৫:২৩ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০২০, শনিবার | | ১০ শা'বান ১৪৪১




সবুজের ঢেউয়ে দোলে কৃষকের স্বপ্ন

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:০৩ পিএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ  লালমনিরহাটের তিস্তা চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ।  সমুদ্রের ছোট ছোট ঢেউয়ের মতো খেলে যাচ্ছে সবুজ পাতাগুলো। 

আর এমন সবুজ সমুদ্রের ঢেউয়ে দুলে উঠছে কৃষকের স্বপ্ন।  কদিন পরেই সবুজ চারাগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করবে।  এবার তিস্তার বালু চরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষকরা।  তিস্তার বালু চর এখন আর অভিশাপ নয়। 

বালু চরে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে তিস্তা পাড়ের হাজারও কৃষক এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। 

গতবার বন্যায় তিস্তা ভাঙনে হাজারও পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়ে।  বালু পরে নষ্ট হয়ে যায় কয়েক হেক্টর ফসলি জমি।  বন্যার পানির সঙ্গে আসা বালু জমিতে পতিত হয়ে জমিকে চাষের অনুপযোগী করে তোলে। 

তবে কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে জমির উপরের বালু মাটি তুলে এঁটেল মাটি বের করে চাষ করেন মিষ্টি কুমড়া, পিয়াঁজ, মরিচ, রসুন, খিরা, মশুর ডালসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি।  বালু চরে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে অনেকে সাফল্যের মুখ দেখছেন।  তিস্তার চরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার তিস্তা পাড়ের গোর্ধন এলাকার বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন প্রায় ৪ একর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন।  আশানুরূপ দাম পেলে সাফল্যের মুখ দেখবেন। 

এদিকে সবাই যেখানে তিস্তা চরে ভুট্টা চাষ নিয়ে ব্যস্ত সেখানে কৃষক মুকুল মিয়া ভিন্নধর্মী ফসল চাষ করে ভিন্নতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।  এতে ভুট্টা চাষিদের চেয়ে অধিক লাভবান হবেন
বলে আশা করছেন তিনি। 

তিস্তার চরের কৃষক মুকুল মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে দেয়া হয়েছে কুমড়া চাষের  বীজ, সার।  একেকটি গর্তে চারটি করে চারা লাগিয়েছে।  প্রতিটি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫টি করে কুমড়া উঠবে বলে তিনি জানান।  তিনি আরও আগামী রমজান মাসে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করার জন্য মজুদ করে রাখছি।  ভালো দাম পেলে বিক্রি করে দিব।  আশা করছি আরও ২০ হাজার টাকার উর্ধ্বে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে পারবো।  এবারে তিস্তার বালু চরে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে বলে তিনি জানান। 

আদিতমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) আলিনুর রহমান জানান, চরের জমিতে প্রতিবছর ভুট্টা, বাদাম, রসুন, পিঁয়াজ, মরিচ, কুমড়া, ধান ও সবজিসহ বিভিন্ন জাতীয় ফসল চাষ হয়ে থাকে।  চমৎকার ফলনও পেয়ে থাকে কৃষকরা।  তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ সংশ্লিষ্ট এলাকার আওতায় চরের জমিতে গিয়ে কৃষকদের মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকে।  যদি নদী শাসনের মাধ্যমে চরের এসব ফসলি জমিতে পরিকল্পিত চাষাবাদ করার ব্যবস্থা করা যায় তাহলে লালমনিরহাট কৃষি অর্থনীতি আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।