৬:৩৮ এএম, ২০ মে ২০১৯, সোমবার | | ১৫ রমজান ১৪৪০




আজ মে দিবস

শিশুরা কাজ করবে কেন?

০১ মে ২০১৯, ১২:৫৮ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : আজ পহেলা মে, মহান মে দিবস।  মেহনতি ও শ্রমজীবি মানুষের সংগ্রাম আর অধিকার আদায়ের প্রতীকি দিন।  তাই প্রথমেই মেহনতি ও শ্রমজীবি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। 

১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমের উপযুক্ত মূল্য এবং দৈনিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করলে  শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়।  এতে হতাহত হন অনেক শ্রমিক।  শ্রমিকদের এই আত্মদানের ফলেই দৈনিক কাজের সময় আট ঘন্টা করার দাবিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  তখন থেকেই দিনটি মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  অবশ্য এখন পর্যন্ত শ্রমের প্রকৃত মজুরী নিশ্চিত হয়নি বলে অনেক অভিযোগ আছে।  সারা বিশ্ব তথা সারাদেশের মত হবিগঞ্জেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিবসটি পালন করবে।  এ উপলক্ষে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া হবিগঞ্জের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মহান মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।  অনুষ্ঠানের মধ্যে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করার কথা রয়েছে। 

পাঠক, আমি মনে করি মে দিবস বা শ্রমিক দিবস পালন করে কি লাভ।  কে দিচ্ছে এর গুরুত্ব ।  শ্রমিক কি আজও জানে তার শ্রমের মূল্য কত?, কে দেয় তার প্রকৃত শ্রমের মূল্য।  ইসলামে বলা হয়েছে, শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরী বা পারিশ্রামিক প্রদান করতে হবে।  কিন্ত কে মানছে সেই আইন।  দেখা যায় অনেক সময় শ্রমিক কাজ করে মালিক বা কতৃপক্ষের কাছে মজুরী চাইতে গিয়ে হতে হচ্ছে লাঞ্ছিত।  করতে হচ্ছে ঝগড়া।  অনেক সময় বিষয়টি নিয়ে বাধে সংঘর্ষ, হতে হয় আহত বা নিহত।  এমন তো কথা ছিলনা ।  শ্রম মানে কারও কাছে বিক্রি হওয়া নয়।  নির্দিষ্ট সময় বা চুক্তিভিত্তিক কাজ করাকে বুঝায়।  কাজ শেষ হয়ে যায়।  কিন্তু মজুরী পাওনা থাকে।  মাঝে মধ্যে দেখা যায় একজন রিক্সা চালক সারাদিন তার রিক্সার পেন্ডেল ঘুরিয়ে আয় করেন মাত্র দু’শ টাকা।  এ টাকা দিয়েই তার সংসার চলে। 

কিন্তু আমরা যাত্রীরা অনেক সময় তাকে তার রিক্সা ভাড়া দিতে গিয়েও টালবাহানা করি, ভাড়া কম দিতে গিয়ে তাদের লাঞ্ছিত করি।  একি ছিল মে দিবসের অঙ্গীকার।  একজন কর্মকার আগুনের সাহায্যে লোহাকে গলিয়ে পিটিয়ে পাতলা করে কেচি দিয়ে কেটে লোহার আসবাবপত্র তৈরী করেন।  আমরা তাকে মজুরী হিসেবে দিচ্ছি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।  এটাই কি তার শ্রমের মূল্য।  আমরা কি একবার ভাবি জিনিসটি তৈরী করতে গিয়ে তাকে কতটুকু শ্রম দিতে হয়েছে।  কতটুকু পরিমান তার শরীরের ঘাম ঝরেছে।  না আমরা এসব ভাবতে রাজি না। 

কারন, আমরা সব সময় চিন্তা করি, কিভাবে কিছু টাকা কম দেয়া যায়।  কিভাবে শ্রমিককে ঠকানো যায়।  আমাদের এসব চিন্তাই আমাদেরকে নীতিহীন করে তুলছে।  সবচেয়ে বড় কথা হল, আমরা বলি।  আজকের শিশু আগামীর দিনের ভবিষ্যত অথচ, আমাদের শিশুরাই দু-মুঠো ভাত আর পরনের কাপড় যোগাতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে নিরলস ভাবে।  কোথায় তার ভবিষ্যত।  কে দেখবে তার আগামী দিনগুলো।  আমরা বলি আমরা সচেতন।  আমরা দেখে ও না দেখার বান করি।  কিন্তু আমাদেরও সামাজিক কিছু কর্তব্য রয়েছে যে গুলো পালন করা আমাদেরই কর্তব্য।  কিন্তু আমরা একবারও ভাবি না কেন আমাদের শিশুরা কাজ করবে।  এখন তাদের পড়াশুনার সময়।  তাকে সময়ের সাথে সম্ভাবনাময় দিকে এগিয়ে যেতে হবে।  আমরা কি পারিনা তাদের উজ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটু সহযোগীতা করতে।  যাতে সে অন্তত্ব তার জিবনটা গড়তে পারে। 

আসুন আজ থেকে আমরা শ্রমিকদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করি বা তার উপযুক্ত শ্রমের মূল্য দেই।  তাহলেই তো শ্রমিকরা হবে সন্তুষ্ট আর মে দিবস বা শ্রমিক দিবস হবে সার্থক। 

লেখক-আখলাছ আহমেদ প্রিয়
সাংগঠনিক সম্পাদক
হবিগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ফোরাম, হবিগঞ্জ