৩:৪৪ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

'সফলতার জন্য চাই পরিশ্রম ও লেগে থাকা'

৩১ জুলাই ২০১৭, ০৫:৩৭ পিএম | এন এ খোকন


এসএনএন২৪.কম : শৈশবের দুরন্তপনার মাঝেই বালকটি জীবনের লক্ষ স্থির করেছিল বড় হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করবে, সেই কিনা স্কুল পালিয়ে  জনপ্রিয় লেখক হুমায়ন আহমেদের বাসার খোঁজে ধানমন্ডির অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়িয়েছে।  পকেটে টাকা নেই অথচ বাসায় কাউকে না জানিয়ে হেঁটে  নিজের জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে হাজির হয়েছে বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলে।  অক্লান্ত পরিশ্রম সেই সাথে কোন কিছু নিয়ে লেগে থাকার মত কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে শেষ পর্যন্ত শুরুটা হয়েছিল দিগন্ত টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দুরন্ত সংবাদে কাজ করার মধ্য দিয়ে।  যদিও সেখানের স্মৃতি খুব বেশী সুখকর ছিলনা তবুও যাত্রা তো শুরু হল। 

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় বড় কোন অভিজ্ঞতার আগেই সুযোগ হয় একুশে টেলিভিশনের শিশু কিশোরদের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান মুক্ত খবরে।  আর ষোল বছরের এ বালকটির নিজেকে তৈরী করার জন্য শুরু হয় নতুন করে শেখার যাত্রা।   ফলাফল কিশোর অপরাধ নিয়ে করা প্রতিবেদন গুলোয় দেখা পান সফলতার এবং  সেই সাথে জায়গা করে নেন একই অনুষ্ঠানের সংবাদ উপস্থাপনায়ও।  অব্যাহত সাফল্যের ধারায় গত বছর দীপু হাজরা পরিচালিত একুশে টেলিভিশনের পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অভিনয়ও করেছেন। 

অসম্ভব রকম কল্পনার জগতে রাজত্ব করা এই বালকটির বাসার কাছেই ছিল লাইব্রেরী।   আর সেখানে তার যাতায়াতে যেন হটাৎ করেই সেখানটা মুখর হয়ে ওঠে।  তাকে পেয়ে বসে বই পড়ার মত্ত নেশায়।  প্রতিদিন একটি করে হুমায়ন আহমেদের বই পড়ে তা ফেরত দিয়ে আবার একটি বই নিয়ে বাসায় ফেরা যা কিনা লাইব্রেরীয়ান এর সন্দেহে আটক হয়।  আর এজন্য তাকে প্রায়ই দিতে হয় গল্প সম্পর্কে ব্যাখা।  বিশ কিংবা পঞ্চাশ নয় একে একে এক’শ সত্তরটি বই পড়ে অগোছালো এই ছেলেটি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন বই লিখবে। 

কিন্তু ততদিনে হুমায়ুন আহমেদ এর গভীর প্রেম তাকে আসক্ত করে নিয়ে আসে রাস্তায়।  কোন একজনের কাছে জানতে পারে হুমায়ুন আহমেদ ধানমন্ডি থাকেন।  মাত্র বিশ টাকা পকেটে নিয়ে কাছের এক বন্ধুকে সঙ্গী করে ঘুরে বেড়াতে থাকে ধানমন্ডির অলিতে গলিতে।  অবশেষে হুমায়ুন আহমেদ এর বাসার দেখা পান কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের সাথে দেখা করা কি এতটাই সহজ।  সেখানেও বুদ্ধিদীপ্ত মেধার জোরে কিছু দুর্বলতাকে সুযোগে পরিনত করে ঠিকই পৌঁছে যান হুমায়ুন আহমেদের কক্ষে। 

