৮:৩৩ এএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার | | ১৬ শা'বান ১৪৪০




স্পিরুলিনার ওষুধি গুণাগুণ জেনে নিন

০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৩৬ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : স্পিরুলিনা নামটি শুনেই ভ্রু কুচকে গেল তাই না? এটি আবার কী জিনিস? স্পিরুলিনা আসলে সামুদ্রিক শৈবালের নাম।  আসুন তাহলে জেনে নেই স্পিরুলিনা সম্পর্কে।  স্পিরুলিনার গুণাগুণ জানাচ্ছেন মো. বিল্লাল হোসেন-

পরিচয় : স্পিরুলিনা একটি নীলাভ-সবুজ শৈবাল।  এটি সাধারণত পানিতে জন্মে।  তবে সামুদ্রিক শৈবাল হিসেবেই এটি বেশি পরিচিত।  স্পিরুলিনা নামটি নেয়া হয়েছে মূলত ল্যাটিন শব্দ Spira থেকে।  যার অর্থ সর্পিলাকার বা পাকানো।  কারণ স্পিরুলিনা দেখতে সর্পিলাকারের হয়ে থাকে।  এটি সাধারণত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে থাকে। 

ব্যবহার : স্পিরুলিনা সাধারণত সবজি হিসেবে খাওয়া হয়।  নামটি অপরিচিত হলেও এতে প্রায় সব ধরনের নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। 

উপাদান : এরমধ্যে প্রোটিন ৬০-৭০%।  যার বেশিরভাগই ইসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে গঠিত।  কার্বোহাইড্রেট ১৫% হিসেবে থাকে গ্লাইকোজেন, ফ্যাট ৫-৮% মূলত ইসেনশিয়াল ফ্যাটি অ্যাসিড যেমন গামা লিনোলেয়িক অ্যাসিড বেশি থাকে।  এছাড়াও মিনারেলসের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম।  ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬, বি১২, ভিটমিন-ই ও ভিটমিন-কে।  আর ন্যাচারাল পিগমেন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্লোরোফিল, জ্যান্থোফিল, বিটা ক্যারোটিন ও ফাইটোসায়ানিন। 


সুপার ফুড : এতে সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকায় একে ‘সুপার ফুড’ বলা হয়।  সুপার ফুড বলার আরও কয়েকটি কারণ আছে।  এতে মাছ ও গরুর মাংসের তুলনায় ৩ গুণ এবং ডিমের তুলনায় ৬ গুণ বেশি প্রোটিন রয়েছে।  সয়াবিনের তুলনায় ২ গুণ বেশি মিনারেল রয়েছে।  আটার চেয়ে ৪ গুণ বেশি ফাইবার বা খাদ্য আঁশ রয়েছে।  এতে গাজরের তুলনায় ৫ গুণ ও পালং শাকের তুলনায় ৪০ গুণ বেশি ক্যারোটিন রয়েছে।  দুধের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম রয়েছে।  এতে পালং শাকের তুলনায় ৬৫ গুণ বেশি এবং গরুর মাংসের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি আয়রন থাকে।  এটি পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি সবজি। 

এবার তবে জেনে নেয়া যাক স্পিরুলিনার ওষুধি গুণাগুণ সম্পর্কে-

গর্ভবতীর রক্তাল্পতা প্রতিরোধ : স্পিরুলিনাতে প্রচুর ক্লোরোফিল রয়েছে।  যা রক্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিমোগ্লোবিনে রূপান্তরিত হতে পারে এবং রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।  তাছাড়া স্পিরুলিনাতে ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে।  যা রক্ত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

আদর্শ খাবার : এতে বেশি পরিমাণে প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২ রয়েছে।  যা নিরামিষভোজীদের এ দুটি পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি কমায়।  কারণ তাদের খাদ্য তালিকায় প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২ অনুপস্থিত থাকে। 

রক্ত পরিষ্কার করে : এতে প্রচুর ক্লোরোফিল ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে।  এই ক্লোরোফিল ও ম্যাগনেসিয়াম মিলিত হয়ে রক্তের দূষক পদার্থসমূহ দূর করে এবং রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।  গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৯-১০ গ্রাম করে স্পিরুলিনা খাওয়ালে ৪-৬ মাস পর রোগির আর্সেনিকজনিত চর্মরোগ সম্পূর্ণরূপে উপশম হয়। 

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় : এতে উচ্চমাত্রায় গামা লিনোলেয়িক অ্যাসিড রয়েছে।  যা দেহের ক্ষতিকারক এলডিএলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। 

ক্যান্সার থেকে রক্ষা : স্পিরুলিনা ক্যান্সার হওয়া থেকে রক্ষা করে।  স্পিরুলিনার নীল-সবুজ রং ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।  স্পিরুলিনা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন সেলেনিয়াম, বিটা ক্যারোটিন, টোকোফেরল, ফেনলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ।  যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে। 


হজমশক্তি বাড়ায় : ই-কোলাই এবং ক্যান্ডিডার মত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দমন করে।  স্পিরুলিনা পাচনতন্ত্রে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া lactobacillus ও bifidobacteria এর মত ভালো ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।  সুতরাং এটি পুষ্টি শোষণ করে শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হজমশক্তি বাড়ায়। 

কিডনিকে রক্ষা করে : স্পিরুলিনার ক্লোরোফিল একটি উচ্চ ঘনত্ব সম্পন্ন এবং সেরা প্রাকৃতিক detoxifiers; এটি কিডনি থেকে ভারি ধাতু, ক্ষতিকারক রশ্মি এবং দূষণকারী ধাতু সরিয়ে কিডনির বিষাক্ততা কমায়। 

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে : এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে।  কারণ এতে প্রচুর ফাইবার রয়েছে।  যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সহজে বাড়তে দেয় না। 

আমাদের দেশে এটি খাওয়ার প্রচলন খুবই কম।  সুতরাং যদি অদূর ভবিষ্যতে স্পিরুলিনার উৎপাদন বাড়ানো যায়, তাহলে যেমন সুস্বাস্থ্যবান নাগরিক পাব।  তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হব।  তাই আসুন স্পিরুলিনা চাষ করি, স্বাস্থ্যবান জাতি ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সহায়তা করি।