৯:৪১ এএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ভাংচুর, আহত ৫

১৫ নভেম্বর ২০১৭, ০২:৫৩ এএম | সাদি


জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : জেলখানা থেকে বের হওয়ার দু’ঘণ্টা পার হতে না হতেই প্রতিপক্ষের একটি ঔষধের দোকানসহ ২ টি দোকানঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন কালিগঞ্জের চম্পাফুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।  এ সময় বাধা দিতে আসায় একই পরিবারের ৫ জনকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। 

সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল কালীবাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।  আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স ভর্তি করা হয়েছে। 

আহতরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার গোদাড়া গ্রামের আমিনউদ্দিন সরদারের ছেলে শাহীনুর সরদার (৪৮) ও একই গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে তানভির সরদার (২৫)। 

আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স চিকিৎসাধীন শাহীনুর সরদার জানান, ২০০৯ সালের ২০ আগষ্ট রেজিষ্ট্রি দলিল মুলে চম্পাফুল গ্রামের হিমনাথ মন্ডলের কাছ থেকে তিনিসহ তার তিন ভাই চম্পাফুল মৗজায় ডিপি ৪৪১ খতিয়ানে সোয়া ১০ শতক জমি কেনে।  ওই জমিতে সনাক্তকারি হিসেবে চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও সাক্ষী হিসেবে হিমনাথ মন্ডলের ছেলে পরিতোষ মন্ডল সাক্ষর করেন।  নকশা অনুযায়ী ওই জমির মধ্যে কালিবাড়ি বাজারে দু’শতক জমি রয়েছে।  যাতে তাদের পাঁচটি দোকান ঘর রয়েছে। 

তিনি আরো জানান, ‘বাবা হিমনাথ মন্ডলের মৃত্যুর পর ছেলে পরিতোষ মন্ডলের কাছ থেকে চলতি বছরের পহেলা মার্চ চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের ছেলে আশীকুল গাইন, আরিফুল গাইন, ইউপি সদস্য আব্দুল কায়ুম ও গ্রাম্য চিকিৎসক আশোক রায় একই দাগে দু’শতক জমি কেনে।  বন্টননামা না থাকায় চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও ইউপি সদস্য আব্দুল কায়ুম তাদের দোকানঘর থাকা দু’শতক জমি জবরদখল করার চেষ্টা করে আসছিলেন। 

একপর্যায়ে গত ২৭ এপ্রিল তার ভাই রেজাউল ইসলাম বাদি হয়ে কালিগঞ্জ সহকারি জজ আদালতে দেওয়ানী মিস-৩৭/১৭ নং মামলা(আমানত) করেন।  সম্প্রতি তারা একটি দোকান ঘর সংস্কার করে তাতে ভাইপো তানভির হোসেন চাল, কুড়া ও তুষের ব্যবসা করে আসছিলো।  অন্য চারটি দোকান ঘর সংস্কারের উদ্যোগও নেওয়া হয়।  কালিগঞ্জ উপজেলার চম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান ওই মামলায় সম্প্রতি আদালতে হাজির হলে আদালতের বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।  ওই মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন ও তার লোকজন সোমবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপট চালায়। 

এ ব্যাপারে মোজাম্মেল হক গাইন ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলামসহ কয়েকজন স্থানীয় এক হিন্দুর জমি দখল করে টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে জবর দখল করে রেখেছিল।  সোমবার স্থানীয় লোকজন তা অপসারণ করে জায়গা খালি করে দিয়েছে। 

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবীর দত্ত জানান, জেল হতে ছাড়া পাওয়ার পর চেয়ারম্যান পানি উন্ন্য়ন বোর্ডের একটি জায়গা দখল করার জন্য শোডাউন দিয়ে একটি ঔষধের দোকানঘরসহ ২টি দোকানঘর ভাংচুর করে।  এ ঘটনায় আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।