৯:১২ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ৮ মুহররম ১৪৪০


সাইবার নিরাপত্তায় চাই নিজস্ব অবকাঠামো

০৮ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৪:৫২ পিএম | নিশি


এসএনএন২৪.কমঃ সাইবার নিরাপত্তায় বাংলাদেশের নিজস্ব অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।  সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই না বরং জাতীয় পর্যায়েও বাংলাদেশের একটি স্থির, নির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী অবকাঠামোর তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।  রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ এর তৃতীয় দিনে আজ শুক্রবার সম্মেলন কেন্দ্রের ’সেলিব্রিটি হলে’ আয়োজিত ‘সাইবার সিকিউরিট ফর পাবলিক সার্ভিস’ বিষয়ে বক্তব্যকালে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

এতে ‘কী-নোট স্পিকার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান ‘হোস্টন’ এর কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আজাদুল হক।  তিনি বলেন, ’বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি খাতে সঠিক দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।  তবে বাংলাদেশের নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো থাকতে হবে।  বাংলাদেশে সাইবার তদারকির অভ্যাস এখনো গড়ে ওঠেনি দাবি করে তিনি বলেন, ’সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে তদারকি বাড়াতে হবে’। 

এ সময় তিনি ‘ডার্ক ওয়েব’ প্রসঙ্গে বলেন, ’আমরা সাধারণভাবে ইন্টারনেটে যে অংশ ব্যবহার করি, তা মাত্র ৩ শতাংশ।  এর বাইরে মূল সাইবার জগত আরও ব্যাপক, প্রায় ৯৭ ভাগ।  এই অংশকে ডার্ক ওয়েব বা ডিপ ওয়েব বলা হয়।   ডিজিটাল ওয়েবে প্রবেশ না করতে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ’আপনারা জেনে বা না জেনে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করবেন না।  যদি করেন তাহলে আপনি হ্যাকারদের জন্য একটি দরজা খুলে দিচ্ছেন।  একইসঙ্গে আপনি জাতীয় নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে ফেলছেন’। 

বর্তমান সময়ে সাইবার ঝুঁকির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ’অতি সম্প্রতি আমরা উবারে হ্যাকারদের হামলা দেখেছি।  এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে উবার হ্যাকারদের ১লক্ষ মার্কিন ডলার পরিশোধ করে।  এছাড়াও ইয়াহুর ২লক্ষ একাউন্ট হ্যাক হয় সম্প্রতি।  আসলে কারা হ্যাকিং এর শিকার হয়নি! অনেক বড় সাইবার জায়ান্টই হ্যাকিং এর কবলে পড়েছেন’। 

হ্যাকারদের দক্ষতা বর্ণনা করতে গিয়ে এই সাইবার বিশেষজ্ঞ বলেন, ’হ্যাকাররা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার থেকে অন্তত দশ গুণ এগিয়ে থাকে।  তারা খুবই পেশাদার।  তাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের নিজস্ব সার্ভার ও অন্য ব্যবস্থা আছে।  তাদেরকে সনাক্ত করাটাও অনেক কঠিন’। 

নিজের বক্তব্যের শেষ দিকে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের প্রতি ৪টি নির্দেশনা দেন তিনি।  এগুলো হচ্ছেঃ ১) কখনও হামলা হলে বিষয়টিকে স্বীকার করতে হবে।  ২) সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।  ৩) নিরাপদভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে এবং ৪) ২৪ ঘন্টা সাইবার কর্মকাণ্ড তদারকি করতে হবে। 

সবশেষে তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যের এন্টিভাইরাস রাখার পরামর্শ দেন। 

সাইবার হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি ব্যারিস্টার হারুন আর রশীদ বলেন, সাইবার হামলা আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী একটি আমলযোগ্য অপরাধ।  ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্পের আওতায় সংবেদনশীল অবকাঠামোর নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে সরকারি সংস্থাগুলো। 

এ সময় দেশের বাইরে থাকা হ্যাকারদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ’দেশের বাইরে থেকে যখন কোন হামলা করা হয় তখন অপরাধীদের সনাক্ত করতে এবং তদন্ত করতে আমাদের কিছু আইনী জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।  ক্রস বর্ডার আইনসহ অন্যান্য প্রটোকল অনুসরণ করতে হয়।  তবে আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি’। 

সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মহা-ব্যবস্থাপক দেব দুলাল রায়।  তিনি বলেন, ’সাইবার অপরাধের শতকার ৮০ভাগ অপরাধ হয় ব্যবহারীদের অবহেলা এবং অজ্ঞতার কারণে।  আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফ থেকে আইটি সিকুরিটি গাইডলাইন দেয়া আছে।  কিন্তু আফসোসের কথা হচ্ছে অধিকাংশরাই তা মেনে চলেন না।  আবার অনেকে বিষয়টি জানেনই না।  গত ৩ বছরে সারা বিশ্বে প্রায় ১৬মিলিয়ন অর্থের অপচয় হয় শুধুমাত্র সাইবার হামলার কারণে।  যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবার আগে তাদেরকে প্রশিক্ষিত করতে হবে’। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন এক্সেস টু ইনফরমেশন প্রকল্পের আইটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আরফি এলাহী এর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন সিটিও ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি তপন কান্তি সরকার, কমার্সিয়াল ব্যাংক অব সেলন এর আইটি প্রধান ইজাজুল হক। 

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল ইনুর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ব্যস্ততার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। 


keya