১১:০৪ এএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

‘সারিয়াকান্দি থানাকে একটি মডেল থানা হিসেবে গড়তে চাই’

০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:১৬ পিএম | সাদি


এম তাজুল ইসলাম, সারিয়কান্দি (বগুড়া): “মানুষ মরে গেলেও বেঁচে থাকে কৃতকর্মের মাঝে” এমনই কাজ করে প্রসংশিতার কাতারে নাম লিখিয়েছেন সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সিরাজুল ইসলাম।  তিনি এ থানাকে একটি মডেল থানা হিসেবে রুপ দিতে চান।  শুধু এখানেই নয়, এর পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও তিনি একই কাজ করেছেন। 

জয়পুরহাটের কালাই থানাতে কর্মরত অবস্থায় তিনি ফুল বাগান থেকে শুরু করে থানার সৌন্দর্যবর্ধনে আরও আনুসাঙ্গিক কাজ করেছেন।  যার ফলে তিনি সেখানে অন্যতম সৌন্দর্যবর্ধন সৃষ্টিকারী একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছেন।  তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মাহমুদুল হাসান নামের এক পুলিশ সদস্য।  ওসি সিরাজুল চলতি বছরের মে মাসের ৭ তারিখে সারিয়াকান্দি থানায় ভারপ্রাপ্ত অফিসার হিসাবে যোগদান করেন।  যোগদানের পর তিনি থানার পরিবেশ সৌন্দর্য বর্ধণে আবেগাপ্লাবিত হন।  মনোরম পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, তার যোগদানের পূর্বের থানার পরিবেশ আর বর্তমানের পরিবেশ রাতদিন ব্যাবধান।  যেখানে দিনের বেলাই চোখ নেয়া ভিতিকর ছিল আর সেখানেই রাতের আধারে বৈদ্যুতিক আলোয় আলোকিত রয়েছে।  কেটে গেছে ভয়ভিতি।  সৃষ্টি হয়ে নতুন এক মনোরম পরিবেশের।  একাধিক স্থানে সাইনবোর্ডের গায়ে দেখা গেছে সারিয়াকান্দি থানা চত্বরটি সিসিটিভি (সিসি ক্যামেরা) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। 

দেখা যায় থানায় প্রবেশ গেইট, হাজত খানা, ডিউটি অফিসার রুম, গুদাম ঘর সহ একাধিক রুম সিসিটিভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, থানার পরিবেশ পূর্বের পরিবেশের চেয়ে অনেক উন্নত ও উপভোগ্য।  স্যার এ থানায় আসার পর থানার ভবনগুলোর চুনকাম করেন।  তিনি আমাদের জন্য ঘুমানোর একটি মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।  পূর্বে আমরা পাঁকা মেঝেতে শুতাম।  আর আজ সেই আমরা (পুলিশ ফোর্সের সদস্যরা) খাটের উপর ঘুমাচ্ছি।  এছাড়াও তিনি সমস্ত থানা চত্বরটি বৈদ্যুতিক ও সৌর বিদ্যুৎ প্যানেলের মাধ্যমে আলোকিত করেছেন।  এছাড়াও তিনি থানা কেন্দ্রীয় মসজিদে ১২’শ ওয়ার্ড সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে এয়ারকন্ডিশনার (এসি)’র ব্যাবস্থা করেছেন।  সেখানে সকল পুলিশ সদস্য ও দুরদুরন্ত থেকে আসা অতিথী ও স্থানীয়রা শান্তিতে সালাত আদায় করছেন। 

শুধু তাই নয় তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকে এলাকার অসহায়, নির্যাজিত, অত্যাচারিত, দুর্বলদের জন্য হয়েছে অভিভাবক আর সন্ত্রাস, মাদক ব্যাবসায়ী ও বিক্রেতা সহ সকল অপরাধীদের  জন্য হয়েছেন আতঙ্ক নাম।  যা পুলিশ প্রসাশনের গর্ব ও গৈরবের। 

থানার সৌন্দর্যবদ্ধনের বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’র সাথে কথা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তিনি থানায় যোগদানের পর থানার পরিবেশ ছিল অবর্ণনীয়।  এমন পরিবেশ দেখে তিনি সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ সৃষ্টিতে নিজেকে আবেগাপ্লাবুত হন। 

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি অফিসারের কক্ষে এলইডি টিভি লাগানো হয়েছে, যাতে তারা অবসর সময়ে বিশ্বের টুকিটাকি খবরাখবর জানতে পারেন এবং প্রসাশনিক জ্ঞানার্জণ করতে পারেন।  এছাড়াও আইনী ব্যাবস্থা নিতে আসা জনসাধারণ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসতে পারেন এজন্য আলাদা বসার যায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  অসম্পন্ন কাজকে সম্পূর্ণ করে সারিয়াকান্দি থানাকে একটি বগুড়া জেলার মধ্যে মডেল থানা হিসাবে রুপ দিবেন।  এজন্য তিনি সকলের কাছে প্রসাশনিক থেকে শুরু করে জনসাধারণের কাছে সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।