৬:০২ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




সিরাজগঞ্জে ইটভাটা নির্মাণের ফলে মুখ থুবড়ে পড়ছে সেচ প্রকল্প

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১:০৪ এএম | জাহিদ


এম.এ.মালেক, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মানিকদিয়া মৌজার বোয়ালিয়া-সলঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কোলঘেষে রানীনগর গ্রামে সেচ প্রকল্পের এরিয়ার মধ্যে ফসলী জমি নষ্ট করে ইটভাটা নির্মাণ করছে একটি প্রভাবশালী মহল। 

ইটভাটাটি নির্মিত হলে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় ও বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি ধ্বংসের আশংকা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।  ইতিমধ্যেই ভাটায় যাতায়াতের জন্য সংযোগ সড়কসহ শ্রমিক কর্মচারীদের থাকার আবাসন ও অফিস নির্মাণের কাজ চলছে। 

এদিকে ওই ইটভাটা নির্মাণ বন্ধের দাবীতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর সেচ প্রকল্প পরিচালনা কমিটিসহ স্থানীয় কৃষকরা একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। 

এতে বিনা বাঁধাতেই ইটভাটা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ওই প্রভাবশালীরা।  ওই এলাকার বিএডিসির সেচ প্রকল্প পরিচালনা কমিটির লিখিত অভিযোগে জানা যায়, নির্মিত ভাটা এলাকার প্রায় শতাধিক কৃষক এই সেচ প্রকল্পের পানি দিয়ে বছরে দুইবার ধান চাষসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে থাকে।  কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী নিয়াজ মোর্শেদগং এসব জমির উপর ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। 

কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হলেও ওই মহলটি অবৈধভাবে ভাটা নির্মাণ করছে।  এতে ওই এলাকার কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। 

এছাড়াও নির্মিত ইটভাটার আশপাশে অনেক আবাসিক বাড়িঘর রয়েছে এবং নির্মিত হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস।  এসব কিছু থাকার পরও সেখানে ইটভাটা নির্মাণ করলে পরিবেশ বিপর্যয়েরও আশংকা করছেন এলাকাবাসী। 

বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ওই এলাকায় গিয়ে সেচ প্রকল্পের সুবিধাভোগী কৃষকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।  এসময় ওই কৃষকেরা জানান, এখানকার জমি কোনটি তিন ফসলী আবার কোনটি দুই ফসলী।  বিপুল পরিমাণ ইরি, ধানসহ সরিষা আবাদ হয় এসব জমিতে।  এই এলাকায় ইটভাটা করার ফলে প্রায় ৩০ বিঘা জমি ভাটার স্থাপনা তৈরি করতে নষ্ট হবে।  এছাড়াও আশপাশের সকল জমিতেই ভাটার প্রভাবে ফসল ফলানো দুস্কর হয়ে পড়বে বলে তারা ভাটা নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানান। 

অত্র এলাকার সেচ প্রকল্প পরিচালনা কমিটির ম্যানেজার আলতাফ হোসেন জানান, এ প্রকল্পের আওতায় আগে ২৪০ বিঘা ফসলী জমি ছিল।  বেশ কয়েক বছর আগে দুটি ইটভাটা হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে ১শ ৫০ বিঘা জমি কমে এখন দাড়িয়েছে ৯০ বিঘাতে।  আবারও ইটভাটা হলে প্রায় ৩০ বিঘা জমি আরও কমে যাবে।  এতে করে এই এলাকার কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।  পাশাপাশি কৃষিপণ্য উৎপাদন হ্রাস পাবে। 

বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হলেও কোন প্রকার কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।  তিনি বলেন, গত ৩০ জুলাই করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী একটি চিঠি দেন।  ওই চিঠিতে ৫ আগষ্ট তদন্তের দিন ধার্য্য করা হলেও অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি তদন্ত করা হয়নি।  এর ফলে নিয়াজ মোর্শেদগংরা বিনা বাঁধায় ইটভাটা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী এসএনএন২৪ কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল।  এর আগে তদন্তের জন্য তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল কিন্তু ওই সময় অফিসিয়াল ব্যস্ততা থাকায় তদন্ত করা সম্ভব হয়নি।  তবে চলতি মাসেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 



keya