৭:০৩ এএম, ৮ জুলাই ২০২০, বুধবার | | ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪১




সমালোচকের-"সমালোচনার" অন্ত নেই

২২ মার্চ ২০২০, ১০:৩৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: সমালোচনাকারী সমালোচনা করতে পারেন তবে সীমালঙ্ঘন করতে পারেন না।  আর সীমালঙ্ঘন  করতে গিয়ে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। 

হোক সেটা গ্রামাঞ্চলে, হোক সেটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে।  অতিরিক্ত কোনো কিছুই কারো মঙ্গল বয়ে আনেনা বরং ক্ষতিই হয় বেশি। 

গ্রামাঞ্চলে  কথায় আছে "চাদরের বাহিরে পা টানলে মশায় কামড়াবে" সুতরাং এই কথাটি এটাই শিক্ষা দিচ্ছে সীমানা অতিক্রম না করা। 

আর আমরা করে যাচ্ছি সেটাই যেটা আমাদের কাম্য নয়।  যেদিকে যাবেন সেদিকে সমালোচনার ঝড় তুলছে।  দেখা যায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তির তুমুল সমালোচনা চলছে আপনি উপস্থিত হবেন সমালোচনা বন্ধ, যেমাত্র আপনি ত্যাগ করবেন তখন আপনাকে সহ "সমালোচক"-সমালোচনায় রস দিয়ে রসিকতার ছলে আপনাকেও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবেন।  সবচেয়ে বড় ধরনের সমালোচনার কেন্দ্রস্থল হলো " চায়ের দোকান"। 

নিজের পকেটের টাকা খরচ করে চায়ের বিল দিয়ে কোথায় কি হয়েছে, না হয়েছে, কে কেমন চলছে, সে কি করে বেড়ায়, ঐ ছেলে বড্ড বেয়াদব, অমুকের সাথে তমুকের এই সেই,  নানান তাল-বেতালের কথা চলে আর সে কথায় সাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের বিলও দে-আর মজা নে।  এই রেওয়াজটি নিত্যকার ঘটনা বললেই চলে।  সেখানকার সমালোচনার বিষয় স্থান পাই যে বিষয়গুলি রাজনীতি-সমাজনীতি-দূর্নীতি-অপসংস্কৃতি-প্রেম-প্রীতি-সামাজিক বিচার-ব্যবস্থা-মেজবান নিয়ে ইত্যাদি। 

যাদের নিয়ে সমালোচনা হয় তাদের অনুপস্থিতিতে নাজুকভাবে তুলে ধরে।  আর সাথে সাথে আশপাশের লোকজনও সাপোর্ট দেয় তখন ব্যাপারটা এমন এক পরিস্থিতিতে রুপ-নে-যা- ঝগড়ার পর্যায়ে চলে যায়।  অথচ যাকে নিয়ে সমালোচনা সে যখন পাশ কেটে যায় তখন কিন্তু সমালোচকের মুখ দিয়ে কথা বের হয়না।  কি যে মজা পায় বুঝতে পারিনা। 

দেশের হালচাল নিয়েও তুমুল সমালোচনা চলছে অবিরত কিন্তু কে শুনে কার কথা।  দেশ প্রধান থেকে শুরু করে কর্মী পর্যন্ত কেউ বাদ পড়ে না, এই সময় দলীয় লোকের সংখ্যা বেশি থাকলে আর বিপক্ষে কথা বলার লোকের সংখ্যা কম হয় তাহলেতো কথাই নেই।  কিছুক্ষণ কথা বলার পর দেখা যাবে সেখানে হাতাহাতি, ঝগড়াঝাটি বাহিরে দেখা যাবে দলবল নিয়ে দিচ্ছে হানা তখন কে শুনে ভাই কার মানা? এই ব্যাপারগুলো সবারই জানা। 

উন্নয়ন নিয়ে কথার শেষ নেই, অথচ দেশের সবজায়গায় উন্নয়ন হচ্ছে এখানে কেন হচ্ছে না? কিসের অভাব? নেতা বলেন,এমপি বলেন, যোগ্যতা বলেন সবি পরিপূর্ণ তারপরও এই অবস্থা কেন? কেউ বলে এই এলাকার মা-বাপ নেই।  কেউ বলে দলাদলির কারণে হচ্ছে না, কেউ দোষারোপ করে সে এলাকার চেয়ারম্যানকে কোনো কথা বাদ যায়না সমালোচকের সমালোচনায়।  অথচ যাকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সে নিজেও জানেনা তাঁকে নিয়ে সমালোচনা।  কথায় আছে "যাঁর বিয়ে তার কোনো খবর নেই পারা পড়শির ঘুম নেই"। 

বিশেষ করে সমালোচনা চলে "মেজবান"খেয়ে এসে।  এটা কিন্তু মারাত্মক, কারণ যে আয়োজন করেছে তাঁর উদ্দেশ্য একবেলা হলেও এলাকার লোকদের ভালো-মন্দ খাবার খাওয়ানো যখন শুনে তাঁর এই আয়োজন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তখন আয়োজকের কেমন লাগে? খাবার এমন হয়েছে, মাংসের মধ্যে লবণ হয়েছে তেমন হয়েছে যা মেনে  নেওয়ার মতোনা দেখা যায় পরবর্তীতে শত ইচ্ছা থাকলেও আর আয়োজন করার সাহস করে না ফলে বঞ্চিত হয় গরীব লোকেরা। 

এইভাবে চলে আড্ডা আর নানাবিধ সমালোচনা যা সমালোচক তৃপ্তি পায়, কখনো ভাবেনা এতে নিজের কতো দায়। পরনিন্দা পরিহার করি, নিজেদেরকে সংশোধন করি, আত্মসমালোচনা করেই নিজেকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করি। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করি। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।