৭:০১ পিএম, ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৮ রমজান ১৪৪০




সুনামগঞ্জে সেই ‘তুতলা শাহাহানের’ বাড়ির থেকে ইয়াবা উদ্ধার

০৭ মে ২০১৯, ০২:২৩ পিএম | জাহিদ


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ডিলার শাহজাহান ওরফে ‘তুতলা শাহজাহানের’ বাড়ি থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্যার করেছে স্থানীয় পুলিশ।  

সোমবার রাতে ইয়াবা উদ্যারের ঘটনায় শাহজাহান সহ তিন ইয়াবা ব্যবসায়িকে পলাতক দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।  

শাহজান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের শিমুলতলা (চন্দ্রপুর) গ্রামের প্রয়াত ইউপি সদস্য মকবুল হোসেনের ছেলে। 

সোমবার বিকেলে উপজেলার বাদাঘাট-শিমুলতলা চন্দ্রপুর নিজ বসতবাড়িতে ইয়াবা ক্রয় বিক্রয় কালে পুলিশী অভিযান চলাকালে একাধিক মাদক মামলার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত আসামি শাহজাহান ও তার সহযোগীরা কৌশলে রান্নাঘরের দরজা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়।  

জানা গেছে তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ও বাদাঘাট উওর ইউনিয়ন বিট পুলিশের সহকারি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সোমবার বিকেলে ইয়াবা ক্রয় বিক্রয়ৈর খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী বড়দল উওর ইউনিযনের মিমুলতলা চন্দ্রপুর গ্রামে অভিযান যায়। 

ওই সময় শাহাজান ও তার আরো কয়েক সহযোগি ইয়াবা ব্যবসায়ি বাড়ি ও মহিলাদের সহযোগীতায় পুলিশী অভিযান ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে কৌশলে রান্নাঘরের দরজা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়।  

পরে পুলিশ গ্রামবাসীর সহযোগীতায় শাহাজানের বসতঘরে তল্লাশীকালে রান্নাঘরের আড়ার ওপর বিশেষ কায়দায় লুকানো ৪টি প্যাকেট ভর্তি ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।  

জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক মুল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। 

তাহিরপুর থানার বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও বিট পুলিশ কর্মকর্তা আমির উদ্দিন বাদি হয়ে উপজেলার শিমুলতলা চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত মগবুল হোসেনের ছেলে শাহজাহান,পার্শ্ববর্তী গুটিলা গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে সুজন মিয়া, বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাউড়েরগড় গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেনকে পলাতক দেখিয়ে ইয়াবা ব্যবসার সহযোগী মহিলা সহ আরো ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করে সোমবার মধ্যরাতে থানায় একটি মামরা দায়ের করেছেন। 

এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, বিগত বছর জুনের শেষে দিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ শাহজাহানকে বাদাঘাট পুলিশ ফাড়ির টহল দল আটকের পর কয়েকমাস হাজতবাস করে জামিনে বেড়িয়ে এসে আবারো সে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।   

মাদকবিরোধী অভিযানের ওপর বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ও মহিলাদের দিয়ে নজরদারিতে রেখে এলাকায় কয়েকজন সেলসম্যান দিয়ে গোটা উপজেলা সদর, বাদাঘাট, কামড়াবন্দ, মোল্লাপাড়া, পুরানঘাট, সীমান্তবর্তী চাঁনপুর, বালিয়াঘাট নতুন বাজার,  বুরুঙ্গাছড়া, বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন, চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন, কলাগাঁও জঙ্গলবাড়ি, বীরেন্দ্রনগর, বাগলীজুড়ে ইয়াবা ডিলার হিসেবে অন্যান্য ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের কাছে ইয়াবা বিক্রয়ের জমজমাট ব্যবসা করে আসছিলেন শাহজাহান। 

মঙ্গলবার তাহিরপুর থানার নবাগত ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, শাহজাহান সহ পলাতক অপর আসামিদের গ্রেফতার করা গেলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উপজেলার আরও কয়েকজন ইয়াবা ডিলার ও সেলসম্যান ইয়াবা ব্যবসায় মহিলা সহ অপর সহযোগীদের নাম জানা যাবে তাই তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশী জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। 


keya