১২:৪৫ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

সাংবাদিকদের কর্মসূচিতে তথ্যমন্ত্রীকে বর্জনের ডাক

২৪ আগস্ট ২০১৭, ১০:৩৫ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কমঃ সাংবাদিকদের সংগঠনের সব কর্মসূচিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে বর্জনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে-একাংশ) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে-একাংশ)। 

জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ ডাক দেয় সংগঠন দুটি।  ‘নবম ওয়েজবোর্ড সম্পর্কে অর্থমন্ত্রীর অশোভন বক্তব্যের প্রতিবাদ ও তথ্যমন্ত্রীর অপসারণ’ দাবিতে যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএফইউজে’র সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমরা পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠনের সব কর্মসূচিতে তথ্যমন্ত্রীকে বর্জনের ডাক দিয়েছি।  তথ্যমন্ত্রী যে সব অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন সেখানে সাংবাদিক ইউনিয়ন ও অন্য সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা অতিথি বা বক্তা হবেন না।  তবে তথ্যমন্ত্রীর সংবাদ বয়কটের ডাক এখনই আমার দিচ্ছি না। ’

নবম ওয়েজবোর্ড গঠনে গড়িমসি, নতুন ওয়েজবোর্ডে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করতে ৪০ মাসেও ১৯৭৪ সালের আইন সংশোধন না করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। 

বিএফইউজে’র সভাপতি বলেন, ‘নবম ওয়েজবোর্ড গঠনে মালিকরা প্রতিনিধি দেবেন না, আর সেজন্য ওয়েজবার্ড গঠন আটকে থাকবে এটা তো হয় না।  মালিকরা তাদের সুবিধার কথা সরকারের সামনে তুলে ধরতে পারেন।  এতে আমরাও তাদের সহযোগিতা করব। ’

সংবাদ সম্মেলনে ‘অবিলম্বে নবম ওয়েজবোর্ড চাই : বিভ্রান্তি ছাড়ানো বন্ধ করুন’ শিরোনামে দুটি সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএফইউজে’র মহাসচিব ওমর ফারুক। 

তিনি বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিক ওয়েজবোর্ড গঠনের বিষয়ে পরিকল্পিতভাবে কালক্ষেপণ করে চলেছেন।  গণমাধ্যমের দাবি ও অধিকার সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।  তিনি (তথ্যমন্ত্রী) গত ৪০ মাসেও ১৯৭৪ সালের আইন সংশোধন না করে নতুন ওয়েজবোর্ডে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নির্ধারণকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। ’

‘অবিরাম অসত্য প্রতিশ্রুতি, কথা দিয়ে কথা না রাখা, শুধু বৈঠক আর কথায় কালক্ষেপণ আর সব কাজে ধীরগতিতে রেকর্ড স্থাপন করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রণালয়’ বলেন ওমর ফারুক। 

দ্রুত নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা ও তাতে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তের দাবি জানিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএফইউজের মহাসচিব। 

তিনি বলেন, ‘৩১ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে গণমাধ্যম সম্পর্কিত সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে।  ৯ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর এবং সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল হবে।  ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে দিনব্যাপী অনশন হবে। ’

২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সচিবালয়ের সামনে প্রতিদিন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে জানিয়ে ওমর ফারুক বলেন, ‘অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারী মহাসমাবেশ হবে, সেখানে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ’

সংবাদ সম্মেলনে ডিইউজে’র সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, ‘বুলবুল ভাই যা বলেছেন সেগুলো আমাদেরও কথা।  আগামীতে আমরা তার নেতৃত্বে অন্যান্য কর্মসূচি পালন করব। ’

লিখিত বক্তব্যে দুটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, তথ্যমন্ত্রী গত ৬ মাস ধরে বলছেন মালিকরা নাম দিচ্ছে না।  এখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে কেউ নাম না দিলে কি বোর্ড গঠন করা যাবে না।  এর জবাব হচ্ছে- অবশ্যই যাবে।  শ্রম আইন অনুযায়ী সরকার স্ব-উদ্যোগে মালিক ও শ্রমিকদের সমসংখ্যক প্রতিনিধি মনোনয়ন দিয়ে বোর্ড করতে পারবে।  কিন্তু মন্ত্রী সে পথে না হেঁটে মালিকদের পথে হাঁটছেন। 

আরও বলা হয়, কোনো কোনো মালিক নেতার পরিকল্পনা, ইস্যুটি ঝুলিয়ে রেখে নির্বাচনী বছরে এই পেশাজীবীদের মধ্যে সরকারবিরোধী ক্ষোভ উস্কে দেয়া এবং তা জিইয়ে রাখা।  দুঃখজনকভাবে সরকারের একজন মন্ত্রী সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন। 

তথ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী দেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ৪৭৮টি উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অথচ মন্ত্রী যে মালিক সংগঠনের প্রতিনিধির জন্য অপেক্ষা করছেন সেই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৩০ জন বা ৩০টি প্রতিষ্ঠানের বেশি নয়। 

সাংবাদিকরা সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি বেতন পান অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করে বিএফইউজে-ডিইউজের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাংবাদিক সমাজের ন্যূনতম মজুরি কোনো অবস্থাতেই সরকারি কর্মকর্তাদের ধারে কাছেও নেই।  অসত্য তথ্য দিয়ে কুচক্রীরা অর্থমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। ’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধের দাবিও জানান বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা। 

সংবাদ সম্মেলনে ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজে'র যুগ্ম মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলকসহ দুই সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।