৭:২৯ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ২০ মুহররম ১৪৪১




স্কুলের মাঠে হাট, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

২৬ মে ২০১৯, ০৯:২৭ পিএম | জাহিদ


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নামড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তা দখল করে চলছে হাটবাজার। 

এতে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করলেও প্রতিকার পায়নি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠ ও রাস্তা দখল করে কাঁচা তরিতরকারির পাইকারী হাট বসিয়ে দেদারছে কেনা বেচা চলছে।  গরুর মলমূত্রের ও তামাকের দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।  দুর- দূরান্ত থেকে আগত পাইকারেরা বড় বড় ট্রাক ও ভটভটি এনে স্কুল মাঠ দখল করে রেখে কাঁচামাল লোড-আনলোড করছে।  সেই সাথে উপজেলার কৃষকেরা ট্রাক, ভটভটি দিয়ে গরু, বাঁশ ও ভ্যান যোগে কাঁচা তরিতরকারি ও বিভিন্ন মালামাল এনে ওই বাজারে বিক্রি করছে। 

সপ্তাহে শনিবার ও বুধবার দুই দিন হাট-বাজার বসে।  এই দুই দিন স্কুলের প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর স্কুলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয়।  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ভ্যান গাড়ি, ভটভটি, সাইকেল ও ট্রাক সহ লোকজনের ভিড়ের মধ্য দিয়ে এপাশ ওপাশ কাটিয়ে কোন রকমে স্কুলে যাতায়াত করেন।  গরু হাট বসায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মাঠ হিসেবে কোনো কাজে আসছে না।  নিয়মিত তাদের শারীরিক কসরত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  গরু-ছাগলের পয়োনিষ্কাশনের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। 

শিক্ষার্থীরা ওই হাট-বাজারের ভিড়ের মধ্যে দিয়ে ঠেলা ঠেলি করে স্কুলে যাতায়াত করে।  কিন্তু মেয়ে শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়ে যায়।  এই কারণে অনেক অভিভাবকেরা হাট-বাজারের দিন তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে দিতে চায় না। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা চরম উদ্বিগ্ন হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই।  বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে হাট-বাজার চললেও পুলিশ প্রশাসনেরও কোন মাথা ব্যথা নেই।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান কাছে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দিলেও প্রতিকার নেই।  

এ বিষয়ে নামড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলাম জানান, ইতি পূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।  এমনকি বিষয়টি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ কয়েকবার স্কুল মাঠ থেকে হাট-বাজার উচ্ছেদের জন্য লিখিত ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিযোগ প্রদান করেও কোন ফল হয়নি।  তিনি আরো জানান, কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাট-বাজারের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।  হাঁস-মুরগীর হাট বসায় বাচ্চাদেরকে নিয়ে দুর্গন্ধের মধ্যেই ক্লাস চালিয়ে যেতে হয়।  

এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার ইজারাদার সাইফুল ইসলাম জানান, এর আগে যেভাবে বিদ্যালয়ের মাঠ হাট চলেছিল সেই মোতাবেক আমি হাট সরকারী দরপত্র মোতাবেক ডেকে নিয়ে অনেকদিন যাবত চালিয়ে আসছি হঠাৎ করে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ আমাকে মাঠে হাট সরানোর নির্দেশ প্রদান করে।  এ বিষয়ে ইউএনও  এর সাথে কথা হয়েছে।  তবে থাকবে কিনা সমাজকল্যান মন্ত্রী’র সাথে কথা বলে ঠিক করা হবে।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্কুল মাঠে হাট-বাজার বসায় শিক্ষার্থীদের চলাচলের যে সমস্যা সৃষ্টি হয় বিষয়টি তিনি অবগত রয়েছেন।  সমস্যাটি দীর্ঘ

দিনের তবে সমাধানের জন্য দু-পক্ষকে ডেকে বলা হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।