৯:৪৫ এএম, ৪ জুন ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ১২ শাওয়াল ১৪৪১




সবাইতো সুখী হতে চাই,কপালে সবার নাকি সুখ সয় না

০৪ এপ্রিল ২০২০, ০২:৪৩ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলমঃ দুনিয়াটা যুদ্ধক্ষেত্র এই যুদ্ধে জয়ী হতে হয় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। 

এই সংগ্রাম নানানভাবে, নানান কারণে হতে পারে।  মানুষকে বেঁচে থাকতে হয় জীবনের নিয়মে। 

জীবন চলার পথে কেউ নিজের যোগ্যতার বলে নিজের ক্যারিয়ার গঠন করে আবার কেউ কারো মাধ্যম ধরে সেটা অর্জন করে। 

আবার এমনও দেখা যায় যোগ্যতাও নেই, অর্থও নেই শুধু উপর মহলের তদবিরে হয়ে থাকে। 

কথা হলো যে যেইভাবে ক্যারিয়ার গঠন করুক না কেন সবার উদ্দেশ্য একটায় তা হলো সুখে থাকা। 

নিজে সুখে থাকা-আত্মীয় স্বজনের সুখ ইত্যাদি। 

প্রথম প্রথম প্রত্যেকের ক্যারিয়ারে নিজস্বতার কিছু প্রকাশ পায় পরবর্তীতে পরিবর্তনও হয়ে যায়।  সংসারের ভার যখন নিজের উপর আসে তখন বিলাসীতার ইচ্ছা থাকলেও তা থেকে গুটিয়ে নিতে হয়। 

তার একমাত্র কারণ সবাইকে নিয়ে সুখে থাকা।  যেদিক থেকে যতই সুযোগ সুবিধা আসুক প্রথমদিকে সে সুযোগটি নিজের এবং স্বজনদের নিয়ে চিন্তা করে তারপর অন্যদের নিয়ে ভাবে যা অতীব বাস্তব। 

সুখের আশায় ভবিষ্যতের চিন্তায় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনাও হাতে নিয়ে রাখে, সঞ্চয় করে-জায়গা-জমি ক্রয় করে-স্বর্ণালংকার সংগ্রহে রাখে-জায়গায় জায়গায় টাকা ব্যবসাতে লাগায়, যার ফলে মাসিক কিংবা দৈনিক নাহয় বাৎসরিক একটা উপার্জনের পথ বের করে রাখে একমাত্র সুখের আশায়। 

নিজের কষ্টার্জিত সারাজীবনের উপার্জন সন্তানাদির জন্য রেখে যেতে পারলেই প্রত্যেক বাবারাই শান্তি পাই তবে সেটা তো সবার হয়ে উঠে না। 

যাদের অঢেল ধন-সম্পদে ভরা তাদের সমস্যা থাকেনা।  সমস্যায় পড়ে যাঁরা সারাবছর সাংসারিক ঘানি টানতে গিয়ে, নিজের পরিবারের ব্যক্তিগত ব্যয়ভার বহন করা, তৎমধ্যে বাড়তি সন্তানাদির জন্য রেখে যাওয়া তা কল্পনা করা বৃথা। 

ধীরে ধীরে সাংসারিক জীবনে নেমে অশান্তির ছাপ, সংসার বড় হয়ে যাওয়া-ভাই-বোনদের যাবতীয় খরচাপাতি-বিয়ের আয়োজন আরো বাৎসরিক কতো নানান আয়োজনে পর্যাপ্ত আয়ের, অধিকহারে ব্যয় সবকিছু উলটপালট হয়ে যায়। 

আবার উপার্জনক্ষম ব্যক্তির হঠাৎ আয়ের উৎস স্থিমিত হয়ে যাওয়ার ফলে নেমে আসে চরম বিপর্যয়।  এই কঠিন   ৷ 

 মুুখে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর লোক থাকলেই হয়তো ঘুরে দাঁড়াবে কিন্তু কেউ না থাকলেতো এখানেই সুখের ঘূর্ণীচাকা বন্ধ হয়ে যাবে। 

সবকিছু মেনে নিয়ে সমাজে বসবাস করতে হবে সাথে সাথে সামাজিক মর্যাদাও রক্ষা করতে হবে তাহলে কতটুকু বুকে চাপাকান্না সয়ে তা মোকাবিলা করতে হয়? যে সংসার আগে কেমন ছিলো বর্তমানে কেমন অবস্থানে তা ভাবতেই কেমন জানি লাগবে। 

