৬:৪৭ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯, রোববার | | ১২ শাওয়াল ১৪৪০




সোনাগাজীর সেই ওসির বিরুদ্ধে মামলা

১৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:৪০ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : নুসরাত জাহান রাফিকে হয়রানিমূলক প্রশ্ন করা এবং ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ওসি (প্রত্যাহার হওয়া) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

সোমবার দুপুরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। 

এ বিষযে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া এবং আপত্তিকর প্রশ্ন করায় সোনাগাজীর সাবেক ওসির বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। ’

২৭ মার্চ ওই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে দু'জনকে থানায় নিয়ে যান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।  ওসি নিয়ম ভেঙে জেরা করতে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন।  মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।  ভিডিওটি প্রকাশ হলে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ওসির সখ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। 

ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ওসির সামনে অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত।  আর সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি।  নুসরাত তার মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখেছিলেন।  তাতেও ওসির আপত্তি।  বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে এখনও তোমাকে কাঁদতে হবে। ’

এদিকে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন।  পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ।  পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। 

গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান।  এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান।  সেখানে মুখোশ পরা ৪-৫ জন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়।  রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। 

গেল ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।