১২:৪৪ এএম, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০




সফলতার যে ৭ উপায়

১২ মে ২০১৯, ১০:৪৭ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : জীবনে সফল হতে চায় সবাই।  কিন্তু সাফল্য ধরা দেয় কম মানুষকেই।  বলা যায়, সফলতার সোনার কাঠি ছুঁতে পারে না সবাই।  কিন্তু যাদের জীবন সফল তারা কি আপনার অনুকরণীয় অনুস্মরণীয় হতে পারে না! জীবনে কি পেলাম কি পেলাম না সে হিসাব কষতে বসে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।  তারচেয়ে বরং জীবনটাকে কাজের মধ্যে ছুড়ে দিন।  সফলতা এক সময় না এক সময় আসবেই।  এজন্যই বলা হয়- কাজের অপর নামই সফলতা।  

এ প্রতিবেদনে সফল হওয়ার ৭টি উপায় বাতলে দেয়া হলো :

১. সকালে ঘুম থেকে উঠা : অনেকেই আছেন ‘কাজ নেই’ অজুহাতে বেলা করে ঘুম থেকে উঠেন।  কিন্তু জীবনে যারা সফল হয়েছেন তাদের মূলমন্ত্র ছিল ‘আর্লি টু বেড আর্লি টু রাইজ’।  এছাড়া সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠলে সারা দিন মস্তিষ্ক থাকে ক্ষুরধার, মন থাকে সতেজ।  কাজেও পাওয়া যায় বাড়তি মনোযোগ ও শক্তি।  

২. কর্মপরিকল্পনা : সঠিক পরিকল্পনা কাজের অর্ধেকটা করে দেয়।  ‘কোনটা রেখে কোনটা করি, কোনটা আগে কোনটা পড়ে করি’ এ ধরনের দোটানায় ভোগা যাবে না।  গুরুত্ব বুঝে কাজে হাত দিন।  প্ল্যানটাও সে অনুযায়ীই সাজান।  কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ একটু দেরিতে হলেও ক্ষতি নেই।  প্রয়োজনের কাজটাই আগে ঝটপট সেরে নিন।  

৩. শরীরচর্চা : মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- প্রতিদিন নিয়ম মেনে শরীরচর্চা আর ব্যায়াম করতেই কি সফলতা পাওয়া যাবে? কিন্তু মনে রাখবেন শরীর একটা যন্ত্রের মতো।  নিয়মিত ব্যবহারের অভাবে যন্ত্র যেমন বিকল হয়ে পড়ে, পরিমিত ব্যায়ামের অভাবে শরীরও তেমনি হয়ে পড়ে স্থবির।  তাই সফল মানুষরা প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রাখতে শরীরচর্চার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্বারোপ করেছেন।  

৪. লক্ষ্য স্থির করুন : এক লাফে কেউ ১৪ তলায় উঠে যেতে পারে না।  সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে হয় ধাপে ধাপে, একটু একটু করে, ধীরে ধীরে।  সেজন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়।  লক্ষ্য ঠিক না থাকলে সারা দিন দৌড়ালেও গন্তব্যে পৌঁছুনো যাবে না।  লক্ষ্যটা স্থির থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছুনোও সহজ হয়ে যায়।  

৫. বইপড়া : জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে জ্ঞানের কোনও বিকল্প নেই।  সেজন্যই কথায় বলে, মূর্খ বন্ধুর চেয়ে জ্ঞানী শত্রু ভালো।  এই পৃথিবীতে যুগে যুগে যারা সফলতার শীর্ষে পৌঁছেছেন তাদের জ্ঞানচর্চা ছিল বিরামহীন।  পৃথিবীতে এমন সফল মানুষও আছেন যাদের প্রতিদিন দু-চার ঘণ্টা বই না পড়লে ঘুমই হয় না।  কারণ বইয়ের পাতায় পাতায় থাকে বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা।  অতএব বই পড়ার অভ্যেসটা আগে রপ্ত করুন। 

৬. প্রস্তুতি : বিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসোর কাছে এবার এক ভদ্র মহিলা এসে আবদার করলে তাকে একটি পোর্ট্রেট এঁকে দিতে।  পিকাসো মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই তুলির টানে পোর্ট্রেটটি এঁকে ফেললেন।  মহিলাকে বললেন- এর দাম ১০ হাজার ডলার।  মহিলাতো চমকে গেলেন।  পিকাসোকে বললেন, মাত্র ৩০ সেকেন্ড লেগেছে আপনার এটি আঁকতে।  সেজন্য এত টাকা।  উত্তরে পিকাসো বলেছিলেন- ৩০ সেকেন্ডে এমন একটি পোর্ট্রেট আঁকা রপ্ত করতে আমার সময় লেগেছে ৩০ বছর।  তাই এর দাম ১০ হাজার ডলার।  এ থেকেই স্পষ্ট, জীবনে প্রস্তুতিটা ভালো না হলে হুটহাট করে ভালো কিছু হয় না। 

৭. কাজ করে যান : অতীত কিংবা ভবিষ্যতের ধারণা পুরোপুরি আপেক্ষিক।  আজকের দিনটাই সব।  আজ ভালো করে কাজ করুন, আগামীকালটা সুন্দর হবেই।  আজ যদি কাজে ভালো করেন তবে দারুণ একটি ভবিষ্যত আপনার হাতে ধরা দেবেই।  আর আজ কাজ করবেন না, পরদিন সকালে বলবেন- গতকাল দিনটা ভালো যায়নি।  তা তো হতে পারে না।  

উল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দিন।  জীবনে কর্মে যারা সফল হয়েছেন তাদের মধ্যে এইসব গুণগুলোই সবচেয়ে বেশি ছিল।