৫:১২ এএম, ১৯ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশের উৎপাদিত ফুল বিদেশে রফতানি বাড়ছে

০৬ জুন ২০১৮, ১১:২৮ এএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : নানামুখী সীমাবদ্ধতার মাঝেও বাংলাদেশে উৎপাদিত ফুল বিদেশে রফতানি হচ্ছে।  অন্ততপক্ষে এদেশে উৎপাদিত অন্যতম দশ প্রজাতির ফুল বিদেশে রফতানি হচ্ছে।  পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের দেশের কাঁচা ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 

এসব কাঁচা ফুল আমেরিকা, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়া, ফ্রান্স, জাপান, বেলজিয়াম, ইটালি, কেনিয়া, কলম্বিয়া, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, পর্তুগাল, কোরিয়া, চীনসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।  জানা গেছে, এসব ফুল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে রফতানি হচ্ছে। 

সূত্র মতে, আমাদের দেশ থেকে বিদেশে কাঁচা ফুল রফতানি শুরু হয় ৯০ দশকের দিকে।  বিদেশে রফতানি ছাড়াও আমাদের দেশেও কাঁচা ফুলের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে।  আমাদের দেশে উৎপাদিত কাঁচা ফুলের মধ্যে রয়েছে গ্লাডিউলাস, রজনীগন্ধা, বিভিন্ন জাতের গোলাপ, গাদা, লিলিয়াম, থাই অর্কিড, কার্নেশন, শর্বরা, গ্লোবাল, জাতীয় ফুল।  কাঁচা ফুল উত্পাদনের জন্য আমাদের দেশের মাটি এবং জলবায়ু খুবই উপযোগী।  দেশের বিভিন্ন স্থানে কাচাঁফুল উৎপাদন হয়। 

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায় বেশিরভাগ ফুল উৎপন্ন হয়।  সারা বাংলাদেশে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁচা ফুলের চাষ হচ্ছে।  বর্তমানে আরো আট হাজার একর জায়গা কাঁচা ফুল চাষের আওতায় আনা হচ্ছে।  কাঁচা ফুল উৎপাদন এবং এর সাথে সরাসরি প্রায় দেড় লাখ লোক জড়িত আছে।  দেশের কাঁচা ফুলের ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ছয় লাখ লোক জড়িত আছে। 

উদ্যোক্তারা জানান, কাঁচা ফুল চাষে বড় আকারের মূলধনের প্রয়োজন পড়ে না।  কিন্তু গরীব চাষীরা মূলধনের অভাবে ফুলের চাষ করতে পারছেন না।  দেশে কাঁচা ফুল চাষের ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে তেমন সাহায্য সহযোগিতা পায় না ফুল চাষিরা।  ফুলচাষ করতে গিয়ে কৃষকরা উন্নতজাতের বীজ, চারা, সার, কীটনাশক, সহজে পায় না।  কৃষকরা ফুল উৎপাদন করে প্রকৃত মূল্য পায় না।  উৎপাদিত কাঁচা ফুল বিপণন, পরিবহনে সমন্বয় না থাকায় কৃষকরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।  ফুল সংরক্ষণের হিমাগার এবং পরিবহনের জন্য ফ্রিজারভ্যানের ব্যবস্থা আজো করা হয়নি। 

তারপরও দেশে কাঁচা ফুলের ব্যবসা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে।  রাজধানী ঢাকাতে প্রায় পাঁচ শতাধিক কাঁচা ফুলের দোকান রয়েছে।  ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা উপজেলায় কাঁচা ফুলের দোকান গড়ে উঠেছে। 

সূত্র মতে, ২০১৩ সালে কাঁচাফুল রফতানি করে আয় হয় ১৬.২৮ মিলিয়ন ডলার, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ২০ মিলিয়ন ডলারের উন্নীত হয়েছে।  বিদেশে আমাদের দেশের কাঁচা ফুল দিয়ে নানা ধরনের সুগন্ধী দ্রব্য, হার্বাল প্রসাধনী সামগ্রী এবং ভেষজ ওষুধ তৈরি হচ্ছে। 

উদ্যোক্তারা বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমাদের দেশের কাঁচা ফুলের যথেষ্ট চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে চাহিদ অনুযায়ী কাঁচা ফুল রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে না।  বিদেশে কাঁচা ফুলের বাজার সন্ধান করে সরকারি উদ্যোগে কাঁচা ফুল রফতানির ব্যবস্থা করলে দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে ফুল ব্যবসায়ী এবং ফুল চাষীরা আর্থিকভাবে লাভবান হতেন। 

তারা বলেন, উৎপাদন বাজারজাতকরণ এবং রফতানির ব্যাপারে নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে।  বীজ উত্পাদন প্রযুক্তি গবেষণায় ল্যাবরেটরি স্থাপন, ফুলচাষি, ফুল ব্যবসায়ী এবং ডিজাইনারদের জন্য পোস্ট হারভেস্ট ম্যানেজমেন্টের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।  দেশের কাঁচা ফুল একটি সম্ভাবনাময় শিল্প।  এ ব্যাপারে সরকারের সুনজর দেয়া প্রয়োজন।