২:১০ এএম, ৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার | | ১১ শা'বান ১৪৪১




সাম্প্রতিক ঘটনায় জনজীবনে হতাশারচাপ

১৯ মার্চ ২০২০, ০২:৪০ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: আল্লাহর কাছে অশেষ শোকরিয়া জ্ঞাপন করেন অন্তত এই দেশে আপনারা/আমরা নিরবচ্ছিন্ন স্বাধীনভাবে রাজারহালে-রাজপথে- রাজারমতো ঘুরে বেড়াচ্ছি। 

বহির্বিশ্বের খবরা-খবর নিজ দেশের খবরের চাইতে অনেক বেশি রাখা হচ্ছে যা অতীতে প্রয়োজন পড়েনি। 

এই দেশের লক্ষ লক্ষ রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশে গৃহবন্দী, তারাইতো দেশের পরিবারের বড়ছেলে, মেজ ছেলে,ছোট ছেলে এরাই তো সংসারের অভিভাবক। 

তাদের করুণ পরিস্থিতিতে আমার কোনো মাথাব্যথা না থাকতে পারে কিন্তু একবারও কি ভাবা যায়! সে সন্তানের মায়ের দুশ্চিন্তা কতটুকু, যা একটি পরিবারকে অনেক কষ্ট পেতে হয়? স্ত্রীর আহাজারি, পিতার জন্য সন্তানের, হয়তো বিদেশে অবস্থানরত নবদম্পতি নতুবা সবেমাত্র নতুন কর্মস্থলে যোগদানের মুহূর্তে। 

যদি ব্যবসা-বাণিজ্য অচল হয়ে যায়, "কোয়ারান্টাইনে"- থাকতে হয়, সঙ্গনিরোধ যাকে বলা হয়।  একজন আরেকজন থেকে আলাদা থাকতে হচ্ছে যাতে অন্যজনকে নিরাপদ রাখা যায়, কিছুই করার নেই পরিস্থিতি যেখানে যেমন তেমনভাবে পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হয়।  পরিবারে যাদের সন্তান বিদেশে তাঁরা যে হতাশায় ভুগছেন তা নিসন্দেহে অসত্য নয়। 

(১) এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রথম চিন্তা ও হতাশার কারণ হবে- দুঃখী মায়ের সন্তান বেঁচে থাকার আরজি।  (২) পরিবারের ভরনপোষণ  কিংবা অভিভাবকের দায়িত্ব পালনের ভার থাকলে সংসারের ব্যয়ভার কি হবে। (৩) যাঁরা ঋণ করে কোনোমতে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে প্রতি মাসে বেতন থেকে কিছু কর্তনের মাধ্যমে তাদের ঋণশোধের বোঝা কে বহন করবে।  (৪) যে সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ হবার আশায় নিজেকে শত ত্যাগ স্বীকার করে নামী-দামী স্কুলে ভর্তি আছে তা নিশ্চয়ই ব্যয়েরভার তাদের ইনকামের বাইরে নয়, সুতরাং সন্তানের ভবিষ্যত কি হবে।  (৫) যারা দেশে ছুটিতে এসেছে কিংবা যাওয়ার মুহূর্তে আর সেদেশে প্রবেশের সুযোগ না থাকে, ভিসার মেয়াদ চলে গেলে তখন কি হবে?। (৬) আল্লাহ না করুক এই প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপধারণ করলে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য কোথায় গিয়ে ঠেকবে? দেশের হতদরিদ্রের অবস্থা কি হবে?।  (৭) সাধারণ জনমনে হতাশা বেড়ে যাচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিয়ে, যা চলমান রোগ-ব্যধি আছে সেগুলোর চিকিৎসা সেবা  যথাযথ সঠিক সময়ে পাবে কিনা। (৮) সকল বিধিনিষেধ মেনে চলে আদৌ সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে কিনা এই ভাবনাগুলোই এখন সাধারণ জনমনে। 

যেভাবে প্রচার-প্রচারণা সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,সংগঠন, ইউনিয়ন পরিষদ করে যাচ্ছে এমনকি বিভিন্ন জায়গায় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে "মাইকিং" হচ্ছে, লিফলেট বিতরণ কিছু কিছু স্থানে মুখের মাস্ক বিতরণ সত্যিই এই উদ্যোগ প্রশংসার।  আমরা আমাদের নিজ পরিবার পরিজনদের জন্য অন্তত বাসায় নিজেদেরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার চেষ্টা করি, প্রত্যেকে হাত-মুখ মুটামুটি নিজেকে আর সন্তানদের ব্যাপারে সজাগ হই এইভাবে প্রতিটি জায়গায় মহল্লায়, গ্রামে, শহরে,বন্দরে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। 

নিজেরদের মনে সাচ্ছন্দ্যবোধ জাগ্রত হবে।  যাঁরা যে অবস্থায় এই কঠিন পরিস্থিতির স্বীকার আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক, ধৈর্য্য ধারনের ক্ষমতা দিক,রোগের থেকে শেফা দিক,মসজিদে মসজিদে দোয়া ও কোরআন তেলোয়াত অব্যাহত রাখুক, সমস্ত ফেৎনা-ফ্যাসাদ থেকে দুরে রাখুক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য দোয়া করুক সর্বোপরি খোদার দরবারে ফরিয়াদ জানায় এই চরম পরিস্থিতি থেকে এই দেশ তথা বিশ্বের সকলকে রক্ষা করুক।  আমিন। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।