১২:২১ পিএম, ২৯ মে ২০২০, শুক্রবার | | ৬ শাওয়াল ১৪৪১




সমুদ্রের সাথে মিতালি

১৬ মার্চ ২০১৯, ০৪:৪৪ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ।  শিক্ষার একটা অংশ হিসাবে প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরে ও প্রকৃতির সাথে মিতালি করতে যাই এই পরিবার।  নানা শংকা,প্রকৃতির প্রতিকূল অবস্থা সব কিছুকে হার মানিয়ে নাচে গানে, খেলাধুলায় মাতিয়ে তুলে  কক্সবাজার বিচ,  সেন্টমার্টিন দ্বীপ ও বাংলাদের সব সর্ব দক্ষিণ স্থান ছেড়া দ্বীপ। 

২৭ তারিখ যাওয়ার কথা থাকলে ও আবহাওয়া অফিসের ৩ নম্বর সর্তকতা সংকেত উচ্ছাসিত শিক্ষার্থীদের  হ্রদয়ে নাড়া দেয়। তারিখ পরিবর্তন করে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ নিয়ে যাওয়া হয় শিক্ষা সফর। 

বিভাগের বড় ছোট সবার সাথে একটা সুহাদ্য পূর্ন সর্ম্পক গড়ে ওঠার একটা মোক্ষম সুযোগ হল এই শিক্ষা সফর।  শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে থাকে না ফারাক । সবাই প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে সাহিত্য জগতের স্বাদ আস্বাদন করে। 

সাহিত্যের  এবং প্রকৃতি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তা প্রাচীন সাহিত্য থেকে শুরু করে সাহিত্যের প্রতিটি যুগে রয়েছে এক একটা যুগসন্ধি।  সাহিত্য শুধু পাঠ্য পুস্তকে নয়।  সাহিত্যের শিক্ষার্থী হিসাবে The Rime of Ancient Mariner,  The Riders to the Sea,The old Man and the Sea এই সব সাহিত্য গুলো যেভাবে  প্রকৃতির সাথে মানুষের  সর্ম্পক, প্রকৃতির বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়, তেমনি কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন আর ছেড়া দ্বীপ আমাদের এই সব সাহিত্যের রস যেন হাতে কলমে দেখার সুযোগ করে দেয়। 

বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরিফ উদ্দিন বলেন বিভাগের সাথে কোন প্রোগ্রাম মানে আলাদা অনুভূতি।  আমরা যেহেতু বিদায়লগ্নে, এই স্মৃতি গুলা আমাদের খুব বেশি নাড়া দিবে। সেই দীর্ঘ ছয়টি বছর এই পরিবারের সাথে কাটিয়েছি। 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে বিভাগের নতুন সদস্য হওয়ায় উচ্ছ্বসিত ছিল বেশি। পরিবারের নতুন সদস্য রিমা জাহান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন আসলে বিশ্বাসই করি নাই যে বড় ছোট সবাই একসাথে এত কাছাকাছি আসতে পারে। আমার লাইফে মনের রাখার মত একটা ফটো এলবাম হয়ে গেলো। শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাই  মিলে অনেক মজা করলাম যা আমার জীবনের সেরা একটা অধ্যায় হয়ে থাকবে। 

সব চেয়ে আনন্দ ও ভীতিকর ছিল জাহাজে করে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া। জাহাজ ছাড়ার সাথে সাথে এক ঝাক সাদা সাদা সমুদ্রের পাখি জাহাজের সাথে আড়ি করা,টেকনাফ পাহাড় এবং সমুদ্রের অপরুপ দৃশ্য ছিল দৃষ্টিনন্দন। জাহাজ যখন নাফ নদী পেরিয়ে, তখন সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ যেন সবাই চিতকার করতে করতে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে থাকে। বিশাল বিশাল ঢেউ জাহাজকে উপ্রে উঠিয়ে ফেলে।  সৃষ্টিকর্তার কি বিলাল সৃষ্টি তা না দেখলে বুঝা যাবে না। অনেকে ভয়ে কান্নাকাটি, আবার অনেকে বমি করা,সবকিছু মিলে একটা যেমন আনন্দের ছিল, তেমনি একটা ভীতিকর পরিস্থিতির। 

খেলা ধুলার অংশ হিসাবে ডিপার্টমেন্ট প্রধান আলী  রেজোয়ান তালুকদার বনাম ট্যুর কমিটির সভাপতি ফিরুজ আহমদ এর মধ্যেকার বিচ ফুটবল ম্যাচ, মেয়েদের তিন পায়ে ও ছেলেদের ২০০ মি. দোড় ছিল অসাধারণ মুহূর্ত।  সেন্টমার্টিন বিচ যেন কুবি র ইংরেজি পরিবারের সাথে দারুন একাত্বতা।  পরে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা,বারবিকিউ,বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ,  প্রতিটা ইভেন্ট ছিল মনে রাখার মত। 

নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুস্থ সুন্দর ভাবে প্রকৃতির সাথে মিতালি করে ফিরে আসে এই পরিবারের সকল সদস্য। 

লেখক :

মো.শাহজাহান  শাহীন 

শিক্ষার্থী কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় 

ইংরেজি  বিভাগ