৮:৪০ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২২ সফর ১৪৪১




শিল্পকলায় এশিয়ার চারুকলা

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪.কম : রং তুলির আঁচর, এক একটি  ফ্রেম।  কথা বলে ইতিহাস ঐতিহ্য ও সহস্রাব্দপ্রাচীন  সংস্কৃতির।  আপাতদৃষ্টিতে এসব প্রাণহীন হলেও গভীরতর দ্যোতনা বিবেচনায় নিলে এগুলোর মধ্যে প্রাণের সন্ধানও মিলতে পারে।  এমনি সব শিল্পকর্ম উপস্থাপিত হয়েছে বাংলদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়।  এখানে তাদের আয়োজনে চলছে দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী।  এতে আছে চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য, স্থাপনাকর্ম আর ডিজিটাল শিল্পকর্ম। 

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত গ্যালারি ঘুরে ঘুরে দর্শক দেখছেন এসব শিল্পকর্ম।  দর্শক যে শুধু দেখেই ক্ষ্যান্ত তা কিন্তু নয়।  দুর্লভ ও নান্দনিক স্থাপনা কর্মের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত অনেকেই।  ক্যামেরা আর মোবাইলের মুহুর্মুহু ক্লিক।  ফ্রেমের সঙ্গে ফ্রেম বন্দি করে রাখছেন দর্শক।  অনেকে আবার স্থাপনা কর্মের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ছবি তুলছেন। 

প্রদর্শনীর এক একটা গ্যালারি এক একরকম দৃশ্য, এক একরকম বিষয়বস্তু।  যেন জীবনের কোনো কিছুই বাদ যায়নি এসব শিল্পকর্মে।  রয়েছে অনেক জীবন্ত শিল্পকর্ম।  মানুষ, পশুপাখি, জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ, প্রকৃতি, বিশ্বম-লী, আবেগ, অনুভূতি, হাসি-কান্না, দৈনন্দিন জীবনাচরণ সবই এখানে উপস্থিত।  এখানে ছায়াও যেন কথা বলছে। 

রঙের খেলা, আলোর খেলা, শব্দের খেলায় মাতিয়ে তোলা অনেক চিত্রকর্ম।  কাঠ, মাটি, পাথর, ইস্পাত, লৌহ, তাম্র, পিতল, ব্রোঞ্জসহ বিভিন্ন ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে স্থাপত্যশিল্প।  আমাদের সাধারণ চোখে যা তুচ্ছ, যা দেখতে পারে না।  শিল্পীর চোখে, শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে তা এক জীবন্ত শিল্প। 

গ্যালারিগুলো ঘুরে দেখতে দেখতে কখন যে অনেকটা সময় পার করে ফেলেছেন তা বুঝতে পারবেন না।  একটি শিল্পকর্ম আমার চোখ-মনকে স্থির করে দিবে।  ভাবনার জায়গা করে দিবে। 

কথা হয় গ্যালারির একজন দর্শক সাদিয়া মৌরির সঙ্গে।  তিনি বলেন, ‘এসব দেখা আমার জীবনের বড় সৌভাগ্যের বিষয়।  এখান থেকে এশিয়ার অনেক শিল্পীর কাজ দেখার সুযোগ হলো। ’

ডিসেম্বরের প্রথম দিনে শুরু হওয়া প্রদর্শনীর পর্দা নামবে একেবারে মাসের শেষ দিনে।  এতে ৫৫টি দেশের অংশগ্রহণ করেছে।  বাংলাদেশের এটি ১৭তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী।  এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে এ প্রদর্শনী যাত্রা শুরু করে ১৯৮১ সালে। 

প্রদর্শনীর জন্য বাংলাদেশ থেকে ৫৫৬ জন শিল্পীর মধ্যে বাছাই করে ১৪৮ জন শিল্পীর ১৫৪টি শিল্পকর্ম নেওয়া হয়।  একই সঙ্গে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ৫৪ জন আমন্ত্রিত চিত্রশিল্পীর ৫৪টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে।  আরো আছে এশিয়ার ৫৪টি দেশের ১২৭ জন শিল্পীর ২৭৮টি শিল্পকর্ম।  অংশগ্রহণকারী দেশগুলো থেকে শিল্পী, শিল্প, সমালোচক, মিউজিয়াম কিউরেটসহ মোট ১৪৬ জন বিদেশি এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে। 

এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পকর্মের মধ্য থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও ৯ জন শিল্পীকে পুরস্কার দেওয়া হবে।  এর মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের ৩টি গ্রান্ড পুরস্কার এবং ৩ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি সম্মানসূচক পুরস্কার।  পুরস্কারের জন্য শিল্পকর্ম নির্বাচন করেন পাঁচ সদস্যের এক জুরি বোর্ড।  বাংলাদেশ, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের শিল্পীদের নিয়ে এ জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।  বাংলাদেশের শিল্পীদের শিল্পকর্ম নির্বাচনের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট এক নির্বাচকম-লী গঠন করা হয়।  কমিটির আহ্বায়ক শিল্পী ড. ফরিদ জামান এবং অন্য সদস্যরা হলেন- শিল্পী কালিদাস কর্মকার, প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস, শিল্পী নিসার হোসেন, স্থপতি মুস্তাফা খালিদ পলাশ ও শিল্পী মোহাম্মদ ইকবাল। 

সম্পাদনায় : রফিকুল ইসলাম-৩৬