৫:৫১ এএম, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১




সন্তানের বিলাসিতা, পিতার অপারগতা অতঃপর

১৫ মার্চ ২০২০, ১২:০৬ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: "সুখের এই পৃথিবীতে আসলে কেউ সুখী নয়"- সব সুখে থাকার অভিনয় মাত্র।  যেকোনো মুহূর্তে সংবাদ হয় সুখের নাহয় বিষাদের। 

এখনো পর্যন্ত এমন কেউ নেই বা পাওয়া যাবেনা, চলার পথে কাউকে জিজ্ঞেস করেন উত্তরে বলবে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। 

নাহয় এইতো মুটামুটি ভালো আছি, অথবা খারাপ না।  এটা যদি ও সৌজন্যবোধে প্রকাশ করে কিন্তু মনের খবর কেউ কি জানি কে কতটুকু ভালোতে আছে? যতই অর্থ-বিত্ত থাকুক না কেন প্রত্যেকের কাছে কোনো না কোনো সমস্যা আছেই সেকারণে বলা " আসলে কেউ সুখী নয় "। 

কারো আছে পারিবারিক, ব্যবসায়ীক,রাজনৈতিক,জমি নিয়ে বিরোধ,নারীঘটিত ব্যাপার, পূর্বশত্রুতা সকল ক্ষেত্রে এক একজনের এক সমস্যা। 

আজকের এই বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে দেশ যতই আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎকর্ষিত, সবার জীবনমানেও তা দৃশ্যমান।  কোথা থেকে -কিভাবে-কখন এই ছোঁয়া লেগেছে তা দেখার সময় না থাকলেও জীবনের প্রয়োজনে তার ব্যবহার লক্ষণীয়। 

আগেকার যুগে যে সময় সন্তান পিতার নিকট বায়না ধরতো আমি যদি পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করি তাহলে আমাকে সাইকেল কিনে দিতে হবে আর এই আবদারটি ছিলো সর্বোচ্চ।  পিতার অবর্তমানে ভাই হলেও তার নিকট একি বায়না ধরে যারফলে সন্তানের নাহয় ছোট ভাইয়ের এই আবদারটুকু রাখবে, রাখে,রেখেছে তবে ফলাফল ভালো হতে হবে। 

আজ এসে পিতার কাছে, ভাইয়ের কাছে বায়না ধরে সাইকেলের পরিবর্তে "মোটরসাইকেল",দামী স্মার্ট ফোন যেফোন যাকে আবদার রাখছে সেও ব্যবহার করছেনা, -এটা কিন্তু বড্ড বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়।  যতই অর্থ থাকুক না কেন,, সবেমাত্র স্কুলের গন্ডি পার হয়নি,পরীক্ষার ফলাফলও আসেনি এডভান্স আল্টিমেটাম পিতা কিংবা বড় ভাইয়ের উপর দেখিও আমার কিন্তু রেজাল্ট ভালো হলেই বাইক কিনে দিতে হবে। 

এই  আবদারে যদি অপারগতা প্রকাশ পায় তাহলে আশ্রয় নেয় মায়ের কাছে, মা'কে বড়ই আকুতি মিনতি করে বলো তুমি বলোনা বাবাকে।  [মা-বলে কথা] নাছোড়বান্দা ছেলে ভাত-খাবার পর্যন্ত বিরত রাখছে বাইক আদায়ের লক্ষ্যে।  মা" রাতে ঘুমোনোর সময় বলে ---শুনছো....কি আর হবে এত টাকা দিয়ে? এই বাড়ি -গাড়ি সবিতো ছেলেটা র জন্যে।  দিয়ে দাও একটা বাইক কিনে ওই তো আমাদের সব-তাই না? আবার তার বিপরীতও হয় মা"-যদি সন্তানের উপর বেশি সচেতন হয় তাহলে পিতা - পুত্রের আবদার মিটাতে চাইলেও স্ত্রী সেখানে বাইক কিনে না দেওয়ার পক্ষে থাকে এবং কারণ ব্যাখ্যা করে।  কান্না করে বলে আমি আমার ছেলে হারাতে চাই না। 

এতে কোনোটাই কাজ না হলে ছেলে "সুইসাইডের"-ভয় দেখায়।  এমন পরিস্থিতিতে পিতার-ভাইয়ের কি করার আছে? একদিকে সন্তানের মুখের হাসি ফুটানোর চেষ্টা বৃথা অপরদিকে সন্তানের জীবন রাস্তায় ঝুঁকির মুখে, কোন দিকে বেঁচে নিবে? অনেক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালনায়। 

বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলেদের এই দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে।  হয় বন্ধুদের সাথে দূরের কোনো সফরে অহেতুক পাল্লা দিয়ে থাকে কে কার আগে যাবে শুধু পিক-আপ বাড়ায় আর বলে কি আমি ৮০কিলোমিটার আরেকজন বলে আমি৯০-১০০ কিলোমিটার গতিতে চালিয়েছি।  আরো একটি বিষয় লক্ষ করা যায় কলেজে পদার্পণ করতে না করতেই এই বয়সের তরুণদের তারুণ্যের ছোঁয়া লাগে সেসময় স্কুল হোক কলেজ হোক যখন ছুটি হবে রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া কলেজ ছাত্রীদের কিংবা প্রিয় মানুষকে আকর্ষণ করার জন্যে নানান রঙ্গে শরীরকে হেলিয়ে-দুলিয়ে বাইক চালিয়ে হাইস্পিডে যায়।  হয় তখন বিপদ ঘটে যায় নাহয় পাল্টা দেওয়া বন্ধুদের ভীড়ে।  হয় পঙ্গু হয়ে জীবনকে আলিঙ্গন করতে হয় নাহয় তৎক্ষনাৎ মৃত্যুকে নিজের চোখে দেখে বরণ করতে হয়। 

বায়না ধরলো সন্তান, সুইসাইডের হুমকির মুখে আবদার রাখলো পিতা, মাতা দিয়ছে বাধা, সন্তান শুনেনি কথা, পিতা-মাতার চোখে অশ্রু কে দিলো এই কঠিন ব্যাথা? এইশুধু নয় কেউ চেয়ে বসে থাকে চাইনিজ খাবে, বন্ধুদের নিয়ে ৪/৫দিনের দেশের বাইরে ভ্রমণে যাবো এইসব বলে টাকা আদায় করে খারাপ জগতে পা-বাড়ায় একসময় পিতা-মাতার মানসম্মানে আঘাত হানে।  এমনও অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে অপমান সইতে না পেরে পিতা আত্মহত্যা করেছে।  

কে দিবে সান্ত্বনা? বছরকে বছর যে সন্তানকে মানুষ করার জন্যে তিলে তিলে রক্তকে পানিতে রুপ দিয়েছে সে সন্তান আজ পিতার মানসম্মানে চুনকালি লাগাচ্ছে।  কি হবে এমন সন্তানের? পিতা এই সন্তানের উপর কি আসা করতে পারে? যে কিনা শিক্ষিত হয়ে দেশের সেবায় ছড়িয়ে পড়বে সে আজ হয়েছে জঘন্য আর ঘৃনারপাত্র। 

সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার পেছনে সন্তান যখন নিজেকে বুঝতে শিখে তখন তার শতো আবদার রাখলে তার কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায়, যে সন্তান অবাধ্য হলে তার কারণে সম্মান নষ্ট হয়ে যায়।  সন্তানের বিলাসিতা হোক সঠিক সময়ে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ি জীবনের নিয়মে। 


লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।