যার চোখে মুখে অদম্য স্বপ্ন সে তো গল্প ঠিকই লিখলেন কিন্তু গল্প লেখা যত সহজ বই আকারে প্রকাশ করাটা কি ততটা সহজ ছিল? শুরু হল নতুন জুতা পুরান করার প্রচেষ্টা।  দিনের পর দির পান্ডুলিপি হাতে দুই চার দশটা নয় চল্লিশের বেশী প্রকাশনী ছুটে বেরিয়েছেন নিজের লেখা গল্পের বইটি প্রকাশ করতে।  সেই সময়ে গল্পের বই ছাপতে না পারলেও ভিন্ন উপায়ে সফলতা পেয়ে যায়।  গল্পটাকে একটু পরিবর্তন করে শিল্পকলায় তার লেখা গল্পের নাটক মঞ্চায়িত হয়।  আর এটাই বা কম কিসে।  আর সে দিনের সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার লেখা গল্পে নির্মিত হয় টেলিফিল্ম   । 

নিজেকে ডাল ভাত মার্কা সস্তা লেখক হিসেবে পরিচয় দিতে ভালবাসা সদালাপী ”মশিউর রহমান শান্ত’ এর ”ভুত সমাজ বিলুপ্ত” নামের বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে সফলতার যাত্রার শুরু হয়।  প্রতীক প্রকাশনা থেকে চলতি নতুন বছরের প্রথম দিনেই তরুন এ লেখক বই প্রেমীদের হাতে তুলে দিয়েছেন তার মাকে উৎসর্গ করে লেখা “পরছায়া” নামের বইটি।  এ পর্যন্ত তার লেখা ছোট গল্পের সংখ্যা অর্ধশতেরও বেশী।  যাত্রার শেষ এখানেই নয় “মুক্তিযুদ্ধের খোঁজে” নামে একটি বই প্রকাশের জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন তিনি।  বাজারে তার মোট বইয়ের সংখ্যা চার। 

যার পথ চলায় দুরন্ত গতি তাকে কে আটকে রাখবে।  জনকন্ঠে বিনোদন সাংবাদিকতায় নাম লিখিয়ে প্রথম লেখা প্রকাশের মাধ্যমে পত্রিকায় লেখালেখি শুরু সেই কিশোর বয়সেই।  এর পর খেকে বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকায় দুই’শ এর বেশী ফিচার প্রকাশ হয়েছে তার।  কাগজের পত্রিকার পাশাপাশি জাগো নিউজ সহ বেশ কিছু অনলাইন পত্রিকায় তার লেখার সরব উপস্থিতি তো আছেই।  সম্প্রতি প্রথম আলো পত্রিকার নকশায় নিয়মিত লিখছেন। 

কন্ঠে যার কালো যাদু সে কিভাবে মানুষকে মোহিত না করে পারে।  গানপ্রিয় মানুষটি গীটার বাজাতে না জানলেও গীটার হাতে পেলেই টুং টাং করতে থাকেন।  আর তাই লেখালেখির মধ্য দিয়ে এবিসি রেডিও এর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান কুয়াশার স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে ডাক পান।  কিন্তু মায়াভরা মিষ্টি কন্ঠ স্রোতাদের মন জয় করার কাজে অজান্তেই লিপ্ত হয়ে যায়।  আর সেই থেকে গল্প লিখতে লিখতেই হয়ে যান এবিসি রেডিওর আরজে।  প্রাতিষ্ঠানিক কর্মদক্ষতা আর মেধার সমন্বয় করতে করতেই দায়িত্ব কাধে চলে আসে প্রডিউসার হিসেবে।  আর সেই দায়িত্ব পালনের ফাঁকে উদ্যোক্তার খোঁজে ডটকমের সাথে সল্প দৈর্ঘ্য জীবনের গল্পের সফল সমাপ্তি টানেন। 

অসম্ভব প্রেরনাদায়ক ও বিনয়ী এই মানুষটি এত কিছুর পরও পড়াশুনা করছেন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে।  খামখেয়ালীপনার শীর্ষে থাকা উচ্চতর ডিগ্রী প্রাপ্ত শান্ত নামের অশান্ত মানুষটির স্বপ্ন ভাল একজন লেখক হওয়া যাতে অন্যের মনের লাগামটা নিমেষেই তুলে নিতে পারেন নিজের হাতে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya