১১:৫৭ পিএম, ২৩ জানুয়ারী ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

সাফারী পার্কে হাতির মাহুতের বেতন নেই ১৩মাস

১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:১৮ পিএম | মুন্না


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : বিশালাকার প্রাণী হাতিকে পোষ মানাতে গিয়ে জীবনে বহুবার মৃত্যুর মুখে পড়েছেন মাহুত আবু তাহের।  তবুও ছাড়তে পারেননি হাতির প্রতি ভালবাসা।  শরীরে হাতির আক্রমণে বুকের পাঁজর ভাঙ্গার স্বাক্ষী নিয়ে কুসুম মালাকে (হাতীর নাম) নিয়ে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে আগত দর্শনার্থীদের আনন্দের খোড়াক জোগাড় করলেও দীর্ঘ ১৩ মাস যাবৎ বেতন ভাতা না পাওয়ায় পরিবারসহ দুর্বিসহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাকে। 

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রতিষ্ঠালগ্নে ২০১৩ সালে ছয়টি হাতি আনা হয়।  আর এই ছয়টি হাতির জন্য ছয়জন মাহুত (পরিচালনাকারী) আসলেও দুইজনের বেতন ভাতা সাফারী পার্ক প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত করা হলেও চারজনকে আউটসোর্সিং হিসেবে নেয়া হয়।  পরে কিছুদিন সামান্য বেতন ভাতা দেয়া হলেও গত ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়।  গত ১৩ মাস ধরে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাহুত আবু তাহের ছাড়াও মাহুত সাধন, পুনসেন, বিনোদের পরিবার চরম দূর্বিসহ অবস্থায় পড়েছে। 

হাতির মাহুত সাধন চাকমা জানান, পাহাড়ী এলাকায় তাঁদের বাড়ি হওয়ায় ছোটকাল থেকেই নানা ভাবে যুদ্ধ করে তাঁদের টিকে থাকতে হয়।  অনেক সময় পূর্ব পুরুষের মাহুতের পেশা ধরে রাখতেই তাঁরা এ পেশায় নামেন।  হাতির বয়স যখন তিন বছর হয় তখন তাঁকে প্রশিক্ষকের সাহায্যে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।  যার পুরোটায় তত্ত্বাবধান করেন মাহুতরা।  এমনিভাবে বিশেষ প্রশিক্ষনের সাহায্যে তাকে গড়ে তোলা হয়।  এ সময় হাতিটি মাহুতের অধিনস্থ হয়ে যায়।  তবে হাতিটি নির্দ্দিষ্ট মাহুত ছাড়া অন্যের হুকুম পালণ করতে রাজী নয়।  তবে নিজেরা বিশালাকার প্রাণী হাতিকে বশ মানাতে পারলেও বেতন ভাতার অভাবে এ পেশা ছেড়ে দেয়ার কথা আজ ভাবতে হচ্ছে। 

মাহুত পুনসেন জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার পরও শ্রম থেমে থাকেনি।  প্রতিদিন হাতির পরিচর্যা সহ যাবতীয় কাজ করতে হয়।  বেতন-ভাতার অভাবে এখন পুরো পরিবার নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। 

এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জটিলতায় চার মাহুতের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।  বর্তমানে এ প্রকল্প রাজস্ব খাতে যাওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।  প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে চলে গেলেই তারা বেতন ভাতা পাবে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya