৭:০০ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০




সন্তানকে ভর্তি করাতে কিডনি বিক্রি করতে চাইলেন মা

০৩ জুলাই ২০১৯, ০৫:৪১ পিএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ছেলে অদম্য মেধাবী চীনের এন্ডহুই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব ডিগ্রী সিভিল ইঞ্জিনিযারিং (৪ বছর মেয়াদী) কোর্সে শিক্ষা বৃত্তির সুযোগ পান ছেলে কিশোর কুমার। 

মা কিরন বালা ছেলের ভর্তি ও চীনে যাওয়ার টাকা সংগ্রাহ করতে না পেরে নিজের কিডনি বিক্রির সিন্ধান্ত নেন। 

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় পলাশী ইউনিয়নের কিসামত ক্ষুদ্র চন্দ্রপুর গ্রামে দিনমজুর ও কৈলাশ চন্দ্রে স্ত্রী কিরন বালা।  তাদের দুই ছেলের মধ্যে বড় কিশোর কুমার ও ছোট ছেলে মিলন দশম শ্রেণীর ছাত্র।  জায়গা জমি নেই।  পাঁচশতক জমির উপর তাদের ঘর।  

দুই ছেলে মধ্যে বড় ছেলেকে ভর্তি করার অর্থ যোগাড় করার কোন উপায় না থাকায় কিডনি বিক্রি করে ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন পূরন করতে চান গর্ভধারিনী মা।  সেই সাথে স্বামীকেও একটি কিডনি বিক্রি করার অনুরোধ করছেন কিরন বালা। 

   জানা গেছে, কৈলাশ চন্দ্রের বড় ছেলে কিশোর কুমার খুব মেধাবী তার স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করবে।  কিন্ত সংসারে অভাব থাকায় রংপর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর গ্রামে নানা বাড়িতে থেকে ২০০৮ সালে মহিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ৫ম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং ২০১৩ সালে একই বিদ্যালয হতে ৮ম শ্রেণীর জে এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে গোল্ডেন এ প্লাস পায়।  ঔ বিদ্যালয় হতে ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগে এস এস সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে জিপিএ ৫ পায়।  এস এস সি পাশ করে সে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক্যাল সরকারী কলেজে টেকনোলজিঃ আরটিকিউচার এন্ড ইন্টারিয়র ডিজাইন ৪ বছর মেয়াদী কোর্সেও মেধা তালিকায় কৃতকার্য হন।  এই মহাবিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় সে আন্তর্জাতিক শিক্ষা স্কুল, এন্ডনহুই প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় মাআনসান,আনহুই, চায়নায়-ব্যাচেলর ডিগ্রী, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে পড়ার সুযোগ চেয়ে আবেদন করে। 

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এন্ডহুই প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার আবেদন মঞ্জুর করে।  আগামী ১৬-৯-২০১৯ এবং ১৭-৯-২০১৯ইং তারিখের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন করার আহবান করে।  ৪ বছর মেয়াদী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে রেজিষ্ট্রেশন করতে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। 

 রেজিষ্ট্রেশন পাসপোর্ট, ভিসা, বিমান ভাড়া সহ সব মিলে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা লাগবে।  গরীব দিনমজুর বাবা ও মা চা দোকানী তাদের পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা একবারেই অসম্ভব।  এত ভাল এবং বড় সুযোগ পেয়েও ছেলেকে ভর্তি করাতে পারছেনা বাবা মা।  সামান্য দিনমজুর ও মা চা দোকান করে দুইবেলা দইু মুঠো ভাত যোগাড় যেখানে খুবই কষ্টের সেখানে এত টাকা কিভাবে যোগাড় করবে কৈলাশচন্দ্র ও কিরন বালা। 

তাই ছেলের ভর্তি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে সে।  কিভাবে ছেলেকে ভর্তি করার জন্য টাকা যোগাড় করবে সে চিন্তায় পাগলের মত বিভিন্নজনের কাছে ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে সে।  কোন উপায় না পেয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করে ছেলেকে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মা কিরন বালা।  

এ বিষয়ে কিশোর কুমারের বাবা কৈলাশ  চন্দ্র ও মা কিরণ  জানান, আমরা খুব কষ্ট করে দিনমুজরি মা চা দোকান করে জীবন বাঁচাই।  আমাদের কোন জায়গা জমি নাই।  এত টাকা আমরা  কোথায় পাবো।  ছেলে মানুষ হওয়ার এত বড় সুযোগ কাজে লাগাতে না পেয়ে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।  কি করব ভেবে কুল পাচ্ছিনা।  অনেক জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করেছি, কিছুই করতে পারছিনা।  ছেলেকে ভর্তি করার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি।  এখন পর্যন্ত কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসে নাই।  তাই আমরা স্বামী স্ত্রী সিন্ধান্ত নিয়েছি আমাদের কিডনি বিক্রি করে ছেলেকে ভর্তি করাব। 

এ বিষয়ে নামুড়ি  ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, তারা দরিদ্র ও অসহায়।  ছেলে চীনে শিক্ষাবৃত্তি পাওয় সৌভাগ্যের বিষয়।  এই দরিদ্র ছাত্রটিকে সহযোগিতা করা আমাদের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ। 

তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, কিশোর কুমার মোবাইল নং-০১৭২২-৬৩৮৭৪১।  মা কিরন বালা যোগাযোগ ও বিকাশ ০১৭৬৭-২২৯৯৪৩