৮:৩৩ এএম, ১ জুন ২০২০, সোমবার | | ৯ শাওয়াল ১৪৪১




সময়ের বাস্তবতা বাড়িয়েছে, সচেতনতা ও সহনশীলতা

৩০ মার্চ ২০২০, ০৮:৩৫ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: বর্তমান সময় যে বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করে নিয়েছে অতীতে তা কখনো নিতে হয়নি। 

অতীতে যদি নিয়েছে বলে কেউ দাবি তুলে তবে সেটা কোনো যুদ্ধ ক্ষেত্রে ছাড়া অন্য কোন কারণে নয়।  স্বাধীনতা পরবর্তী যারা যুদ্ধ দেখেনি সেসময়ে ভয়াল দিনগুলো ছিলো শত্রুর ভয়, কখন অতর্কিত হামলা চালিয়ে বসে। 

এখন যে সময়টি যাচ্ছে তা আরো ভয়ানক কারণ তখনকার সময়ের শত্রুদের বিচরণ-আনা-গুনা,ঘাঁটি এসব পর্যবেক্ষণ করতে হতো তারপর ঘর থেকে বাহির হওয়ার চিন্তা করতো,কিন্তু এখন সবি উম্মুক্ত চাইলে যাওয়া যাবে তবে জীবনের রিস্ক আপনার কেউ আপনাকে গুলি করবেনা,শত্রুদের আক্রমণে পরিবারও ধ্বংস হবেনা,হলেও তা আপনার কারণে হবে। 

সৃষ্টিকর্তার কি আজব লীলাখেলা! মসজিদে মুয়াজ্জিন আযান দিলে নামাজিরা মসজিদে ছুটে আর যারা নিয়মিত পড়েনা তাদেরও হেদায়েত হয়েছে এখন মসজিদে মুসল্লীদের ভীড়।  কেউ কাউকে বলতে হয়না চলো মসজিদে যায়,,,, নিজ থেকেই ছুটে চলে মুসল্লী মসজিদ পানে। 

একবার বলি-"আলহামদুলিল্লাহ"।  দেশের হাজার হাজার পরিবার আছে সচেতন কিন্তু বড়ই অদ্ভুত!একি সাথে একযোগে সমগ্র দেশের সকল পরিবারে এসেছে সচেতনতার ছাপ। 

যে পরিবারের সন্তান-সন্তুতি বেশি সে পরিবারে সন্তানের যত্ন নেওয়া-নিজেরপ্রতি-অন্যান্য সদস্যদের প্রতি যত্ন নেওয়া তা তেমন একটা হয়ে উঠেনা ব্যস্ততার কারণে।  এখন আমাদেরকে আরো বহুগুণে সচেতন হতে শিখিয়েছে, এখন আমরা মিনিটে মিনিটে হাত-মুখ দৌত করছি, জীবাণুমুক্ত হওয়ার জন্য হ্যান্ডারসল-সেভলন-ডেটল-স্যানিটাইজার ব্যবহার করছি। 

দরজা-জানালার হ্যান্ডেল যেসব জায়গায় স্পর্শ হয় বেশি সেসব জায়গায় জীবাণু ধ্বংসের মেডিসিন নিয়মিত স্প্রে করে যাচ্ছি।  সন্তানদের স্পর্শ করার আগেই নিজেদের স্ব চিন্তায় সাবান দিয়ে হাত-মুখ দৌত করে নিচ্ছি।  কেউ বাদ যাচ্ছেনা সবাই সচেতন হয়ে এগুচ্ছি দেখতে বেশ ভালোই লাগছে আর ভালো লাগারই কথা। 

নিজ নিজ দায়িত্ববোধ থেকে একে অপরকে সচেতন হওয়ার জন্য পরামর্শ এমনকি জায়গায় জায়গায় বেসিন বসিয়ে দিয়েছে যেন এই থেকে আমরা আরো সচেতন হই। 

বিশ্বব্যাপী মহামারী এই ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যন্ত "রেডএলার্ট"-জারি করেছে।  বহির্বিশ্বের এমনকি নিজ দেশের লোক যারা প্রবাসী তারাও প্রবেশ করতে হিমশিম খাচ্ছে।  সমস্ত শরীর চেক-আপ করে নিতে হয়,আর যদি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় তখন প্রবাসীর পরিবার ও জনগণের স্বার্থে ১৪দিনের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে,তাঁরাও আজ অধিক সচেতন হয়েছে যা খুবই প্রয়োজন ছিলো। 

যার যার অবস্থান থেকে আর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, বৃত্তবানরাও আজ যেসমস্ত লোক দিনে এনে দিনে খাই, যাদের দৈনিক উপার্জনের উপর নির্ভর করে সংসার চলে তাদেরকেও সাহায্যেের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে যা সত্যিই প্রশংসনীয় যদিও বা মানবিক  দায়িত্বে পড়ে। 

মহামারী থেকে বাঁচতে সরকারের যে দিক নির্দেশনা তা যথানিয়মে মানতে গিয়ে আর নিজেদেরকেও বাঁচতে বহু ত্যাগ দিচ্ছে।  কেননা আজকের ১৪ দিনের কষ্ট গুলো হয়তো আগামী ১৪বছরের সুদীর্ঘ পথচলায় বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে।  কোনো আত্নীয়দের বিপদ জেনেও তাদেরকে সাহায্য করতে না পারায় হতাশ হওয়ার কিছু নেই। 

শতো কষ্টের ত্যাগ একদিন বছরের পর বছর দেখার সুযোগ হবে।  প্রথম দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহলে  সাধারণ জনগণকে ঘরে থাকতে বাধ্য করা হলেও এখন নিজ থেকেই যাবতীয় কাজ সেরে নিচ্ছে এটাই প্রত্যাশা ছিলো জাতির কাছে।  সবাই আজ গৃহে কর্মহীন জীবন কাটালেও শিশু সন্তানদের বাসায় বন্ধি আর যে সহে না।  সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে বন্ধি কারাগার থেকে বাহিরে মনের আনন্দে ঘুরে বড়াবে।  আমরাতো সহনশীল জাতি তা আমাদের মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়না। 

ইনশাআল্লাহ আল্লাহ পাক সহায় হবেন এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য।  আমারা কোন দেশে কতো আক্রান্ত আর কতো নিহত তার হিসাব দেখবো না,আমরা আমাদের সচেতনতা অব্যাহত রেখেই রোগের থেকে বাঁচতে যাবতীয় নিয়ম মেনে চলাই  হোক মূল লক্ষ। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।