৩:০০ এএম, ২১ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

সম্মেলনে ছাত্র সংগঠনটির দৃশ্যমান প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না

০৬ মার্চ ২০১৮, ০৯:৩০ এএম | মুন্না


এসএনএন২৪.কম : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা চলতি মাসের মধ্যেই ছাত্রলীগকে সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্দেশ দিলেও সংগঠনে সম্মেলন করতে ছাত্র সংগঠনটির দৃশ্যমান প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। 

ছাত্রলীগের নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন করে নতুনদের হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিতে একাংশের আপত্তি আছে।  এ ক্ষেত্রে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অযুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চাইছেন। 

সম্মেলন না করতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মধ্যে যারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন, তাদের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতারা।  তাদের মাধ্যমে শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছার চেষ্টা চলছে। 

তবে আওয়ামী লীগের প্রখন অগ্রাধিকার ৭ মার্চের জনসভা।  ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্মরণে এই জনসভা সফল করতেই ব্যস্ত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। 

এই সমাবেশের পরই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সম্মেলন পিছিয়ে দেয়ার পরামর্শ নিয়ে বসতে চান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। 

সম্মেলন করতে না চাওয়ার জায়গা থেকে ছাত্রলীগে সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বও মিটে গেছে বলে ঢাকাটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন জাকিরের ঘনিষ্ঠ একজন নেতা। 

২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই সাইফুর রহমানকে সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।  গণতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ দুই বছর।  আর ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এই কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার কথা ছিল। 

৬ জানুয়ারি রাজধানীতে ছাত্রলীগের একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে মার্চে জাতীয় সম্মেলন করার নির্দেশ দেন।  এটি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ইচ্ছা-সেটিও জানিয়ে দেন তিনি। 

কিন্তু সে সময়ই ছাত্রলীগের একাধিক নেতা সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নজিরবিহীন ভাবে ওবায়দুল কাদেরকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। 

ওবায়দুল কাদেরর এই নির্দেশের পর বিষয়টি নিয়ে জানতে দুই দিন পর গণভবনে যান ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।  সেদিন শেখ হাসিনা এই দুই নেতাকে ৩১ মার্চের মধ্যে সম্মেলন করার নির্দেশ দেন বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। 

এই হিসাবে ছাত্রলীগের হাতে সময় বেশি নেই।  এই সময়ে সম্মেলনের জন্য নানা প্রস্তুতে চোখে পড়ার কথা ছিল।  কিন্তু তার কিছুই হয়নি। 

প্রতিবারই সম্মেলনের অন্তত এক মাস বাকি থাকতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সম্মেলন পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।  কিন্তু এর কিছুই করা হয়নি এখনও।  আবার সম্মেলনের তারিখ ও স্থানও নির্ধারণ করা হয়নি।  এসব কারণে সম্মেলন হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কা কাটছেনা মাঠ পযায়ে থাকা নেতাকর্মী ও পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে। 

তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘সম্মেলন যথাসময়েই হবে, আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

সম্মেলন পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলন কবে হবে-এমন প্রশ্নে সোহাগ বলেন, ‘আমি দুপুরের ভাত কখন খাব সেটাও কি আপনাকে বলতে হবে?’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদপ্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেন, ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মেলন চাইছেন না।  তারা চান সম্মেলন হোক সংসদ নির্বাচনের পর। 

আবার জাতীয় সম্মেলনের আগে সংগঠনের সারাদেশের মেয়াদউত্তীর্ণ শাখার সম্মেলন করা হয়।  কিন্তু ১১০টি ইউনিটের মধ্যে এখন পর্যন্ত সম্মেলন করা হয়েছে ৬৪ টির। 

যেসব কমিটির সম্মেলন এখনও হয়নি তার মধ্যে আছে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তীতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, চট্টগ্রাম মহানগর, বগুড়া, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, নাটোর প্রভৃতি। 

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক বছর, কোনোটি তিন বছর, কোনোটি আড়াই বছর, কোনোটি তিন বছর পার করেছে। 

তবে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের কিছু নীতিবাচক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ ও দলের (আওয়ামী লীগ) নেতৃবৃন্দ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন।  আর ছাত্রলীগের এই দৃশ্যমান নীতিবাচক বিষয়গুলো নিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ কোন কথা বলতে না পারে, তাই এই সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

‘যাতে দল (আওয়ামী লীগ) তার ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের (ছাত্রলীগ) জন্য নতুন দুই দায়িত্ববান ও যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজে বের করতে পারেন, যারা সত্যিকার অর্থেই দলকে গতিশীল করবে। ’

এই জন্যই দুই মাস আগেই সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানান দেলোয়ার হোসেন।  তিনি বলেন, ‘সম্মেলন পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী হবে,এতে কোন সন্দেহ নেই। ’

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকার বিষয়ে আওয়ামী লীগের অন্য একজন কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘এটা তো স্বাভাবিক বিষয় যে, সহজে কেউ ক্ষমতা ছাড়তে চায় না ।  তবে এখন থেকে পুরোপুরি এক মাস সময় আছে আর ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য ১০ দিনের বেশি সময় লাগবে না। ’

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘৭ মার্চের জনসভা শেষে ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে আমরা সবাই একসাথে এগুব। ’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সম্মেলনে অনীহার কথা স্বীকার করেছেন।  তিনি বলেন, ‘সংগঠনের অভ্যন্তরে এ নিয়ে আবেদন-নিবেদন তো রয়েছেই যে এই নেতৃত্বকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বহাল রাখার জন্য।  নতুন নেতৃত্ব আগামী নির্বাচনকে সঠিকভাবে মোবাকেলা কীভাবে করবে, এ নিয়ে তো প্রশ্ন রয়েছেই। ’