৫:৫৬ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার | | ১৯ সফর ১৪৪১




​সুন্দরবনে ২০৭০ সালে বেঙ্গল টাইগার বিলুপ্ত!

০৮ মে ২০১৯, ১১:১৯ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশ থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।  গত সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। 

জাতিসংঘের ১৮০০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব কর্মকাণ্ডের কারণে প্রাণী ও উদ্ভিদের ৮০ লাখ প্রজাতির মধ্যে ১০ লাখ বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।  এর মধ্যে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে কয়েক দশকের মধ্যেই। 

গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ৫০টি দেশের ১৪৫ জন বিজ্ঞানী।  তাতে ব্যবহার করা হয়েছে গত এক দশকের প্রায় দেড় হাজার গবেষণাপত্র (রেফারেন্স ম্যাটারিয়াল)।  এগুলোর মধ্যে সুন্দরবন নিয়েও কয়েকটি গবেষণাপত্র ছিল।  সেগুলো সমন্বয় করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিয়ে একটি ভবিষ্যদ্বাণী দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বিজ্ঞানীরা। 

যেসব গবেষণার ভিত্তিতে জাতিসংঘ এ আশঙ্কার কথা বলছে, সেগুলোর মধ্যে একটি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথভাবে করা।  সেখানে বলা হয়েছে, ‘চার হাজার বর্গমাইলের সুন্দরবনের ৭০ শতাংশ অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক ফুট ওপরে রয়েছে।  ২০৭০ সালের মধ্যে সেখানে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বাসযোগ্য কোনো অঞ্চল থাকবে না। ’

২০১০ সালে করা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ডের জরিপের ভিত্তিতে জাতিসংঘ বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১১ ইঞ্চি বাড়লে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সুন্দরবনের ৯৬ শতাংশ রয়েল বেঙ্গল টাইগার বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। 

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শতাব্দীর শুরুতে পৃথিবীতে বাঘের সংখ্যা ছিল এক লাখের মতো।  কিন্তু আবাসভূমি হারানো, পাচার ও শিকারের কারণে এদের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজারে।  সুন্দরবনে যে কয়েকটি বাঘ আছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেগুলোর টিকে থাকা হুমকির মুখে পড়েছে। 

জাতিসংঘ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের উদ্ভিদকুলে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে।  এটিও রয়েল বেঙ্গল টাইগার কমে যাওয়ার একটি কারণ।  এ ছাড়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার এবং সেখানকার বাসিন্দাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শরিফ এ মুকুল।  তাঁর বরাত দিয়ে জাতিসংঘ বলছে, ‘ভবিষ্যতে সুন্দরবনে যেকোনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।  ঘূর্ণিঝড় হলে, কোনো রোগ ছড়িয়ে পড়লে কিংবা খাদ্যসংকট দেখা দিলে সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ’

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে জোয়ারের উচ্চতা বাড়ছে।  কিন্তু জাতিসংঘ বলছে, বাংলাদেশে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড় হারের চেয়ে অনেক বেশি।