম্পমান ।  আস্তিক-নাস্তিক ত্রস্থ ।  তাইতো দেখা হয়, একমাত্র এবং কেবলমাত্র ইসলাম ধর্মকে নিভিয়ে দিতে এবং গোটা মুসলিম সমাজকে কোনঠাসা করে রাখতে অবর্ণনীয় হত্যা-নির্যাতন চলছে বিশ্বব্যাপী । 

সকল ধর্ম ও অধর্ম একাট্টা হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে (বিস্তারিত জানতে পড়ুন-যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক স্যামুয়েল পি. হানটিংটনের ‘The Clas of Civilizations? The Next pattern of Conflict’ শিরোনামের প্রবন্ধটি)।  যেখানেই হোক আর যে নীতিতেই হোক, ইসলাম ও মুসলমানদের দমাতেই হবে ।  এদের শেষ চিহ্ন পর্যন্ত মিটিয়ে দিতে হবে ধূলার পৃথিবী থেকে ।  অথচ তারা ভুলে গেছে, যে রীতির আলোর ধারক কোন সাধারণ ব্যক্তি নন তাকে নিভিয়ে দেয়া কি এতো সহজ ?

কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুসলিমদেরও দুর্ভাগ্য, কেননা এ সম্প্রদায়েও এমন কিছু কুলাঙ্গারের জন্ম হয়েছে যারা ফেরকাবাজ ।  যাদের কাছে ধর্মের চেয়ে দল বড় ।  দলের চেয়ে গদি বড় ।  ইহুদী-নাসারার দালাল হিসেবে পরিচিত হতে এরা গর্ববোধ করে ।  শাস্তিও পাচ্ছে ঠিকছে, এমন জাতির হাতে মার খাচ্ছে যারা অতীতে মুসলিমদের দাস-দাসীর গর্ভজাত।   লাঞ্ছনা-অবজ্ঞাও জুটছে । 

যতদিন ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের কোলে মুসিলমরা নিজেদের সমর্পিত করতে না পারবে, ভ্রাতৃত্বের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হবে ততোদিন এমন বেহাল দশা চলতেই থাকবে ।  ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব হবে, হবে রক্তারক্তি ।  অথচ মুসলমানরা আজ ভুলে গেছে, ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ হলে তাতে কেউ জিততে পারে না বরং ক্ষতি হয় উভয়ের ।  মধ্য থেকে চরমশত্রুরা এসে তাদের উদ্দেশ্য সফল করে দূরে দাঁড়িযে ক্রুর হাসে । 

ইসলাম কখনো সংখ্যাতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল না বরং গুণজ্ঞতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল ।  অথচ জাতিগত অনৈক্যের কারনে মুসলিমদের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে বটে কিন্তু নির্যাতিত-নিপীড়িত হওয়ার আধিক্যও সমানে বর্ধমান ।  ইহুদী-নাসারার জোট গোটা বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করছে, স্বভূম থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে অথচ মুখের প্রতিবাদ প্রকাশেও দেখাচ্ছি কার্পণ্য ।  মুসলিমদের শিশু সন্তান খুন হচ্ছে, কন্যা-বধূরা ধর্ষিতা হচ্ছে আর কেউ তামাশা দেখছে ।  এসব বন্ধ করার কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে চাঁদা তুলে ট্রাকে করে খাবার নিয়ে দৌড়াচ্ছে ।  আমরা মানবেতরদের সেবা করার সুযোগ পেয়ে জান্নাতের ঘ্রাণ নাকের কাছে টেনে আনছি(!) কিন্তু এটাই কি সমাধান ? এভাবে কতদিন পারা যাবে ?

গোটা বিশ্বব্যাপী দেখুন, মুসলিম ছাড়া অন্যসকল ধর্ম-অধর্মের অনুসারীরা মুসলিমদের দমনে ঐক্যজোট হয়েছে ।  ইসলামের উদারনৈতিক সম্প্রসারণনীতি দেখে তারা তাদের বাবা-দাদার ধর্ম বিশ্বাস পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে টিকে থাকবে কিনা এ নিয়ে ভয়াবহ রকমের সন্দিহান ।  কাজেই যে কোনভাবে ইসলাম ও মুসলিমদের নীতিহারা করার মাধ্যমেই তাদের উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব ।  গোটা বিশ্বব্যাপী তাদের কৌশল অনুযায়ী কাজ শুরু হয়ে গেছে । 

আরা মুসলিমরা সে ফাঁদে পা বাড়িয়ে সব হারাচ্ছে ।  যে ইসলামী আদর্শের তীব্র দাপটে একদিন অন্য ধর্ম প্রকম্পিত ছিল সে সুদিন হারিয়ে এখন অন্যদের দাপটে ইসলামী আদর্শের চর্চা নিভূ নিভূ পর্যায় ।  মুসলিমদের মধ্যে এখন কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানুষের মাঝে মুসলিমের সংখ্যার অনুপাত বাড়ানো ছাড়া অন্যকোন আদর্শিক চর্চা খুব বেশি পরিলক্ষিত নয় ।  কাজেই নিজেদের দোষে যারা বারবার গর্তে পরে তাদের উদ্ধারের জন্য প্রভূ খুব বেশিবার এগিয়ে
আসেন না; হোক সেটার সবটাই সত্য । 

অসাম্প্রদায়িকতার নামে মুসলিম আজ এতো বেশি উদার যেখানে আর হালাল-হারামের বালাই নাই ।  দেহের যে রক্তকণা হারামের সংশ্লেষণে সৃষ্টি তার শক্তিতে নীতি-আদর্শ বিরাজিত থাকবে এটা শয়তানও বিশ্বাস করে না ।  মুসলিমদের সোনালী সুদিন আজ দূর অতীত ।  মহররমের শিক্ষা এ জাতিকে এখন আর আলোড়িত করে বলে মনে হয় না ।  ঐ একদিনের জন্য কেবল মাতম ওঠে আর বাকীদিনগুলো মানসিকভাবেই প্রস্তুতি নেয়া হয় মার খাওয়ার জন্য কিংবা ইসলামের শত্রুদের ভৃত্যের ভূমিকা পালনেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় ।  এ জাতি এখন বিড়ালের মত দীর্ঘকাল বেঁচে থাকায় সাধ পেয়েছে কাজেই সিংহের মত বাঁচার তৃপ্তি এদের উপলব্ধির ক্ষমতার বাইরে ।  কাজেই এখন শুধু অপেক্ষা, দুঃসহ থেকে আর দুঃসহ দিনের । 

রাজু আহমেদ ।  কলামিষ্ট । 
fb.com/rajucolumnist/