এককথায় বলতে হয় সুখের জন্য, পরিবারকে আনন্দের মাঝে রাখতে প্রয়োজনে খারাপ কাজের পন্থাও অবলম্বন করে। 

আশপাশের লোকে জানলে জেনে যাবে আর না জানলে চালিয়ে যাবে শেষে অপরাধী হয়ে সমাজের চোখে বেঁচে থাকবে এইতো সুখে থাকার ছোট গল্প। 

আবার হাজারো পরিবার রয়েছে যাদের সন্তান সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম। 

সেসব সন্তানের জন্য পিতা-মাতা কোনো কিছু অপূর্ণ রাখেনা, তাদের সুখের জন্য যা বায়না ধরে সেটা মুহূর্তেই আবদার মিটিয়ে দে। 

সে সন্তানেরা বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত আজ এইটা কাল সেইটা যখন মন চাই তখন সেটা করে বসে।  মন চাই হঠাৎ দেশের বাইরে যাবে, দেখা যাবে কাল দেশে নেই। পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তাদের চাহিদা অনুযায়ী স্কুল-কলেজে থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার সুযোগ মিলে যা সন্তানের জন্য বড় পাওয়া। 

সুখী হতে কে না চায় এই পার্থিব জীবনে? একটু সুখের লাগি সংসারের মায়া ছেড়ে প্রবাস জীবনে পাড়ি জমাই। 

পরিবারের যে সদস্য ভবঘুরে ঘুরে বেড়ায় সে-ও আজ সুখী জীবনের কথা ভাবে আর সংসার করার চিন্তা মাথায় ঢুকে।  সুখ যদি থাকে অল্পতেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আর অল্পতে যার সন্তোষ প্রকাশের নামগন্ধ নেই, তাঁর কপালে সুখ আসবে কি করে? ছেঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা, কষ্ট ত্যাগ স্বীকার না করে ফ্রী খাওয়ার চিন্তা আসে যার-শরীর কমে যাবে বলে অন্যের ঘারের উপর চলা যার স্বভাব -দুঃখের কথা বুঝাবে বলে কেটে পড়া হয়তো সাহায্যের কথা বলতে গিয়ে উল্টো নিজেরা অর্থ কষ্টে আছে বলে গল্প শুরু করা অথচ চাইলে কোনো ব্যাপার না,করতে পারতো-নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো অভ্যাস আছে যার তাঁর কপালে কি করে সুখ আশা করা যায়? যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই যথেষ্ট অপ্রয়োজনে বাড়তি ব্যয়, মানেই -অপব্যয় করার ফলে একসময় আফসোস করা। 

মাঝেমধ্যে দেখা যায় স্বামীর সংসারে সবকিছু পাওয়ার পরেও কিছু ক্ষেত্রে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা স্বামী কখনো মেনে নিতে পারেনা। 

একপর্যায়ে মনোমালিন্য হয়ে সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় ফলে বেশি সুখে থাকার সুখ কপালে সইলোনা।  এমনও হয় যারা প্রবাস জীবনে আছে তাদের মধ্যেও অনেকে ভালো চাকরিতে কর্মরত থাকার পরও আরো ভালো জবের আশায় চাকরি খুঁজতে গিয়ে যে চাকরি আছে সেটাও হারিয়ে বসে। 

আইনের আওতাধীন আইন অমান্য করার পরিণাম চাকরিচ্যুত হওয়া।  সুতরাং সুখ জিনিসটা আপনা-আপনি আসেনা সেটাকে অর্জন করে নিতে হয় নিজের শ্রম-মেধা দিয়ে।  যার ফলে সৃষ্টি হয় নিজের একটা অবস্থান যেটার ফলে স্বাবলম্বী হয় আর্থিকভাবে। 

মানসিকভাবেও তৃপ্তি পায় তাঁর প্রতিটি কাজে এবং মন-মানসিকতার পরিবর্তন হয়, সুখটাও অনুভব করতে পারে।  সবাই সুখী হোক, আনন্দে থাকুক, সুস্থ থাকুক।  ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা । 


keya