২:২৯ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০


সিরিজে অসামান্য জয়ে সমতা আনল বাংলাদেশ

০৫ আগস্ট ২০১৮, ১০:০৯ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : রোমাঞ্চকর জয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে সিরিজে ১-১ সমতা আনল বাংলাদেশ।  রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২ রানে হারাল টাইগাররা।  যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অভিষেক ম্যাচটি জয়ের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখল বাংলাদেশ। 

১ আগস্ট সেইন্ট কিটসে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেয়েছিল সাত উইকেটে।  ফ্লোরিডায় আগামীকাল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।  সোমবার ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায়। 

এদিন লডারহিলের সেন্ট্রাল ব্রোয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়াম টার্ফ গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে বাংলাদেশের দেয়া ১৭২ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।  দলের পক্ষে আন্দ্রে ফ্লেচার ৪৩ ও রভম্যান পাওয়েল ৪৩ রান করেন। 

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি, রুবেল হোসেন ১টি, সাকিব আল হাসান ২টি ও নাজমুল ইসলাম অপু ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। 

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান।  তখন তাদের হাতে ছিল তিন উইকেট।  ব্যাটিংয়ে ছিলেন অ্যাশলে নার্স ও কিমো পল।  বোলিংয়ে ছিলেন নাজমুল ইসলাম অপু।  ওভারের প্রথম বলটি ডট হয়।  দ্বিতীয় বলে এক রান নেন কিমো পল।  তৃতীয় বলে আরিফুল হকের হাতে ক্যাচ হন অ্যাশলে নার্স।  চতুর্থ বলটি ডট হয়।  পঞ্চম বলে বোল্ড হন কিমো পল।  শেষ বলে এক রান নেন স্যামুয়েল বাদরি। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের শুরুতেই জোড়া আঘাত হানেন মোস্তাফিজুর রহমান।  ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে এভিন লুইসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি।  রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি লুইস।  তিন বল খেলে এক রান করেন এভিন লুইস। 

এরপর ইনিংসের চতুর্থ ওভারে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ বানিয়ে আন্দ্রে রাসেলকে ফেরান তিনি।  ১০ বল খেলে ১৭ রান করেন আন্দ্রে রাসেল। 

তারপর মারলন স্যামুয়েলসকে ফিরিয়ে দেন টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।  ইনিংসের পঞ্চম ওভারে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ হন স্যামুয়েলস।  তিন বল খেলে ১০ রান করেন তিনি।  ইনিংসের অষ্টম ওভারে রুবেল হোসেনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন দিনেশ রামদিন।  আম্পায়ার অবশ্য প্রথমে আউট দেননি।  কিন্তু রিভিউ নিয়ে সফল হয় বাংলাদেশ।  ১১ বলে পাঁচ রান করেন রামদিন। 

দিনেশ রামদিন ফেরার পর ৫৮ রানের পার্টনারশিপ গড়েন আন্দ্রে ফ্লেচার ও রভম্যান পাওয়েল।  ইনিংসের ১৫তম ওভারে আন্দ্রে ফ্লেচারকে ফিরিয়ে দেন নাজমুল ইসলাম অপু।  সাকিব আল হাসানের হাতে ধরা পড়েন ফ্লেচার।  ৩৮ বলে ৪৩ রান করেন তিনি।  ১৭তম ওভারে সাকিব আল হাসানের বলে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন ক্যারিবীয় অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। 

১৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন রভম্যান পাওয়েল।  ৩৪ বলে ৪৩ রান করেন তিনি।  ইনিংসের শেষ ওভারে অ্যাশলে নার্স ও কিমো পলকে সাজঘরে ফেরান নাজমুল ইসলাম অপু। 

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে উইকেট ১৭১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।  ঝড়ো ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।  দুজনই হাফ সেঞ্চুরি করেন।  চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুজন ৯০ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। 

৪৪ বল খেলে তামিম ইকবাল করেন ৭৪ রান।  এই রান করার পথে তিনি ছয়টি চার মারেন ও চারটি ছক্কা হাঁকান।  টি-টোয়েন্টিতে এটি তার ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি।  ৩৮ বলে ৬০ রান করেন সাকিব আল হাসান।  টি-টোয়েন্টিতে টাইগার অধিনায়কের এটি সপ্তম হাফ সেঞ্চুরি।  ওযেস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে অ্যাশলে নার্স ২টি, আন্দ্রে রাসেল ১টি ও কিমো পল ২টি করে উইকেট শিকার করেছেন। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল : ১২ রানে জয়ী বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশ ইনিংস : ১৭১/৫ (২০ ওভার)

(লিটন দাস ১, তামিম ইকবাল ৭৪, মুশফিকুর রহিম ৪, সৌম্য সরকার ১৪, সাকিব আল হাসান ৬০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৩*, আরিফুল হক ১*; স্যামুয়েল বাদরি ০/১৪, অ্যাশলে নার্স ২/২৫, আন্দ্রে রাসেল ১/৩৩, কিমো পল ২/৩৯, কেজরিক উইলিামস ০/২৯, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ০/২৯)। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস : ১৫৯/৯ (২০ ওভার)

(আন্দ্রে ফ্লেচার ৪৩, এভিন লুইস ১, আন্দ্রে রাসেল ১৭, মারলন স্যামুয়েলস ১০, দিনেশ রামদিন ৫, রভম্যান পাওয়েল ৪৩, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ১১, অ্যাশলে নার্স ১৬, কিমো পল ২, কেজরিক উইলিয়ামস ০*, স্যামুয়েল বাদরি ১*; আবু হায়দার রনি ০/২৬, মোস্তাফিজুর রহমান ৩/৫০, রুবেল হোসেন ১/৩৫, সাকিব আল হাসান ২/১৯, নাজমুল ইসলাম অপু ৩/২৮)। 

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ : তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ)।