৮:২০ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার | | ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

পরিপত্র জারি

শিশুদের ব্যাগে অনুমোদিত বই ছাড়া অন্য কিছু নয়

১০ অক্টোবর ২০১৭, ০৯:১৮ পিএম | নিশি


এসএনএন২৪.কম : বিদ্যালয়গামী শিশুদের ব্যাগে সরকার অনুমোদিত বই ও উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু না দিতে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।  এ নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। 

৫ অক্টোবর এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে সেটি এখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হচ্ছে।  উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহন নিষেধ। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্রে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য যেসব বই অনুমোদন করেছে, তা পরিবহনে কোনো ছেলেমেয়ের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। 

আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ভারী ব্যাগ বহনের কারণে যাতে পিঠে ব্যথা বা সোজা হয়ে দাঁড়ানোর মতো সমস্যা দেখা না দেয়, সে জন্য অনুমোদিত বই, উপকরণ ছাড়া অন্য কিছু ব্যাগে করে বিদ্যালয়ে বয়ে আনা নিরুৎসাহিত করতে হবে।  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষক, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অভিভাবকদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। 

গত বছরের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ভারী স্কুলব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সুনির্দিষ্ট একটি আইন প্রণয়ন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।  রায় পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এই আইন করতে আইনসচিব, শিক্ষাসচিব, গণশিক্ষাসচিবসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।  আইন হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাথমিকে যাওয়া শিশুদের শরীরের ওজনের ১০ শতাংশের বেশি ওজনের ব্যাগ বহন করা যাবে না বলে নতুন করে একটি সার্কুলার জারি করতেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।  এখন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পরিপত্র জারি করে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিল। 

ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ভারী ব্যাগ বহনের কারণে কোমলমতি শিশুদের মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকা হয়ে যায়।  এতে শিশুর স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দেয় ও শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে।  শিশুরা যদি এই ভারী ব্যাগ বহন করতে থাকে, তাহলে তারা কখনো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারবে না।  সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে না পারলে তারা সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠতে পারবে না।  ফলে সমগ্র জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।  ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সাধারণত সরকার-নির্ধারিত বই পড়ালেও শহরকেন্দ্রিক বিদ্যালয়গুলো, বিশেষ করে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো নির্ধারিত বইয়ের পাশাপাশি আরও কিছু বাড়তি বই পড়তে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে।  বইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত খাতাসহ আরও কিছু উপকরণও তারা চাপিয়ে দেয়।  এই চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চলে এলেও সরকার কখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।  এর আগে ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর সরকার একটি সার্কুলার জারি করলেও তা কার্যকর হতে দেখা যায়নি।  এ ব্যাগ বহনের বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কোনো বিদ্যালয়ে নজরদারিও দেখা যায়নি।