৮:৫৮ এএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ সফর ১৪৪০


সিরাজদিখানে গর্ভধারিনী মাকে মেরে অজ্ঞান করল ছেলে

১৯ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:১২ পিএম | সাদি


আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামে মৃত রব মিয়ার ছেলে কর্তৃক তার গর্ভধারিনী মা মমতা বেগমকে বেদরক মারধর করে অজ্ঞান করার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে।   ১৮ই জানুয়ারী সন্ধ্যায় ওই এলাকার একাধীক ফেইছবুক ব্যাবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত ফেইছবুকে নিজের “গর্ভধারিনী মাকে মেরে অজ্ঞান করলেন” শিরোনামে একটি পোষ্ট দেন। 

সেই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইছবুকে ভাইরাল হয়ে পরে।  ওই পোষ্টে সিরাজদিখান পেসক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সভ্যতার আলোর সিরাজদিখান প্রতিনিধি এবং আমাদের সময়.কমের সিরাজদিখান প্রতিনিধি দাবিদার ভূয়া সাংবাদিক সালাউদ্দিন সালমান তার গর্ভধারিনী মাকে বেদরক মেরে রাস্তায় ফেলে রাখে।  অজ্ঞান হয়ে পরে আছে এই বিধবা মহিলা।  সিরাজদিখান প্রশাসন এবং এলাকার মাতাব্বর রা তা দেখেও দেখেনা তাহলেকি আমরা মনে করবো তার দাপটের ভয়ে আজ সবাই চুপ।  এই ভুয়া সাংবাদিকের নিকট কি প্রশাসন এবং এলাকাবাসী জিম্মি?? তার বিচার করার কেউকি নেই? বলে লেখা হয়। 

পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত রব মিয়ার স্ত্রী মমতা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বিগত ৫ বছর যাবৎ আমি আমার ছেলের কাছে নির্যাতিত হয়ে আসছি।  আমার ভাত কাপরের কথা বললেই ছেলের হাতে আমাকে মার খেতে হয়।  শনিবার দুপুরের খাবার না পেয়ে আমার ছেলে বৌ এর কাছে খাবার চাইলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।  পরে আমার ছেলে সন্ধ্যায় শনিবার আমাকে লাথি, কিল, ঘুষি মারলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।  পরে আশেপাশের লোকজন আমাকে মাথায় পানি দিলে আমার জ্ঞান ফিরে আসে।  এই নির্যাতনের হাত থেকে আমি রেহাই চাই।  আমার ছেলে নাকি সাংবাদিক হইছে।  তাই আমার নির্যাতনের বিচার করতে কেউ আসেনা।  আমি এদেশের মানুষের কাছে এবং পুলিশের কাছে বিচার চাই। 

চান্দেরচর গ্রামের একাধীক লোক জানান, সালমান নামে এই ছেলে আসলেই একটা কুলাঙ্গার।  যে নিজের মাকে লাঠি মারতে পারে সে আবার সাংবাদিক বলে পরিচয় দেয় কি করে।  প্রকৃত কোন পত্রিকার সাংবাদিক তাও আমরা জানিনা।  তার মত কুলাঙ্গারের বিচার যদি প্রশাসন করে তাহলে এলাকাবাসীর পক্ষথেকে যত প্রকার সহযোগীতা লাগে সেটা প্রশাসন পাবে। 

এব্যাপারে সালমানকে তার বাড়ীতে গিয়েও পাওয়া যায়নি।  মুঠোফোনে একাধিক বার তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম বাবুল জানান, বিষয়টি আমরা জানিনা।  যদি ঐ ছেলে তার মাকে মারধর করে থাকে তাহলে প্রশাসনের সহায়তায় ছেলেক আইনের আওতায় আনা হবে।