৬:৪৩ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শুক্রবার | | ৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৯

South Asian College

সুনামগঞ্জে স্ত্রীকে এসিডে ঝলসে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামী কারাগারে

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৮:৩৫ এএম | মুন্না


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে স্ত্রীকে এসিড দিয়ে ঝলসানোর পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় স্বামীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  সুনামগঞ্জ আমলগ্রহনকারী (ছাতক যোন) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল আমিন সোমবার ঘাতক স্বামী আবুল মনসুর লিটকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন।  সে জেলার দোয়ারাবাজারের  হিম্মতেরগাঁওর আবদুর নুরের ছেলে ও পার্শ্ববর্তী ছাতক পৌর শহরের দক্ষিন বাগবাড়ির এলাকার বাসিন্দা। 

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়,  ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে জামালগঞ্জ উপজেলার বিছনা গ্রামের ইসফা বেগমের।  বিয়ের পর দেড় মাস বয়সী এক শিশু কন্যা থাকা অবস্থায় ছাতক পৌর শহরের দক্ষিণ বাগবাড়ির বাসায় ২০১৭ সালের ৬ মে দিবাগত রাতে স্বামী আবুল মনসুর লিটন ও তার বড়ভাই আবদুস সহিদ বাপন পরস্পরের যোগসাজনে ইসফাকে প্রথমে শরীরে এসিড ঢেলে ঝলসে দেয়ার পর আগুনে পুড়িয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে ঘটনা ধামচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়। 

মামলার বাদী নিহত ইসফারভাই রাসেল আহমদ মামলায় উল্ল্যেখ করেন, ইসফার স্বামীর সহোদর বড়ভাই  আবদুস সহিদ বাপন ইসফার প্রতি কুনজর দিলে বিষয়টি একাধিকবার স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনকে জানালেও কোন প্রতিকার পায়নি ইসফা।  সহোদর বড়ভাইয়ের প্রতি নালিশ করায় উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে পারিবারীক কলহের জের জন্ম ছাতক পৌর শহরের দক্ষিণ বাগবাড়ি এলাকায় আবুল মনসুরের নিজ বাড়িতে ২০১৭ বছরের ৬ মে দিবাগত রাতে দেড় মাস বয়সী শিশু কন্যা থাকার পরও নির্মম ভাবে এসিডে ঝলসে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ইসফাকে। 

অভিযোগ রয়েছে, ইসফা হত্যাকান্ডের বিষয়টি অপমৃত্যু মামলা হিসাবে ধামাচাপা দেযার জন্য ছাতক থানা পুলিশের কিছু অসৎ সদস্যের কারণে রাসেল আহমদ বোন হত্যার মামলা করতে গেলেও ঘটনার প্রায় এক দৌড়ঝাঁপ করলেও থানা পুশিশ মামলাটি গ্রহন করেনি।  এরপর আদালতের দারস্থ হলে আদালতের নির্দেশেই পরবর্তীতে থানায় মামলাটি ডায়রীভুক্ত করে পুলিশ।  মামলায় ভগ্নিপতি আবুল মনসুর লিটন ও তার সহোদও বড়ভাই আবদুস সহিদ বাপনকে আসামী করা হয়। 

রাসেল আহমদ মামলার এজহারে আরও উল্লেখ করেন, ঐ পরিবারের লোকজনের সন্দেহজনক আচরণ ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ইসফাকে নির্মমভাবে এসিডে ঝলসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হই আমি।  অভিযোগ উঠেছে নানা দৌড়ঝাঁপের পর আদালতের আদেশে থানায় মামলা নিলেও শুরু থেকেই তদন্তে নয়-ছয় করেন তদন্তকারী অফিসার।  এরপর বাদী পুনরায় আদালতে আবেদন করলে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কে নির্দেশ প্রদান করেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আশরাফুজ্জামান বলেন, মামলাটির তদন্তে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে,  এক আসামী সোমবার আদালতে আত্মসমর্পন করেছে বলে জেনেছি, তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানাব আদালতে।  তিনি আরো বলেন, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আশা করি এ মামলার তদন্তে আরো অগ্রগতি হবে।